NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ব্যাংকগুলো ‘খালি হয়ে গেছে’: অর্থমন্ত্রী বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র থেকে বই কিনলেন জাইমা রহমান এমপির গাড়িতে হামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের ওয়াশিংটনে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা ট্রাম্পের সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজের সময় বন্দুকধারীর হানা, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় পূজা চেরীর বাবা কারাগারে মে দিবসে সমাবেশ করবে শ্রমিক দল, অতিথি তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টের জন্য গ্রেপ্তার, সরকারের কর্মকাণ্ডে এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও
Logo
logo

৮ মাসে কোরআন হিফজ করল ৭ বছরের শিশু


খবর   প্রকাশিত:  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৪, ০২:৫৫ এএম

>
৮ মাসে কোরআন হিফজ করল ৭ বছরের শিশু

সাত বছর বয়সী এক শিশু মাত্র ৮ মাসে পবিত্র কোরআন হিফজ করেছে। ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকার সন্তান সে। এ শহরের সর্বকনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে সবার প্রশংসা কুড়ায় এ শিশু।

মঙ্গলবার (২৪ মে) প্যালেস্টাইন ক্রনিকল সূত্রে এ খবর জানা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন তৈরি করা এ শিশুর নাম রাশাদ নিমর আবু রাস।

জানা গেছে, পবিত্র কোরআন হিফজের পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় রাশাদকে অভিবাদন জানায় সবাই। রাশের অনন্য কৃতিত্বে তার প্রশংসা করেন পরীক্ষাকরা। পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আলিঙ্গন করেন তাকে। ‘রাশাদ সবচেয়ে সুন্দর হাফেজ’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ধরে রাখেন রাশাদের বোন।  

রাশাদের বাবা নিমর বলেন, ‘রাশাদকে গাজা শহরের হিফজ মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। আমি মনে করি, আমার সন্তন যেন ছোট্ট বয়সেই কোরআনের হাফেজ হোন মহান আল্লাহ সেই ব্যবস্থা করে দেন। ছোটবেলা থেকেই আমি তার জন্য দোয়া করতাম- ‘হে আল্লাহ আপনি তাকে সুপথপ্রাপ্ত ও সৎপথের প্রদর্শক করুন। ’ তার মুখ দেখলেই আমি তার জন্য দোয়া করতাম। ভোরে ঘুম থেকে উঠে তার মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমো খেতাম। ’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে তার জন্য আমি দোয়া করেছি- ‘হে আল্লাহ আপনি তাকে সুপথপ্রাপ্ত ও সৎপথের প্রদর্শক করুন। রাশাদের হিফজ সম্পন্ন হওয়ার পর আমি উপলব্ধি করি যে মহান আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন। তাকে সুপথের দিশা দিয়েছে। কারণ পবিত্র কোরআন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সুপথপ্রাপ্তির মাধ্যম।’

রাশাদের হিফজের শিক্ষক জানান, ‘কোরআন হিফজের বিষয়টি তিনটি বিষয়ে নির্ভরশীল। শিক্ষক, পরিবার ও মাদরাস। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদরাসার চিন্তা ছিল, এখানের সব শিশু একদিন হাফেজ হবেন। তবে বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। বরং এর পেছনে অনেক চেষ্টা পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন। হিফজের সময়গুলো মানুষের জীবনে সেরা মুহূর্ত। কোরআনকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থা জীবনে নিত্য-নতুন দিগত্নের উন্মোচন করে দেয় যা অন্যান্য জ্ঞানচর্চায় হয় না।’ 

রাশাদের বাবা আরো বলেন, ‘মাদরাসায় ভর্তির পর রাশাদের হিফজের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এক সময় সে নিজেই ১০ দিনে দুই পারা পর্যন্ত হিফজ করতে থাকে। হিফজের পুরো আমরা সবাই তার প্রতি খুবই যত্নবান ছিলাম। রাশাদের শিক্ষক, তার মা ও আমি তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতাম। এক দীর্ঘ পরিশ্রমের পর আমরা এ সাফল্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি। ’

শুরু থেকেই বাবা-মা, প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের সবাই কোরআন হিফজ করতে রাশাদকে উৎসাহ দিতেন। উৎসাহ বাড়াতে তার জন্য নিয়মিত পুরস্কার থাকত। প্রতি পৃষ্ঠা মুখস্থ করার পুরস্কার হিসেবে সে অনেক খেলনাসামগ্রী পেয়েছে। অবশেষে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে সে এখন একটি বাইক পেয়েছে।   

উল্লেখ্য, রাশাদ নিমর আবু রাস গাজা শহরের আত-তাবেয়িন আশ-শরইয়্যাহ হিফজ মাদরাসার প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সেই ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষে মাদরাসাটির সবচেয়ে কম বয়সী হাফেজ। তার হিফজ সমাপন উপলক্ষে মাদরাসায় বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে গাজা উপত্যাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।