অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার সন্ধ্যায় তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বিকেল ৫টা নাগাদ তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রেসসচিব।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করে বলেন, ‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ, তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।’
প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব সময় তোমাদের অবদান স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি রূপান্তর মাত্র। আমি আশা করি, আগামীতে বৃহত্তর পরিমণ্ডলে তোমরা আরো বড় অবদান রাখবে।
নিজেদের কর্মের মাধ্যমে দেশের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানিয়ে দুই ছাত্রনেতার উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা তোমরা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসসচিব। তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।’
নির্বাচন নিয়ে করা সাংবাদিকের প্রশ্নের প্রেসসচিব বলেন, ‘আমরা বলে আসছি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
এর মধ্যে নাহিদ ইসলাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পান। আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব পান। পরে উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনে আসিফ মাহমুদকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে মাহফুজ আলম শুরুতে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হন। পরে উপদেষ্টাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনে আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির দায়িত্ব নেন নাহিদ ইসলাম। পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম।


