সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটিতে ৫০ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান হবে

0 82

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে হাই-টেক পার্কের আইটি বিজনেস সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ।রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাই-টেক পার্কের আইটি বিজনেস সেন্টার সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি) স্থাপনের গুরত্ব তুলে ধরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘শাহাজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল কলেজ, সিলেট এমসি কলেজসহ সিলেটে প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে বিনিয়োগ বোর্ডের ১২ তম সভায় এই অঞ্চলের জন্য একটি হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় তিনি গত ২১ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখ সিলেট হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে সিলেটবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে সিলেটকে একটি প্রযুক্তি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের একটি ডিজিটাল ইকোনমিক হাব হিসেবে হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমরা ১৬২.৮৩ একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি) গড়ে তুলছি। অচিরেই আরো প্রায় ৬৪০ একর জমি এই প্রকল্পের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আমি আশা করছি। এখানে ৫০ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। আমরা আইটি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক এবং আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেকট্রনিক্স সিটি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া বলেন, ‘এই প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধীকার প্রকল্প হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে এটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করে এটির সকল কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’

সিলেটের সীমান্তবর্তী পশ্চাত্পদ একটি উপজেলার নাম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। কিন্তু এলাকাটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ও পর্যটন সমৃদ্ধ। সিলেট শহরে থেকে ২০ কিলোমিটার দূরবর্তী কোম্পানীগঞ্জের খলিতাজুরি এলাকার ১৬২ একর জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম ইলেকট্রনিক সিটি।

এলাকায় দুটি অংশের একটি অংশে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। অন্যটিতে আবাসন, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শপিং সেন্টার ইত্যাদি থাকবে। সব মিলে ৪০টি স্থাপনা, সেবা প্রতিষ্ঠান ও সুযোগ-সুবিধায় ভরে উঠবে সীমান্ত এলাকার সবুজে ছায়ায় নির্মল আকাশের নিচ। আগামী দশ বছরের মধ্যে সিলেট সহ দেশ-বিদেশের ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এখানে। সব মিলিয়ে অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে এই কোম্পানীগঞ্জ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply