পথকুকুর নিয়ে বেশকিছু দিন ধরেই উত্তাল দিল্লি। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আক্রমণের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এ অবস্থায় দিল্লির পথকুকুর ইস্যুতে নতুন রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে প্রকাশ্যে কুকুরকে খাওয়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বন্ধ্যাকরণ, টিকাদান ও কৃমিনাশকে দেওয়ার পর কুকুরগুলোকে আবার একই এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে, তবে জলাতঙ্ক আক্রান্ত বা আক্রমণাত্মক আচরণকারী কুকুরদের আলাদা করে রাখা হবে। অর্থাৎ সেগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে।
আদালত আরও বলেছেন, পথ কুকুরদের রাস্তায় যত্রতত্র খাবার দিতে পারবে না এলাকাবাসী বা পথচারীরার। পথ কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করতে হবে। সেখানেই খাবার দিতে হবে পথচারীদের। এমসিডি বা দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে পথ কুকুরদের খাওয়ানোর জায়গা তৈরি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রাণীপ্রেমীদের জন্য কুকুর দত্তক নেওয়ার সুযোগ খোলা থাকছে। তবে একবার দত্তক নেওয়ার পর সেই কুকুরকে রাস্তায় ফেলে আসা যাবে না। যারা মামলায় অংশ নিতে চান, তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ শুক্রবার (২২ আগস্ট) এই সংশোধিত আদেশ দেন। আদালত আরও জানায়, এখন থেকে এ সংক্রান্ত সব মামলা হাইকোর্টের বদলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টেই শুনানি হবে, যাতে সারা দেশে একটি একক নীতি গড়ে তোলা যায়।
পথকুকুরদের আশ্রয়কেন্দ্রে চিরস্থায়ীভাবে রাখার নির্দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ভারতের প্রাণিপ্রেমীরা। প্রাণি অধিকার সংগঠন পেটা ইন্ডিয়া আদালতের নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। এদিকে, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধী এই রায়কে স্বাগত জানালেও তিনি চান, আদালত স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করুক যে কখন একটি কুকুরকে ‘আক্রমণাত্মক’ ঘোষণা করা যাবে।
গত ১১ আগস্ট বিচারপতি জেবি পার্ডিওয়ালা ও আর মহাদেবনের বেঞ্চ রাজধানী দিল্লির সব পথকুকুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ভারতজুড়ে ৩৭ লাখ কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ও ৫৪টি জলাতঙ্কে মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু অবকাঠামোর অভাব, অতিরিক্ত খরচ ও কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর নতুন বেঞ্চ পুরোনো নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে।


