প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদ ইউনূস সরকারের কোনো এজেন্ডা নয়, বরং এই সনদই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে।  জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে, যা কেবল একটি সরকারের নথি নয়; বরং শহীদদের আত্মত্যাগের ফসল। 

রোববার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই ২০২৪ সালে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ।  সাধারণ মানুষের হাতে যে কপি পৌঁছেছে, তা দেখতে কালো কালিতে লেখা হলেও বাস্তবে সনদের প্রতিটি অক্ষরই শহীদদের রক্তে লেখা।

 

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে কোথাও বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়নি।  এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচার।  ৩৯ পৃষ্ঠার এই সনদে এমন কোনো বিষয় নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

গত তিনটি নির্বাচনকে ‘নির্বাচন’ বলা জাতির সঙ্গে অপমানজনক উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, নিশিরাতের ও ডামি নির্বাচন সম্ভব হয়েছে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে।  এই বাস্তবতা থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে।  এগুলোই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের মূল আদর্শ।  তাই এই সনদকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা সত্যের বিকৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।