অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হত্যার সংখ্যা বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হলেও এর পেছনের মূল কারণ নতুন করে অপরাধ বৃদ্ধি নয় বরং দীর্ঘদিন দমনকৃত ও রেকর্ডবিহীন থাকা বহু হত্যা মামলা পুনঃনথিভুক্ত হওয়ায় এ চিত্র তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে দাঙ্গা, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন তথ্য দেখা গেছে বলে আজ মঙ্গলবার এক বার্তায় জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
প্রেস উইং জানায়, গত ১৩ মাসে অন্তত এক হাজার ১৩০টি হত্যার মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।
ডাকাতি : ২০২৪ সালের ১ হাজার ৪০৫ থেকে ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৪-এ।
আইন-শৃঙ্খলা ব্যাহতকরণ (দ্রুত বিচার) আইন : ২০২৪ সালের ১ হাজার ২২৬ থেকে ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৬৫১-এ।
দাঙ্গা : ২০২৪ সালের ১২৫ থেকে ২০২৫ সালে ৫৯-এ নেমেছে।
চুরি : ২০২৪ সালের ৮ হাজার ৬৫২ থেকে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬ হাজার ৩৫৪-এ দাঁড়িয়েছে।
প্রেস উইংয়ের পাঠানো পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপরাধের পরিসংখ্যানের এই পরিবর্তন একদিকে দীর্ঘদিন দমনকৃত মামলার উন্মোচনকে নির্দেশ করছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতির প্রতিফলনও ঘটাচ্ছে। পূর্বে রাজনৈতিক দমনপীড়ন ও ভয়ের পরিবেশ থাকায় অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে পারতেন না এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও নিরুৎসাহিত করা হতো। বর্তমানে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। নাগরিকরা ভয়ভীতিমুক্তভাবে মামলা করতে পারছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফলে একদিকে পুরনো অপরাধের রেকর্ড যোগ হওয়ায় হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের সংখ্যা বেশি মনে হলেও চুরি, ডাকাতি ও দাঙ্গার মতো অপরাধ কমে যাওয়া সমাজে নিরাপত্তাবোধ জোরদার করেছে। সামগ্রিকভাবে এ পরিবর্তন দেশে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছে।


