ভ্যাট এলটিইউয়ের ছয় মাসের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ

0 23

ঢাকা : নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন কার্যকর না হওয়ায় চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই খাত থেকে রাজস্ব আয়ে ঘাটতির আশংকা করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণ করে এই আশংকা দূর করতে পেরেছে।এ সময়ে এলটিইউ ১৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এলটিইউয়ের রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে ভ্যাট এলটিইউ কমিশনার মো. মতিউর রহমান বলেন,ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ায় এই খাতে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হওয়ার যে আশংকা ছিল তা আমরা ইতোমধ্যে দূর করতে পেরেছি।এলটিইউ মোট ভ্যাট রাজস্ব আয়ের ৫৬ শতাংশ আহরণ করে থাকে। আমরা রাজস্ব আয়ে প্রথম ছয় মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করেছি। সুতরাং ঘাটতির আশংকা আর থাকছে না।

তিনি বলেন,সময়োপযোগি কৌশল গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন,ভ্যাট অডিট ও বকেয়া আদায় কার্যক্রম জোরদার করায় রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।নিয়মিত পরিদর্শন ও অডিটের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হচ্ছে। একইসাথে উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণ করে করতাদাকে কর প্রদানেও উৎসাহিত করছি।

প্রসঙ্গত গত ছয় মাসে এলটিইউ পেট্রোবাংলা, মোবাইল ফোন অপারেটরসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া ভ্যাট রাজস্ব আদায় করেছে।

মতিউর রহমান জানান, এনবিআর থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর রেয়াত পেয়ে থাকে।দেখা যায় একটি প্রতিষ্ঠানের যে পরিমাণ কর রেয়াত পাওয়ার কথা,কৌশলে তার তুলনায় বেশি কর রেয়াত নিচ্ছে।এমন কিছু কর ফাঁকির ঘটনা আমরা ইতোমধ্যে উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।সেখান থেকেও বড় অংকের ভ্যাট রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছি।

বর্তমানে দেশের ১৭০টি বৃহৎ করদাতা প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট,সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক সংক্রান্ত কার্যক্রম এলটিইউয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এলটিইউতে ৩৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হয়।

উল্লেখ্য,চলতি অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।এর মধ্যে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply