যুক্তরাজ্যে ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তারা সর্বোচ্চসংখ্যক অভিযোগ পেয়েছে। সংস্থাটি এই বৃদ্ধির জন্য মূলত অনলাইন প্ল্যাটফরম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) দায়ী করেছে।
টেল মামার পরিচালক ইমান আত্তা বলেন, ‘ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণার এই বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০১২ সালে কাজ শুরুর পর থেকে আমরা এবারই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক অভিযোগ পেয়েছি।
২০২৪ সালে টেল মামা মোট ছয় হাজার ৩১৩টি ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণার ঘটনার প্রতিবেদন পেয়েছে, যার বেশির ভাগই অনলাইনে ঘটেছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৩৭টি অভিযোগ তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে। এর আগের বছর ২০২৩ সালে তারা চার হাজার ৪০৬টি অভিযোগ পেয়েছিল, যার মধ্যে তিন হাজার ৭৬৭টি নিশ্চিত হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে শারীরিক হামলার ঘটনা ৭৩ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে ২০২৩ সালে ৯৯টি হামলার অভিযোগ ছিল, তা বেড়ে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১৭১টিতে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা সংঘাত ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাউথপোর্টে তিন কিশোরীকে হত্যার ঘটনার পর ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সাউথপোর্ট হত্যাকাণ্ডের পর শুরুতে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ে যে হত্যাকাণ্ডের জন্য একজন মুসলিম অভিবাসী দায়ী। এই মিথ্যা দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়।
টেল মামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বৃহৎ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাগুলো অনলাইনে ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণার অভিযোগ বৃদ্ধির জন্য বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে উৎপন্ন ইসলামবিদ্বেষী ছবি তৈরি ও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ইমান আত্তা সরকারের প্রতি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জনগণকে ঘৃণা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ‘এক্স এখনো ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণা ছড়ানোর সবচেয়ে বিষাক্ত অনলাইন প্ল্যাটফরম হিসেবে রয়ে গেছে। এই প্ল্যাটফরমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক ভাষা ও নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।’
টেল মামা সরকারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ‘অনলাইন ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা বাড়ছে তা মোকাবেলা করতে হবে, যাতে এটি সবার মৌলিক অধিকারের নিরাপদ স্থান হিসেবে বজায় থাকে।’
সূত্র : এএফপি