khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম ইতিহাস

0 266

 

বাংলা অক্ষর নিউ ইর্য়কঃ

১৫ আগস্ট কী বেগম খালেদার জিয়ার জন্মদিন ? হঠাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট তাঁর জন্ম দিন পালন করা শুর” করেন । প্রত্যেক মানুষের একটি জন্মদিন থাকে। ঘটা করে অনেকে তা পালনও করে থাকেন। আর সেলিব্রেটির জন্মদিন হলে ত কথাই নেই। তা তারা নিজের পালন না করলেও ভক্ত, সমর্থক, অনুসারীরা তা পালন করে থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া নিঃসন্দেহে এদেশের অন্যতম একজন সেলিব্রেটি। ১৫ আগস্ট যদি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন হতো তাহলে কোন কথাই ছিল না। জাতীয় শোক দিবস হউক বা অন্য যাই হোক না কেন, একই দিনে কারো জন্ম হলে সে কী তার জন্ম দিন পালন করবে না ? অবশ্যই করবে।khaleda_Tony

কিন’ ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার প্রকৃত জন্ম দিন নয়। এটা তাঁর বানানো জন্ম দিন এবং এই জন্ম দিনের শুর” ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর। উদ্দেশ্য কেবলমাত্র ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের শোক প্রকাশকে তু”ছ, তা”িছল্য, কটাক্ষ ও খাটো করা। বেগম খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন যা তাঁর পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিয়ের কাবিন এবং ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সরকারী সূত্রে গণ মাধ্যমগুলির রেকর্ডে নথিভুক্ত আছে। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই বিএনপিতে রাজনৈতিক বিশৃংখলা দেখা দেয়। বিএনপির রাজনৈতিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বেগম জিয়া রাজনীতিতে আসেন। গৃহবধু থেকে রাজনৈতিক দলের নেত্রী হওয়ার পর বেগম জিয়ার সাফল্য সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তাঁরই পিতা ইসকান্দার মজুমদার। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী তৈয়বা খাতুন তাঁদের তৃতীয় মেয়ে খালেদা খানম পুতুলের জন্ম, শিক্ষা, বিয়ে, বংশ পরিচয় ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরেছিলেন ১৯৮৪ সালে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায়। উক্ত সাক্ষাৎকারের এক অংশে পিতা সাঈদ ইসকান্দার বলেছিলেন, আমার তৃতীয় মেয়ে হ”েছ খালেদা। খালেদার জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিনে, যে দিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে বিশ্বের বুকে শানি- এলো।

