ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,৪৯৬ জনে পৌঁছেছে—গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭,৭২৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১.২ লাখের বেশি লেবাননবাসী। খবর আলজাজিরার।

শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ।

 

74

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রতিদিন আপডেট দেয়। সেখানে বলা হয়, সরিয়ে নেওয়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩১ হাজারে পৌঁছেছে।

এদিকে  হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকের পর লেবানন ও ইসরায়েল তাদের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো তিন সপ্তাহের জন্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

খবর রয়টার্সের।
 
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে এই বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল। সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইতার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদকে আমন্ত্রণ জানান।

 

বৈঠক শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেন, বৈঠকটি খুব সফল হয়েছে। হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষা পেতে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।


ওভাল অফিসের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ট্রাম্পের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরায়েল ও লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের রাষ্ট্রপতি জোসেফ আউন সরাসরি বৈঠকে বসবেন।

 

লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদ এই উদ্যোগের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আপনার সমর্থনে আমরা লেবাননকে আবারো মহান করে তুলতে পারব।’ তবে লেবানন সরকার আলোচনার পরবর্তী ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই আলোচনায় অংশ নেয়নি।

তারা জানিয়েছে, দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তবে তারা শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফদলাল্লাহ।

গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঠ পর্যায়ে উত্তেজনা এখনো কমেনি। যেখানে সাংবাদিক আমাল খলিলসহ অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি বাফার জোন তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি লেবাননকে ইসরায়েল-বিরোধী কঠোর আইনগুলো শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনই এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তির একমাত্র পথ।