যুদ্ধ নিয়ে আরো আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর বিবিসির
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরান ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরাশক্তি (যুক্তরাষ্ট্র)-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটন ‘তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এ কারণেই তারা আরো আলোচনার অনুরোধ করেছে।
ইরান আলোচনা করবে কি না সেটি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি।’
এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আরো বলেন, এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে ইরানের ‘রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু ও মিত্র রয়েছে।’ এ সময় তিনি ক্রেমলিনকে সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এদিকে ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত শর্তকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলোচনা শেষ করে ইরানের প্রতিনিধিদল।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়।
তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ফারসি সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি আরো জানান, কোন কোন শর্তসাপেক্ষে আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।
এদিকে ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কথা বলেন আরাগচি।
তিনি বলেন, এই জলপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা একটি বৈশ্বিক ইস্যু।
এ প্রেক্ষাপটে ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরাগচি আরো উল্লেখ করেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়ে একটি চুক্তিও হয়েছে।


