চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সুযোগ হলে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছে মস্কো।

 

এএনআই জানায়, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি রাশিয়া। তবে এ ধরনের বৈঠকের প্রস্তুতি এখনো শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি। রবিবার রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেছেন, পুতিন ও ট্রাম্প দুজনই চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

এই সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের জন্য আলাদা বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করবে মস্কো। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে।

 
 

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উশাকভ বলেন, সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে সুযোগ তৈরি হলে পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নেতাই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

স্বাভাবিকভাবেই, আমরা আমাদের নেতার জন্য আলাদা বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করব। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও থাকবে। আর সুযোগ হলে আমাদের নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।’

 

তবে পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠক হলে সেখানে কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা বৈঠকের সময়ের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান উশাকভ। রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, এ ধরনের বৈঠকের ধারণা রয়েছে।

তবে বৈঠক আয়োজনের জন্য এখনো কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, ‘এই ধারণা রয়েছে। এটি ইতিমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে। তবে এটি প্রস্তুতি পর্যায়ে চলে গেছে- এমনটা বলা বাড়াবাড়ি হবে।’

   

তিনি বলেন, এমন বৈঠক হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে আলোচনার বিষয় ঠিক করা। একই সঙ্গে বৈঠক থেকে কী ধরনের ফলাফল আশা করা হচ্ছে, সেটিও আগে নির্ধারণ করতে হবে। রিয়াবকভের মতে, শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিতে পারে। তিনি রাশিয়া, ভারত ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের কাঠামোর উদাহরণ দেন। তবে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এখনো হয়নি বলেও জানান তিনি।

রিয়াবকভ বলেন, ‘অবশ্যই আমি কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিতে পারি না। তবে বাস্তব দিক থেকে আজ এ বিষয়ে আমি এর চেয়ে বেশি কিছু যোগ করতে পারছি না।’ এদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও কথা বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রবিবার তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক দুই দেশের যোগাযোগে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের প্রতিফলন। 
 

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেসকভ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের একটি পথ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে আস্থা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে সত্যিই আস্থার একটি পরিবেশ রয়েছে। অন্তত যোগাযোগের এই পথের ক্ষেত্রে তা রয়েছে এবং এই আস্থা বাড়ছে।’ পেসকভ আরো বলেন, সাধারণত কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যখন মনে করেন যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছানো দরকার, তখনই এ ধরনের দীর্ঘ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।
 

এদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও নতুন একটি প্রস্তাব এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় রুশ শহরগুলোতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত কিয়েভ। এমন পরিস্থিতিতে চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনকে ঘিরে পুতিন ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক এবং রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।