ফ্যাসিস্ট আমলে দখল হওয়া খাস জমি উদ্ধার এবং ভূমিসংক্রান্ত মামলাজট নিরসনে ভূমি ও আইন মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে প্রভাবশালীরা যেসব খাস জমি দখল করে নিয়েছে, তা উদ্ধারে সরকার কঠোর উদ্যোগ নিয়েছে। দখলকারী যত প্রভাবশালীই হোক-না কেন, সরকারের খাস জমি উদ্ধার করা হবেই।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলো থেকে দালাল উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান তিনি।
ভূমিসংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা ও মামলাজট কমিয়ে আনতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনি জটিলতার কারণে অনেক খাস জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া আটকে আছে। দুই মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
একই অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে স্থানীয় ভূমি অফিসগুলোকে এরই মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেশনের আওতায় আনা হয়েছে।
নাগরিক সেবা আরও সহজতর করতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল অ্যাপ, হটলাইন এবং বিশেষ নাগরিক সেবা কেন্দ্র।
তবে প্রযুক্তিগত সুবিধার সুফল পেতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল এই সেবাগুলো সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিমুক্ত থেকে জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাস জমি উদ্ধারের এই বিশেষ অভিযানে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে দ্রুতই সারা দেশে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।