Share

indeergxঢাকা: মো: জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহন করেন। মা মাসুদা খানম গৃহিণী। বাবা ফজলুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা।

শৈশবে বাবার বদলীর চাকুরীর সুবাদে দেশের নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস, এখানেই স্কুল কলেজে পড়াশোনা। শৈশব থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ১৯৯০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে প্রত্যক্ষ রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।

বছরের শেষ দিকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে তার ঢেউ ঢাকার পাড়া মহল্লায়ও ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধুদের সাথে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনে। প্রত্যক্ষ রাজনীতির হাতেখড়ি এই আন্দোলনেই। স্থানীয় ছাত্র-তরুণদের সংগঠিত করা, পাড়ায় নানান সমাজ-সচেতনতামূলক কর্মকান্ড ও ক্লাব গড়ে তোলা, পত্রিকা প্রকাশ করা প্রভৃতি সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজকর্মে যুক্ত হন ওই সময়ে। পরবর্তীতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি একজন সক্রিয় কর্মীর ভূমিকা পালন করেন।

জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে সার্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের যে প্রয়েজনীর উপলব্ধি থেকে যোগ দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে। ছাত্র ফেডারেশনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৮ সালে সভাপতি হিসেবে হাল ধরেন সংগঠনের। ছাত্র আন্দোলন থেকে বিদায় নেন ২০০০ সালে। সেখানে কাজের বিশেষ পরিস্থিতি ও ছাত্র তরুণদের নতুন চাহিদা তাকে এই উপলব্ধিতে পৌঁছে দেয় যে গৎবাঁধা প্রগতিশীল রাজনীতি বিকাশের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। প্রয়োজন সমাজের বাস্তবতার উপযুক্ত করে পরিবর্তনের রাজনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো।

সেই প্রয়োজনেই নানা সম-মতাবলম্বী তরুণদের সাথে চিন্তার, কাজের সম্পর্ক গড়ে উঠতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-বেতন বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সন্ত্রাস ও মাফিয়া রাজত্বের বিরূদ্ধে আন্দোলন, যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, ওসমানী উদ্যানের ১১ হাজার গাছ রক্ষা আন্দোলন এবং সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে তার রয়েছে অগ্রণী সংগঠক ও উদ্যোক্তার ভূমিকা।

এই রাজনৈতিক পরিক্রমাতেই ২০০২ সালে গণসংহতি আন্দোলন গঠিত হয় তাকে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দিয়ে। গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে সকল আন্দোলনে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা রাখার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসাবে হাজির হন। দেশে দেশে পরাশক্তিগুলির সামরিক আগ্রাসনের বিরূদ্ধে আন্দোলন, ইরাকে আগ্রাসনের বিরূদ্ধে টানা গণজমায়েত, জাতীয় সম্পদ রক্ষাসহ ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লাখনির বিরূদ্ধে আন্দোলন, আড়িয়ল বিল রক্ষার আন্দোলন, পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ ও মজুরির দাবিতে আন্দোলন, শ্রমজীবী হকারদের আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক হামলা ও নারী নির্যাতনের বিরূদ্ধে আন্দোলন, গ্যাস-বিদ্যুতের দামবৃদ্ধির বিরূদ্ধে আন্দোলন, পানির ন্যায্য হিস্যা ও নদী রক্ষার আন্দোলন, প্রকৃতি-প্রতিবেশ ও সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন, শিল্পায়ন ও জাতীয় শিল্প গড়ে তোলার জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আন্দোলনের নানান উদ্যোগে তার রয়েছে উজ্জ্বল ভূমিকা। তিনি তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা। ইতিপূর্বে তিনি গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি এবং সমাজের গঠনমূলক পরিবর্তনকেই জীবনের একমাত্র করণীয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মীর ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ কখনোই পড়তে দেননি। সমাজ-রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত এবং অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পাদিত নতুন দিগন্ত পত্রিকার তিনি সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য। উৎসাহী পাঠক এবং গ্রন্থানুরাগী জোনায়েদ সাকি দেশের অন্যতম সৃজনশীল ও মানসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থা সংহতি প্রকাশনীর উদ্যোক্তা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘আমাদের পাঠশালা’ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। পাঠশালার শিক্ষার্থীরা পিএসসি-জেএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফলের পাশাপাশি সঙ্গীত, চিত্রাঙ্কন এবং বিজ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক তৎপরতা দিয়েও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বর্তমানে গণসংহতি আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের আঙ্খাকার রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিষ্ঠাকে তার জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি গণমাধ্যমে জনগণের পক্ষে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সোচ্চার কণ্ঠে উত্থাপন তাকে সমকালীন রাজনীতির অন্যতম জনপ্রিয় মুখে পরিনত করেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে তিনি পরিবর্তনের রাজনীতির মূর্ত প্রতীক হিসেবে প্রতীয়মান। চলমান গুম-খুন-পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণের কন্ঠস্বর হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও সোচ্চার তিনি।

তার স্ত্রী তাসলিমা আখ্তার শ্রমিক রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য। পোষাক শ্রমিকদের আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। রানা প্লজায় নিহত-আহত শ্রমিকদের উদ্ধার, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের আন্দোলনে তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখ্তারও ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত, তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাসলিমা আখ্তার একজন খ্যাতিমান আলোকচিত্রীও।

Print Friendly, PDF & Email
Share
 
 

3 Comments

  1. Jahid Hasan says:

    সাকি তোমায় সালাম।
    তোমার সংগ্রামে আমরা তোমার সাথে আছি

  2. Imran Hosain says:

    জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক অগ্রগতি আসলেই অসাধারণ। আমরা তাঁর সাথে আছি।

  3. Alal Ahmed says:

    আমি সাকি ভাইকে খুব লাইক করি।তার বিভিন্ন টকশো আমি মনোযোগ দিয়ে দেখি।

Leave a Comment

 




 

*

 
 
3,070Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax