গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখুন : সেনাবাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী

0 29

লেবুখালি (পটুয়াখালি) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামীতে দেশের জনকল্যাণমূলক কাজে সেনাবাহিনীকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার আহবান জানিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।’তিনি আজ সকালে দেশের দক্ষিণ জনপদে পায়রা নদীর তীরে পটুয়াখালীর লেবুখালিতে নবনির্মিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস উদ্বোধনকালে এ আহবান জানান।পাশাপাশি ৭ পদাতিক ডিভিশনের ডিভিশন সদর দপ্তর এবং দু’টি ব্রিগেড সদর দপ্তরসহ মোট ১১টি ইউনিটের বর্ণিল পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন তিনি।এছাড়া পটুয়াখালী জেলার ১৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমিক, পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানের আধুনিক বাহিনীতে উন্নীত করতে তাঁর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে এই ডিভিশনটি স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আজ ৭ পদাতিক ডিভিশনকে পূর্ণতা দেয়ার লক্ষ্যে ডিভিশন সদর দপ্তর এবং দু’টি ব্রিগেড সদর দপ্তরসহ মোট ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলিত হলো।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।এরআগে প্রধানমন্ত্রী সকালে লেবুখালি সেনানিবাসে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক এবং ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আলম তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।এরপরে প্রধানমন্ত্রী এমপি গেটে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, সাবেক সেনাবাহিনী প্রধানগণ, কূটনিতিকগণ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি শক্তিশালী এবং প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে একটি প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, জাতির পিতা প্রণীত নীতিমালার আলোকেই তাঁর সরকার ‘আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০” প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।

তাঁর সরকার ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধন করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল হতে ৯ বছরে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছি। সেনাবাহিনীতে নতুন পদাতিক ডিভিশন ও ব্রিগেড প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করা হয়েছে। আর্মার্ড ব্রিগেড, কম্পোজিট ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং বাংলাদেশ ইনফেন্ট্রি রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছি।তিনি বলেন, এই বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে অনেক আধুনিক যানবাহন, হেলিকপ্টার, সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে।তাঁর সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনা সমস্যদের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অত্যাধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে সিএমএইচসমূহে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢাকা সিএমএইচে যুক্ত হয়েছে যুগান্তকারী বোন-ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন সেন্টার। ককলিয়ার প্রতিস্থাপন কেন্দ্র, বার্ন এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারি কেন্দ্র যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সেনাসদস্যদের সাথে সাথে দেশের জনগণও আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।তিনি বলেন, তাঁর সরকার সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সৈনিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ তাদের বাসস্থান, মেস, এসএম ব্যারাক ইত্যাদি নির্মাণ করেছে এবং বেতন ও রেশন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে এ সময় তাঁর সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন থাকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর ভাই শেখ কামাল সেনাবাহিনীতে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় ভাই শহিদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ১৯৭৫ সালে রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ছোট ভাই শেখ রাসেলের ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। কিন্তুু তার আগেই ’৭৫ এর ১৫ আহষ্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকরা তাঁকেও হত্যা করে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে আমার হারানো ভাইদের খুঁজে পাই।’প্রাকৃতিক দুর্যোগে দায়িত্বশীলতা ও সহমর্মিতার সাথে দুর্গতদের সাহায্য, সহযোগিতা করে সশ্রস্ত্র বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনী অত্যন্ত প্রশংসার সাথে কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করছে।যেকোন দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবা ও জান-মাল রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়ে আসছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ এখন একটি ‘ব্র্যান্ড নেম’ বলেও উল্লেখ করেন।প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের খন্ড চিত্র তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই ডিভিশনের প্রত্যেক সদস্যের পেশাগত দক্ষতা ও কর্মচাঞ্চল্যে ৭ পদাতিক ডিভিশন একটি অনুকরণীয় ডিভিশনে পরিণত হবে। এই সেনানিবাস হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর এবং কার্যকর একটি সেনানিবাস, ইনশাআল্লাহ।

পটুয়াখালী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডায়াবেটিস হাসপাতাল, মীর্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, বাউফলের সাবুপাড়া গ্রামে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি শিশু পরিবারের (বালিকা) নবনির্মিত হোটেল ভবন, কাজী আবুল কাশেম স্টেডিয়াম, দশমিনা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, কলাপাড়া উপজেলার পশ্চিম চাকামইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, পূর্ব ডালবুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, হোগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, বাউফলের ধানদী মডেল হাইস্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার, কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, গলাচিপা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডিজিটাল পাবলিসিটি স্কিন এবং শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্সের (অডিটোরিয়াম) প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ ও হল রুমের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply