NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন জ্বালানি নিরাপত্তার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হুমকিতে বিশ্ব : আইইএর প্রধান হরমুজে মাইন বসাতে দেখলেই গুলির নির্দেশ ট্রাম্পের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের চরিত্রের প্রয়োজনে পবিত্র কোরআন শিখেছিলেন ইয়ামি গৌতম দেশের স্বার্থে বিরোধীদলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় রাজি বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি স্থায়ী সমাধানে তৎপর পাকিস্তান যে ৩ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মার্কিন নৌবাহিনীর সচিবের হঠাৎ পদত্যাগ, তৎক্ষণাৎ কার্যকর লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রাফীর ‘প্রেশার কুকার’
Logo
logo

নেপালে অলির সরকার রক্ষায় সেনা নামেনি কেন


খবর   প্রকাশিত:  ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৯ পিএম

নেপালে অলির সরকার রক্ষায় সেনা নামেনি কেন

নেপালে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা যখন সিংহ দরবার, সংসদ ভবন, প্রেসিডেন্ট ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাল, তখন জনমনে একটি প্রশ্ন সামনে আসে—কেন নেপালি সেনাবাহিনী এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় এগিয়ে আসেনি? কেন তারা কে পি শর্মা অলির সরকারের পক্ষ নিয়ে প্রতিরোধ করেনি?

একজন উচ্চপদস্থ সেনা সূত্র নেপালি সংবাদমাধ্যম খবরহাবকে বলেছেন, পরিস্থিতি বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হচ্ছিল আসলে ততটা সহজ ছিল না। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর নিশ্চয়ই নিজেদের বিশ্লেষণ রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী সেনা মোতায়েন করতে চাইলে সেনা সদর দপ্তরকে বিবেচনা করতে হতো, তারা কি অবিশ্বাসী নেতাদের পাশে দাঁড়াবে, নাকি জনগণের পাশে?’

এই হিসাবই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনী যদি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের মোকাবেলা করত, তবে সংঘর্ষ আরো বাড়ত, নাগরিক হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হতো এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতো।

পরিবর্তে সেনাবাহিনী সংযম দেখায়।

 


 

এক সামরিক বিশ্লেষক বলেন, ‘ভবনগুলো আবার নির্মাণ করা যায়। কিন্তু মানুষের জীবন অমূল্য। সেনাবাহিনী সঠিক কাজ করেছে জনগণের ওপর গুলি না চালিয়ে।

 

তবে সহিংসতা যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের ওপর হামলায় রূপ নেয়, তখন সেনাবাহিনী মানবিক কারণে হস্তক্ষেপ করে এবং নেতাদের হেলিকপ্টারে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

তবু এই পদক্ষেপের সঙ্গে সবাই একমত নয়। নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএনের নেতারা যুক্তি দেন, সরকারি স্থাপনা রক্ষা না করা দুর্বলতার ইঙ্গিত এবং এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা।

 


 

অন্যদিকে সোমবার পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ নিয়ে সমালোচনা হয়, এমনকি সংঘর্ষের সময় সিভিল হাসপাতালে অভিযান চালানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে। এর বিপরীতে সেনাবাহিনীর সরকারের পক্ষে না দাঁড়ানো একটি বড় বাস্তবতাকে তুলে ধরে : জনরোষ চরমে পৌঁছলে সেনা বা পুলিশ—কেউই অলি প্রশাসনের সঙ্গে পুরোপুরি নিজেদের যুক্ত করতে রাজি হয়নি।

এখন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ হতে হবে সাংবিধানিক : প্রেসিডেন্টকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং রাজনৈতিক নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।