১৯৬১ সালে খালেদার সাথে জিয়াউর রহমানের বিয়ে হয়। তখন জিয়া ছিল ক্যাপ্টেন। ডি.জি.এফ আইয়ের অফিসার হিসিবে তার পোষ্টিং ছিল দিনাজপুর। বিয়ের কয়েক দিন আগে জিয়া আমাদের বাসায় এসে একদিন হঠাৎ করে বলে বসলো আপনারা আগামী শুক্রবারের মধ্যে যদি বিয়ে দেন তাহলে বিয়ে হবে, নইলে আর বিয়েই করব না। আমরা বললাম বেশ তাই হবে। বিয়ে হয়ে গেল দিনাজপুরের মুদিপাড়ায়। বিয়েতে জিয়ার মামা, নানা ও বিভাগীয় অনেক বন্ধু-বান্ধব উপসি’ত ছিলেন। আমাদের বিয়ে হয়েছে ১৯৩৭ সালের ২৯ মার্চ। আমার স্ত্রীর জন্ম ১৯২৪ সালের মার্চ মাসে। নাম তৈয়বা খাতুন। তার বাপের বাড়ি দিনাজপুরের (বর্তমান পঞ্চগড়ের) চন্দন বাড়িতে।  আমার শ্বশুড় ছিলেন জেলা সাব রেজিষ্টার। আমার স্ত্রীর কোন ভাই নেই। তারা দু’বোন। বেগম খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা খাতুন তাঁর মেয়ে সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘খালেদা খুব বেশি লেখাপাড়া করত না, কথা খুব বেশি বলতো না। লেখাপড়া করেছে প্রথমে মিশনারী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ও পরে দিনাজপুর বালিকা উ”চ বিদ্যালয়ে’। বেগম জিয়ার মা-বাবা প্রদত্ত সাক্ষাৎকার অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সাল এবং লেখাপড়া  হাইস্কুল পর্যন-। ১৯৬১সালে মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার পরই তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর লেখাপড়া করেছিলেন বলে তাঁর মা-বাবা উল্লেখ করেন নাই।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডে দেখা যায় বেগম জিয়া ১৯৫৪ সালের ১লা জানুয়ারী দিনাজপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। তিনি ঐ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। ঢাকা বোর্ডের রেকর্ডে দেখা যায় খালেদা খানম, পিতা মোহাম্মদ এসকান্দর অত্র বোর্ডের আওতাধীন দিনাজপুর কেন্দ্রের দিনাজপুর বালিকা বিদ্যালয় হইতে ১৯৬১ সালে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করিয়া অকৃতকার্য হন। তাঁহার রোল নম্বর ছিল রোল-দিনা নং এফ-৭৯২। রেকর্ড মুলে তার জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। ফলাফলে দেখা যায় তিনি ইংরেজী, ইতিহাস, ভুগোল ও ঐ”িছক বিষয়ে অকৃতকার্য হন। বিদ্যালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড থেকে দেখা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সাল এবং তিনি মেট্রিক ফেল করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি আর মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন বলে কোন রেকর্ড ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে নেই। মা-বাবার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম জিয়ার জন্ম সাল এবং বিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডের জন্ম সালের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য দেখা যায়। এর কারণ হ”েছ বয়স কমানো। তাই জন্ম তারিখ ঠিক রেখে জন্ম সাল এক বৎসর কমিয়ে দেওয়া হয়। বেগম জিয়ার বিয়ের কাবিনে দেখা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। এর কারণ হ”েছ ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বেগম জিয়ার প্রকৃত জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টম্বর ১৯৪৫ সাল বা শিক্ষা সনদের জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টম্বর ১৯৪৬ সাল অনুযায়ী বিয়ের সময় তার বয়স দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৪ বা ১৫ বছর। বিয়ের জন্য আইন সিদ্ধ নয়। তাই আইন সিদ্ধ করার জন্য জন্ম তারিখ এমনভাবে পিছানো হয় যাতে ১৬ বৎসর হয়।

এখানে কাবিনের প্রয়োজনে জন্ম সাল এবং মাস পরিবর্তন করা হলেও তারিখ ৫ ঠিক রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী ফরমে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন পত্রিকার অফিসে এবং রেডিও  ও টেলিভিশনে সরকারী ভাবে পাঠানো তার জীবন বৃত্তানে- তার জন্ম দিন ১৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল উল্লেখ করে প্রচার করা হয়, যা ঐ সময়কার পত্র-পত্রিকায় লিড নিউজ আকারে ছাপা হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সফর কালে সরকারীভাবে ছাপানো প্রধানমন্ত্রীর জীবন বৃত্তানে- এবং তাঁর লাল কূটনৈতিক পাসপোর্টে জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ৫  সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। তাছাড়া অন্যান্য আরো অনেক সরকারী রেকর্ড পত্রে তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর উল্লেখ আছে। গত তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময় প্রণীত জাতীয় পরিচয় পত্রে দেখা যায় বেগম জিয়ার জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সাল। এই সন তারিখ যে একেবারে সঠিক নয় তার প্রমাণ তাঁর শিক্ষা সনদ এবং বিয়ের কাবিন। আইন অনুযায়ী বিয়ের কনের বয়স কমপক্ষে ১৬ বৎসর পূর্ণ হতে হবে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্ম হলে ১৯৬১ সালে তাঁর বয়স দাঁড়ায় মাত্র সাড়ে ১৩ বৎসর। এই বয়সে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বা বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রি করা মোটেও সম্ভব নয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply