হত্যার অভিযোগের পর এবার পুতিনের বিরুদ্ধে আলেক্সাই নাভালনির মরদেহ লুকানোর অভিযোগ উঠেছে। নাভালনির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিরা ইয়ারমিশ বলেছেন, আর্কটিক কারাগারে মৃত্যুর এক দিন পরও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেননি মা লিউডমিলা নাভালনায়া। আরো জানান, নাভালনির মাকে বলা হয়েছিল, ময়নাতদন্ত শেষ হলেই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
আলেক্সাই নাভালনিকে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচক হিসেবে দেখা হতো।
তবে নাভালনির দলের অভিযোগ, তাদের নেতাকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে।
তবে রুশ সরকার অবশ্য পশ্চিমের এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
এদিকে মৃত্যুর পর নাভালনির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাশিয়ার ৩০০ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি অধিকার গোষ্ঠী।
নাভালনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজ ইয়ারমিশ বলছেন, গত শুক্রবার কারাগারে হাঁটাহাঁটি করার সময় নাভালনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে মারা যান বলে জানানো হয়েছে। মরদেহের বিষয়ে খোঁজ নিতে শনিবার নাভালনির মা লিউডমিলা নাভালনায়া কারা কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
ইয়ারমিশ জানান, ওই কাগজে বলা হয়েছে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে নাভালনির মৃত্যুর হয়েছে।
নাভালনির আরেক সহযোগী ইভান ঝদানভ বলছেন, নাভালনি ‘হঠাৎ’ মারা গেছেন বলা হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট করা হয়নি।
নাভালনির দল জানিয়েছে, মা নাভালনায়াকে বলা হয়েছিল, তাঁর মৃতদেহ জেল কমপ্লেক্সের কাছে সালেখার্ড শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন মর্গটি বন্ধ।
কারা কর্তৃপক্ষ নাভালনির মাকে বলেছে, প্রাথমিক ময়নাতদন্ত পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। তা ছাড়া একটি দ্বিতীয় পরীক্ষাও করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
নাভালনির সহযোগীরা দাবি করে, মৃতদেহ ইচ্ছাকৃতভাবেই আটকে রাখা হয়েছে। মূলত মৃতের শরীরে থাকা ‘চিহ্নগুলো মুছে’ ফেলার জন্যই এটি করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
নাভালনির মৃতদেহকে ‘অবিলম্বে’ তাঁর পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।