আমি আর পারছি না: খালেদা জিয়া

47

স্বদেশ রায়: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত হবার পরে, মির্জা ফখরুল বলেছেন, বাংলাদেশে এখন নির্বাচন হলে তাঁর দল আশিভাগ ভোট পাবে। মির্জা সাহেব শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি ভেবেচিন্তে দেখেছেন, খুব শীঘ্রই বড় কোন নির্বাচন হচ্ছে না। তাই এ সময়ে এ রকম একটা ফাঁকা বুলি ছাড়া যায়। তাছাড়া তাঁর নিজের জন্যও এমনটি দরকার ছিল। কারণ, তাঁর নিজ দলের মধ্যে তাঁর ওপর অবিশ্বাস অনেক বেশি। তাঁকে শ্রদ্ধা করেন এমন এক তরুণ নেতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন করলেন, আমাদের ফখরুল ভাই তো অনেক যোগ্য মানুষ, কিন্তু দলের ভেতর তাঁকে নিয়ে যে প্রশ্ন, তিনি সব সময়ই সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ মেইনটেইন করে চলেন। বাস্তবে এটা কতখানি সত্য? তাঁর প্রশ্ন শুনে অনেকখানি হতচকিত হয়ে যাই; মনে মনে ভাবি, তাহলে ইউটিউবে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের যে টেলিফোন কনভারসেশন আছে, এটাই মূলত মির্জা ফখরুল সম্পর্কে বিএনপির তারেক ঘরানার নেতাদের বিশ্বাস। যা হোক, তাঁকে বলি- দেখেন, আপনারা এক সময়ের একটি বড় দল। আড়াইবার ক্ষমতায় গেছেন। তাই এ ধরনের দলের জেনারেল সেক্রেটারিকে নানা কারণেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। এতে দোষের কি? তাঁর বক্তব্য- না, সে ধরনের যোগাযোগ নয়, তিনি সরকারের লোক কিনা সেটা বলেন? তারেক ঘরানার বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস যে এখনও মির্জা ফখরুলের প্রতি এমনই, এটা তার একটি প্রমাণ। সম্প্রতি একটি বাংলা পোর্টালে দেয়া তারেক ঘরানার আরেক বুদ্ধিজীবীর মন্তব্য, তিনি বলেছেন, বিএনপি আগামী ২০১৯ এ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তার কারণ, বেগম জিয়া এখন সরকার নিয়ন্ত্রিত লোক দ্বারা বেষ্টিত। বিএনপির ক্ষমতায় যাবার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন ২০২৩ এর পরে। তার কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, ২০২৩ এ বেগম জিয়া ও তাঁর এই নেতৃত্ব থাকবে না। তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে তাঁরা ক্ষমতায় যেতে পারবেন।

বিএনপির যে বুদ্ধিজীবী এই কথা বলেছেন, তিনি উচ্চশিক্ষিত। তবে তিনি একটি ক্ষেত্রে ভুল করছেনÑ পশ্চিমা বিশ্ব ও প্রতিবেশী দেশগুলো শুধু নয়, বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে এমন প্রতিটি দেশই অন্তত একটি বিষয়ে একমত যে, তারেক রহমানের মতো একজন দুর্নীতিপরায়ণ ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে কোন দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে দেয়া যায় না। তাছাড়া, ২০২৩-এর পরে যদি উত্তরাধিকারের রাজনীতির প্রশ্ন আসে, তাহলে সেখানেও শেখ হাসিনার পরিবার অনেক এগিয়ে। কারণ, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ছেলেমেয়েরা শুধু উচ্চ শিক্ষিতই নন, তাঁরা প্রত্যেকে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন চরিত্রের অধিকারী। শেখ হাসিনা টানা নয় বছর ক্ষমতায় অথচ দেশের কোন দুর্নীতি, কোন ক্ষমতার অপব্যবহারের এক হাজার মাইলের ভেতরও তাঁরা কেউ নন। বরং নিজ নিজ পেশায় তাঁরা যোগ্য। পেশার মাধ্যমে যে অর্থ রোজগার করেন, তাতেই তাঁরা চলাফেরা করেন। তাঁদের বৈধ আয় দেখানোর পথ আছে। আর সে ক্ষেত্রে একটি সূত্র থেকে জানা যায়, তারেক রহমান নাকি ব্রিটেনে তার বৈধ আয়ের পথ দেখিয়েছেনÑ জুয়া খেলা (অবশ্য জুয়ার মাধ্যমে আয় ব্রিটেনে বৈধ)। যদি এটা সত্য হয়, তাহলে তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া যে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন, ওই ধর্মের রীতিনীতির সঙ্গে কি জুয়া খেলা সঙ্গতিপূর্ণ? আর বিষয়টি যদি সত্য না হয়, তাহলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও যখন এ বিষয়টি আসছে, তাই বিএনপির তরফ থেকে অন্তত উচিত তারেক রহমান লন্ডনে যে আয়কর রিটার্ন জমা দেন, সেটা প্রকাশ করা। কারণ, যারা সামাজিক ব্যক্তিত্ব, তাদের সব কিছুই ট্রান্সপারেন্ট থাকা উচিত। তবে জুয়া না হয়ে যদি অন্য কিছু হয় তারেক রহমানের আয়ের উৎস তাহলেও সেটাকে হতে হবে উদ্ভট কিছু। কারণ, বৈধপথে আয় করার মতো কোন পেশাগত যোগ্যতা তারেক রহমানের নেই।

যা হোক, তারপরও বিএনপিতে তারেক রহমানের একটা গ্রুপ আছে। তারা তারেকের নির্দেশেই চলার চেষ্টা করেন। বেগম জিয়াও তারেক রহমানের কথার বাইরে যান না। যেমন, সম্প্রতি আনন্দবাজারে যে খবরটি বেরিয়েছে, বেগম জিয়া ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের কয়েক নেতার মাধ্যমে ভারতের মোদি সরকারের সঙ্গে একটি যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এটা নতুন কোন খবর নয়। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমান এ কাজটি করছেন। এ কাজের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন। ভারতে সংঘ পরিবারের খুব নিচের দিকে দু’ একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানা যায়। অন্যদিকে আনন্দবাজারের নিউজে যে বিষয়টি আছে, বিএনপি খুব জোরেশোরে সংঘ পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা তাদের দলে অধিক পরিমাণ হিন্দুকে এমপি পদে নমিনেশন দেবে। এছাড়া বিএনপিও তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, আওয়ামী লীগ আমলে বেশি হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে। বিএনপি যে এ কাজও করছে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন, বাংলাদেশের একজন হিন্দু নেতা রাণা দাশগুপ্ত বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে যত হিন্দু নির্যাতন হয়েছে, এমনটি কখনও হয়নি। এগুলো যে মূলত বিএনপির ওই সংঘ পরিবারের সঙ্গে একটা যোগাযোগ গড়ে তোলার স্বার্থে তারেক রহমানের অঢেল অর্থের কারণে হচ্ছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ, এদেশের সাধারণ হিন্দুরা ২০০১ ভুলে যায়নি। ২০০১-এর পূর্ণিমার কথা কেউ ভুলে যায়নি। যে হিন্দু নেতা বিএনপির হয়ে এ কথা বলছেন, তাঁরা কি পূর্ণিমাকে ভুলে গেছেন? ভুলে গেছেন কিশোরী পূর্ণিমার ওপর কি ধরনের কালোরাত তৈরি করেছিল বিএনপি কর্মীরা! তারা কি ভোলার সেই নির্যাতন ভুলে গেছেন? ভুলে গেছেন কিশোরীকন্যার জন্য মায়ের আর্তি। তারা ভুলে গেছেন রামশীলের গণহত্যা আর গণধর্ষণ? আর এসব ভুলে থেকেই একথা বলছেন? বাস্তব সত্য হলো, ১৯৪৬ এর দাঙ্গা ও ১৯৪৮ এর বরিশালে হিন্দু নিধন এবং ১৯৭১-এর পরে ২০০১ এ বিএনপি আমলেই বাংলাদেশে সব থেকে বেশি হিন্দু নির্যাতন, হত্যা ও রেপ হয়েছে।

তবে বর্তমান সরকার আমলে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এ সম্পর্কে সম্প্রতি একটি ছেলে আমাকে যে প্রশ্নটি করেছিল, সে প্রশ্নটি অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও করতে পারেন “আওয়ামী লীগ আমলে কেন এগুলো ঘটবে?” প্রশ্নটির উৎস কোন আওয়ামী লীগ বিরোধিতা নয়, বরং নির্ভরতা, ভালবাসার দাবি। কারণ, একমাত্র আওয়ামী লীগই বাংলাদেশে হিন্দুদের শুধু নিরাপত্তা দেয় না, মর্যাদাও দেয়। সেক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আসতে পারে, কেন এ বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে? সাংবাদিক হিসেবে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে, রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র পেয়েছি, তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলো ঘটে ১৫ থেকে ১৮টি জায়গায়। আর এলাকাগুলো পুরোপুরি জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত। আনন্দবাজারের ওই রিপোর্ট একটু বিশ্লেষণ করলে আরও বোঝা যায়, ঘটনাগুলো বিএনপি খুবই সুকৌশলে ঘটাচ্ছে। কারণ, তারা ভারতের সংঘ পরিবারকে বোঝাতে চায়, আওয়ামী লীগ আমলেও হিন্দুরা নিরাপদ নয়। তাই এখন সুকৌশলে, অনেক অর্থ ব্যয় করে তারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে, যাতে তারা সংঘ পরিবারকে দেখাতে পারে- আওয়ামী লীগ আমলেও এমন ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ, তারেকের নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতের একটি চক্র এই কাজটি করছে।

তবে তারেক রহমান ও বিএনপি যদি নরেদ্র মোদিকে এবং তাঁর সংগঠনকে এতটা বোকা মনে করে, তাহলে তো তারা দিল্লীকে, এমনকি গোটা ভারতকে একটি গ্রাম মনে করছে। ভিলেজ পলিটিক্স দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি করতে যাচ্ছে। হিন্দুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা, শেখ হাসিনার সাফল্য সব বাদ দেয়া গেল। খালেদা জিয়া যাদের সঙ্গে এই সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছেন, তাদেরকে একটি প্রশ্নের উত্তর কি দিতে পারবেন? তারা যদি প্রশ্ন করেন, আপনি যখন আমার কাছে আসবেন তখন পাকিস্তানের আইএসআইকে কোথায় রেখে আসবেন? বেগম জিয়া কী উত্তর দেবেন? বেগম জিয়া লন্ডনে গেলে তখনও রটানো হয়েছিল, তিনি ভারতের কোন একটি বিশেষ মহলের সঙ্গে কথা বলবেন। শেষ পর্যন্ত যত গুরুত্বপূর্ণ মিটিং তিনি সেখানে করেন, সবই তো আইএসআই-এর সঙ্গে। এই আইএসআই তারেক রহমানকে লন্ডনে দেখভাল করছে।

বাস্তবতা হলো, তারেক রহমান ও বেগম জিয়া শুধু ক্ষমতা হারিয়ে নয়, দুর্নীতির মামলা ও একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা-মামলার কারণে এখন দিশেহারা হয়ে গেছেন। তাঁরা বুঝতে পারছেন, তাঁদের আর কোন রাজনৈতিক ভবিষ্যত নেই। এ কারণে তাঁদের যে অঢেল অর্থ আছে, এই অর্থ নানানভাবে ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া দলটির আন্দোলন করার মতো কোন নেতাও নেই, কর্মীও নেই। মাঝে মাঝে বিএনপির কিছু নেতা টকশোতে বলেন, আওয়ামী লীগ পুলিশ উঠিয়ে নিক, তারপরে দেখা যাবে কে পারে? সাংবাদিক হিসেবে তখন মনে পড়ে আওয়ামী লীগ যেদিন লগি-বৈঠা নিয়ে নেমেছিল, ওই দিন ও তার আগের রাতের কথা। তখনও বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, অথচ কীভাবে বিএনপি নেতারা পাড়া ও মহল্লা ছেড়ে পালিয়েছিল? তাদের সেই পলায়নের দৃশ্য সেদিন রাতে খিলগাঁও, মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখেছি। বর্তমানের বিএনপি নেতা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ১/১১ এর পরে দেখা হলে বলেন, ২৭ তারিখ রাতে আওয়ামী লীগ কর্মীরা মাঠে নামলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাবর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাঁকে ফোন করে বলেন, ভাই, আপনি তো আওয়ামী লীগকে চেনেন; আওয়ামী লীগ কতদূর যাবে। ওরা কি আমার ওপর হামলা করবে? আর অন্য দিকে দেখা গেছে, বিএনপির একা বেগম জিয়া বাড়ির দরজায় এসে পুলিশদের উদ্দেশে গোপালি গোপালি বলে গালিগালাজ করছেন। সারা দেশে কোথাও কোন কর্মীর টুঁ শব্দটি নেই।

বর্তমানেও যে বিএনপির একই অবস্থা তা বোঝা যায় বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের দেয়া একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যে ৬.২১ মিনিটে তিনি ফেসবুকে এই পোস্টটি দেন। তার ছোট্ট পোস্টটি পড়লেই বোঝা যায়, বর্তমানে কতটা সাংগঠনিকভাবে ও জনসমর্থনের দিক থেকে অসহায় বিএনপি। শহিদুল বাবুলের পোস্টটি হুবহু তুলে দিচ্ছি-

“কি অমানবিক! কতটা হৃদয়বিদারক!! হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো? কিছুই করার নেই আমাদের??? ‘আমাকে তো দম নিতে দিচ্ছে না।

জিয়া অরফানেজ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষ হলো মঙ্গলবার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বেগম জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সমাপ্তি ঘটে। যুক্তিতর্ক শেষ হবার পরে বেগম জিয়ার পক্ষে আইনজীবী বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের কাছে একটি দরখাস্ত উপস্থাপন করেন। দরখাস্তে পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। এর পক্ষে বেগম জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। কাজেই আগামী দুই দিন তাঁর আদালতে আসার প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী আসামীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তিনি এটাকে সময়ক্ষেপণের আরেকটি কৌশল বলে মন্তব্য করেন। এরপর বিচারক আবেদনটি নাকচ করে দেন। ফলে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে আসতে হবে। এই দুইদিন অন্য আসামীদের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

আদালত থেকে বেরুতে বেরুতে ক্ষুব্ধ বেগম জিয়া অনেকটা রাগান্বিত হয়েই বলেন, ‘ আমাকে তো দম নিতে দিচ্ছে না। শেখ হাসিনা কি চায়?’ এ সময় বিএনপির এক আইনজীবী বলেন, ‘ম্যাডাম, চিন্তা করবেন না, আমাদেরও দিন আসবে।’ ওই আইনজীবীর বক্তব্যও বেগম জিয়াকে এতটুকু আনন্দ দিলো না, বরং বিরক্তি উৎপাদন করল। বেগম জিয়া বললেন, ‘আমি মরলে দিন আসবে? কোর্টে যাওয়া আসা করতে করতেই তো সব শেষ হয়ে গেলো। তোমরা তো কিছুই করতে পারছো না। আমি আর পারছি না।’ কোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতে উঠতে বলেন, ‘ন্যায় বিচার হবে না, আমি জানি।’ এর পরে তিনি গাড়িতে উঠে পড়লেন।” (শহীদুল ইসলাম বাবুলের ফেসবুক পোস্টটির সকল বানান ও যতি চিহ্ন অবিকল রাখা হয়েছে)।

বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের এই ফেসবুক পোস্টটি পড়লেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়। বাস্তবে খালেদার মনোবল বলতে এখন আর কিছুই নেই। তাঁর নেতা-কর্মীরা হতাশ। আর এ সময়েই একটি ফাঁকা গুলি চালিয়ে দিলেন মির্জা সাহেব, তাঁর দল আশিভাগ ভোট পাবে!

swadeshroy@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.