khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরাও ‘জামাত মুক্ত গ্রাম’ গড়ার শপথ নিলেন

1 6

নিউইয়র্ক: ‘জামাত মুক্ত গ্রাম’ প্রতিষ্ঠার চলমান আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করলেন নিউইয়র্কের প্রবাসীরা। সকলে দৃপ্ত প্রত্যয়ে উচ্চারণ করলেন যে, ধর্মীয় আবেগ পুঁজি করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে এবং প্রকারান্তরে তারা ধর্মের বিধর্মী কাজ করছে-তা জামাত প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে গ্রামবাসীকে সজাগ করবেন এবং এভাবেই নিজের গ্রামকে জামাত মুক্ত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করবেন।

25032014_002_SECULAR_DEMOCRATIC_FORUM

২৩ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে ‘কুইন্স প্যালেস’ মিলনায়তনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘ইউএস কমিটি ফর সেক্যুলার এন্ড ডেমক্র্যাটিক বাংলাদেশ’র উদ্যোগে ‘জামাত মুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাগেরহাটে ৪ এবং শেরপুরে ২০ গ্রামকে জামাত মুক্ত করার নেপথ্য কারিগর কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত আন্তর্জাতিক ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ এবং ওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ এ সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ‘ইউএস কমিটি ফর সেক্যুলার ডেমক্র্যাটিক বাংলাদেশ’র সেক্রেটারী এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনে এ সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও নিউজার্সী প্লেইন্সবরো সিটির কাউন্সিলম্যান (ডেমক্র্যাট) বিজ্ঞানী ড. নূরন্নবী। সেমিনারের অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক মাহফুজুর রহমান এবং ২২ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঘাতক গোলাম আজমের প্রতিকী বিচারের জন্যে গণআদালতের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকা মার্কিন আইনজীবী থমাস কীটিং। সেমিনার শুরু হয় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক কেক কাটা এবং উপস্থিত সকলে সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরও আগে পবিত্র কোরআন, বাইবেল, ত্রিপিটক এবং গীতা থেকে ধর্মীয় বাণী পাঠ করা হয়। স্বাগত বক্তব্যে ড. নূরন্নবী গণজাগরণ মঞ্চের অনুকরণে প্রবাসে চলমান জামাত-শিবির বিরোধী কার্যক্রমকে আরো বেগবান এবং আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের অভিপ্রায়ে এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গঠিত ১০০১ (এক হাজার এক) সদস্যবিশিষ্ট ‘ইউএস কমিটি ফর সেক্যুলার এন্ড ডেমক্র্যাটিক বাংলাদেশ’র ভূমিকা উপস্থাপন করেন।

মূল বক্তব্যে হাসান মাহমুদ বলেন, ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের জন্যে জামাত-শিবির যুগের পর যুগ ধরে জঘন্য অপকর্ম করছে। একাত্তরে জামাতীরা যা করেছে তা ইসলাম ধর্ম বরদাশত করতে পারে না। প্রকৃত অর্থে ঐ ধরনের বর্বরতাকে কোন ধর্মই ঠাঁই দিতে পারে না। হাসান মাহমুদ বলেন, গত ৫০ বছরে বিশ্বের বড় বড় ডজনখানেক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলোর পুনরুত্থান ঘটেনি। জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয় ৩ বার। প্রতিবারই তাদের পুনরুত্থান ঘটেছে। কারণ, আইন করে দল নিষিদ্ধ করা হলেও তার চিন্তা-তত্ত্ব থেকে যায়। আবার তারা সাইন পাল্টিয়ে ভিন্ন নামে আবির্ভূত হয়। মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ওরা ব্যবহার করতে চায়। হাসান মাহমুদ বলেন, জামাতকে বাংলাদেশের সমাজ থেকে নির্মূল করতে হলে জামাতীদের প্রকাশনা ঘাঁটতে হবে। তাহলেই ওদের ভন্ডামী ধরা পড়ে। আর সে কাজটিই আমি করার চেষ্টা করছি। গ্রামকে জামাত মুক্ত করতে পারলেই বাংলাদেশ এসব ধর্মীয় সন্ত্রাসীর অভয়ারণ্য মুক্ত হবে। হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে জামাত-শিবির তথা ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নির্মূলে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজও নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। আমার চেষ্টা হচ্ছে ভিন্ন পথে। মানুষকে সচেতন করে ওদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ রচনা করা প্রতিটি গ্রামে। দু’বছর আগে বাগেরহাট এবং শেরপুরে আমার পরিচিত কয়েকজনকে জামাত প্রকাশিত শরিয়া আইন এবং সত্যিকারের শরিয়া আইনের বই প্রদান করেছিলাম তাদের কাছে। একইসাথে জামাত-শিবিরের নৃশংসতার উপর ভিডিও চিত্র তৈরী করেছি, সেগুলোরও কপি প্রদান করেছিলাম। হাসান মাহমুদ বলেন, সে সব থেকেই গ্রামের মানুষেরা জেগে উঠেছেন এবং ঐ ২৪ গ্রাম থেকে জামাত-শিবির উচ্ছেদ করেছেন। এ এক নিরব বিপ্লব। আর এ বিপ্লবে প্রতিটি প্রবাসী সামিল হলে সারা বাংলাদেশকে জামাত মুক্ত করার স্বপ্ন খুব দ্রুত বাস্তবায়িত করা যাবে।

সর্বজনীন মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাসিম্পন্ন আমেরিকান আইনজীবী থমাস কীটিং তার বক্তব্যে ২২ বছর আগে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ডাকে সাড়া দিয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে গণআদালতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘একাত্তরে মানবতাবিরোধীদের বিচার দাবিতে বাঙালিদের আকুতি আমাকে অভিভূত করে। সে আকুতিরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাত্তরের ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে ঐ ধরনের জঘন্য অপকর্মে কেউ প্রবৃত্ত হবে না।’ এটর্নী কীটিং আরো বলেন, ‘আজকের এ আয়োজন একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের সমর্থনে আন্তর্জাকি জনমত সুসংহত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি।’ সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, ব্র“কলীন এবং কুইন্স বরো আওয়ামী লীগ, চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড আওয়ামী লীগ, ওজনপার্ক আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিনিধিত্বকারীরা অংশ নেন।

Print Friendly, PDF & Email
1 Comment
  1. Ajabul Morfud says

    প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জয় বাংলা।

Leave A Reply


Hit Counter provided by shuttle service from lax