পর্যটন শিল্পের সুবিধা নিতে ইসলামি দেশগুলো একত্রে কাজ করতে পারে ওআইসি’র পর্যটন মন্ত্রীদের দশম ইসলামিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

0 19

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী পর্যটন একটি দ্রুত বিকাশমান খাত; যা বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এক্ষেত্রে ইসলামি দেশগুলো বৃহত্তর সুযোগ ও সম্ভাবনা খুঁজতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ওআইসি’র পর্যটন মন্ত্রীদের ১০ম ইসলামিক সম্মেলনের (আইসিটিএম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্প অন্যতম ক্ষেত্র; যেখানে একসঙ্গে কাজ করার বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এ বিষয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরস্পরের কাছাকাছি আসা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ সম্মেলন নতুন সুযোগ ও দিগন্ত উন্মোচন করবে। ইসলামিক অর্থনীতি একটা নতুন বিষয় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এটির বিকাশ অব্যাহত থাকবে এবং সারাবিশ্বের মুসলমানদের দ্বারাই এটি পরিচালিত হবে। ইসলামিক পণ্য ও সেবার বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং একটি বিশাল ভোক্তা থাকার কারণে, বিশ্বাসভিত্তিক পণ্য ও সেবার সম্প্রসারণের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছেও এ সকল পণ্য ও সেবা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তিনি এ সময় ইসলামিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। হালাল খাদ্য, ইসলামিক অর্থনীতি, হালাল ওষুধ এবং প্রসাধনী, হালাল পর্যটন ইত্যাদি ইসলামিক অর্থনীতির বর্ধিষ্ণু খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাতগুলোর উন্নয়নে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করতে হবে। তিনি এ সময় বিশ্বব্যাপী উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবত্ উদ্বাস্তু সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু সম্প্রতি আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে।

পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমাদের দেশে সম্পদের অভাব নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভসহ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ও নিরবচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন বাংলাদেশে অবস্থিত। সাগরকন্যা কুয়াকাটা অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ সব স্থান পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে পারে। শত শত নদী জালের মতো ছড়িয়ে থেকে এই দেশকে ছবির মতো সুন্দর করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আ ক ম শাহজাহান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওসাইমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহম্মদ ফারুক খান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

সম্মেলনের রীতি অনুযায়ী নাইজারের পর্যটনমন্ত্রী এবং সম্মেলনের বিদায়ী চেয়ারপারসন আহমেদ বথু বক্তৃতার পরপরই পরবর্তী দুই বছরের জন্য আইসিটিএম’র চেয়ারপারসনশিপ বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আকম শাহজাহান কামালের কাছে হস্তান্তর করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply