কে শোনে-কার কথা এমনই অবস্থা কর্তৃপক্ষের!! মহাসড়কে যেন থামছেনা মৃত্যুর মিছিল কুষ্টিয়াতে পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় মটরসাইকেল আরোহী ও মিনি ট্রাক চালক নিহত !!

0 20

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা ঃ কুষ্টিয়ার বুক চিরে বয়ে যাওয়া মহাসড়কগুলো যানচলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।আজ রবিবার সকালে কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় এক মটরসাইকেল আরোহী ও মিনি ট্রাক চালক নিহত হয়েছে।

এঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২ জন। কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের শহরতলীর মঙ্গলবাড়িয়া ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের লক্ষীপুর নামক স্থানে পৃথক এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মটরসাইকেল আরোহী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়াা ইউনিয়নের রানাখড়িয়া গ্রামের খবির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে তুহিন প্রামানিক(৪৫)।

অপর দূর্ঘটনায় নিহত মিনি ট্রাকের চালক পটুয়াখালী জেলার পশ্চিম শরিয়তপুর গ্রামের সুন্দর আলীর ছেলে আবদুর রহমান পদ্দার (৩০)।

পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মটরসাইকেল চালক জসীম(৩০) ও মিনি ট্রাকের হেলপার কাউসার(১৭) গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার আলী সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন , সকাল সাড়ে ৮টায় জেলার মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া থেকে মটরসাইকেল যোগে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন জসীম ও তুহিন।

কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মঙ্গলবাড়িয়া নামক স্থানে পৌছালে বিপরীতদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগ্রামী ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মটরসাইকেল আরোহী তুহিন প্রামানিক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

অপরদিকে পটুয়াখালী থেকে ইলিশ মাছ বোঝায়কৃত একটি মিনি ট্রাক ভোরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের লক্ষীপুরে পৌছালে বিপরীতদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিনি ট্রাকের চালক আবদুর রহমান নিহত হয়। এতে আহত হয় হেলপার কাউসার।

তারপরেউ দূরভোগের শেষ নেই সাধারন যাত্রিদের ।দূরপাল্লার যাত্রীরা জ্যামে আটকে পড়ার ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করলেও কখন জ্যাম ছাড়বে তার কোন লক্ষন নেই। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মেরামত ও সংস্কার না হওয়ায় কুষ্টিয়ার এই মহাসড়ক এখন চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

কখনও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে লোক দেখানো সংস্কার কাজ হলেও বাস্তবচিত্রে গর্ত ও খানাখন্দ স্থায়ী রূপ নিয়েছে এই মহাসড়কে। কুষ্টিয়া মজমপুর গেটস্থ জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী সড়কে কোন প্রকার যানজট না থাকলেও ১২মাইল ১৫ মিনিটের পথ যেতে লাগে দু’এক ঘণ্টা। ভাঙা সড়কে প্রাণ হাতে নিয়ে পথ চলছেন এখানকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা।

জেলাজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ২৬০ কি:মি: সড়ক-মহাসড়কের ৯০% অংশই অভিন্নচিত্র। এ সড়কের বিভিন্ন জায়গায় নামে মাত্র গর্ত ভরাট করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাতে দুর্ভোগ বেড়েছে বলে মনে করছেন যাত্রী সাধারণ। ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের একমাত্র এই মহাসড়কটি এখন সীমাহীন দুর্ভোগের ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে দুর্ভোগ কবলিত সকল প্রকার যানবাহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীরা চরম ক্ষুব্ধ।

রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে রাস্তার অধিকাংশ স্থানে পাথর উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাথর সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। পুরু রাস্তায় ধুলোবালিতে ভরদুপুরেও কুয়াশার রুপ নিয়েছে।

এতে যান চলাচলে সমস্যার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও যানবাহন বিকলসহ যানজট এখন নিত্যসঙ্গী। কুষ্টিয়া শহর থেকে ১২ মাইল পর্যন্ত এবং বারখাদা ত্রিমোহনী পর্যন্ত সব থেকে বেশি খারাপ। এই স্থান দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই সব ধরনের যান চলাচল করছে। প্রতিনিয়ত গাড়ী বিকল হওয়াসহ দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।

আর এ সড়কে দূর্ঘটনার কবলে পরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের যেন কোন মাথাব্যথা নেই! কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর অতি বৃষ্টিতে এই মহাসড়ক দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্তহয়েছে। সেই অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দ আসেনি।

তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি সড়কটি ঠিক রাখার জন্য। এরই মধ্যে এই সড়ক সংস্কারের জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী মার্চ মাস নাগাদ কাজ শুরু হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply