দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কখনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (১০ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দাতো আমিনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাংলাদেশের কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির পক্ষে লোক পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হবে কি না।
জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘দাতো আমিনকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি না। আর আমার মনে হয় না। এটা তো আমাদের একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। মালয়েশিয়া-বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়। সেটা কোনো প্রাইভেট ইনডিভিজুয়ালের ওপর নির্ভর করবে… আমি আপনার কথাটা নিতে পারলাম না।’
শফিকুল আলম বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। তারা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর শ্রমিক নিয়েছে। আশা করছি, মালয়েশিয়া আরও শ্রমিক নেবে। এবং আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে তারা আরও দক্ষ শ্রমিক নেয়। যারা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তারা যেন সেখানে কাজের সুযোগ পান—এ বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’
এসময় এক সাংবাদিক জানতে চান, মালয়েশিয়ার জেলে কতজন বাংলাদেশি আছেন এবং অনিবন্ধিত শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকবে কি না। উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে গভীর আলোচনা হবে এবং অনেক বিষয়েই কথা হবে। প্রধান উপদেষ্টা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা উভয়েই মালয়েশিয়ার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করবেন। আলোচনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, দাতো আমিন হলেন মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বিন আবদুল নূর, যিনি দাতো শ্রী আমিন নামে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী রুহুল আমিন স্বপনের সঙ্গে যুক্ত সিন্ডিকেটের প্রধান ব্যক্তি, যার কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট ও এর অধীন অভিবাসনবিষয়ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে জালিয়াতি হয়েছে। এর ফলে গমনেচ্ছু শ্রমিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং শ্রমবাজারে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। বহু প্রবাসী তাদের ভিটামাটি ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও শেষ পর্যন্ত সব হারিয়েছেন।


