NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
ব্যাংকগুলো ‘খালি হয়ে গেছে’: অর্থমন্ত্রী বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্র থেকে বই কিনলেন জাইমা রহমান এমপির গাড়িতে হামলায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ ডেপুটি স্পিকারের ওয়াশিংটনে গুলির ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা ট্রাম্পের সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজের সময় বন্দুকধারীর হানা, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় পূজা চেরীর বাবা কারাগারে মে দিবসে সমাবেশ করবে শ্রমিক দল, অতিথি তারেক রহমান ফেসবুক পোস্টের জন্য গ্রেপ্তার, সরকারের কর্মকাণ্ডে এইচআরডব্লিউর উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও
Logo
logo

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কার-তারেক রহমান


খবর   প্রকাশিত:  ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:০২ এএম

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অর্থনৈতিক সংস্কার-তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্যারিয়ারে প্রথম প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন। তিনি এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন দেশ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ১৮ মাসের বিশৃঙ্খলা, একটি কঠোর বিরোধী পক্ষ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—এসবই তার সামনে বড় বাধা। 

তবে তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরানো। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জিডিপি, আকাশচুম্বী রপ্তানি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মাথাপিছু আয়ের উন্নতির কারণে দেশটিকে 'এশিয়ান টাইগারদের' সঙ্গে তুলনা করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধুঁকছে: মুদ্রাস্ফীতি চড়া, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে।

সৌভাগ্যবশত তারেক রহমান সমস্যাটি অনুধাবন করতে পেরেছেন বলে মনে হচ্ছে। দেশের ভেতরে সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতি মেরামতকেই তিনি তার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। অস্থিরতার পর বাংলাদেশকে পুনরায় নিজের পায়ে দাঁড় করানোর জন্য অর্থনীতি পুনর্গঠনের ওপর তার এই জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। 

তার নির্বাচনি প্রচারে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি দ্বিগুণ করা, লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির জন্য কল্যাণমূলক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। 

তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি কীভাবে পূরণ করবেন সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি—উদাহরণস্বরূপ, ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতি দ্বিগুণ করতে হলে বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা দেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধির হারের দ্বিগুণেরও বেশি। তবে তারেক রহমান যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তা হলো, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে: ঢাকা এখন 'আসিয়ান'-এর সদস্যপদ পেতে আগ্রহী। 

এই অবস্থান প্রতিবেশীদের সঙ্গে এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দেশটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আনবে। বাংলাদেশের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সম্পর্ক প্রয়োজন। 

 

 

তারেক রহমানকে নিশ্চিত করতে হবে যেন একই দৃষ্টিভঙ্গি তার অভ্যন্তরীণ নীতিকেও পরিচালিত করে। বিনিয়োগকারীরা—চাই তিনি বাংলাদেশি হোন বা আন্তর্জাতিক—বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সামাজিক উত্তেজনা পছন্দ করে না। 

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলনগুলো শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের দুশ্চিন্তা থেকেই। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে বিপুল জনমত থাকায়, তারেক রহমানের সামনে এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমন সব পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি সম্ভব যা বিনিয়োগকারীদের অনুপ্রাণিত করবে, যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে। দিনশেষে, এই সংস্কারগুলোই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।