নিউইয়র্কে ফুলতলী সাহেব কিবলার ইসালে সাওয়াব মাহফিল

52

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম : নিউইয়র্কে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে গত ১৪ জানুয়ারী রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় উপ মহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী সাহেব কিবলা (র.)’র বার্ষিক ইসালে সাওয়াব মাহফিল। আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউএসএ’র উদ্যোগে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদে এদিন বিকেল ৫টা থেকে এ উপলক্ষে খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান, অজিফা খতম, আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউএস’র সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইয়াহইয়ার পরিচালনায় এবং সভাপতি মাওলানা মঈনউদ্দীন মুহাদ্দিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ওলামা সোসাইটি ইউএস’র সভাপতি আল্লামা জালাল সিদ্দিক।

মাহফিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিংগেরকাচ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা এ কে এম আবদুন নুর, আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউএসএ’র সহ সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন, মাওলানা মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ও মাওলানা সৈয়দ সাজিদুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ জমসেদ হোসেন, যুব সম্পাদক মাওলানা রুহান উদ্দিন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফিজ ওহি চৌধুরী প্রমুখ।

মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ ইউএস’র সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা শিহাব উদ্দিন আহমেদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফিজ আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা শাহান শাহ ইয়াহইয়া, মাওলানা লুৎফর রহমান, ডা. আবুল খায়ের, জয়নাল আবেদীনসহ আঞ্জুমানে আল ইসলাহইউএস’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ ইসলামী ব্যক্তিত্বরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মিজানুর রহমান ও হাসান মাহদিন চৌধুরী। ফুলতলী (রহ.) এর শানে মুরছিয়া পরিবেশন করেন মো. এম এ মুশাহিদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)’র জীবনীর উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে বলেন, ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই। প্রকৃত মুসলমান কখনো সন্ত্রাসী হতে পারে না। ইসলাম ও জিহাদের ছদ্মনামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে লিপ্তরা ইসলামের শত্রু। মানবতার শক্রু। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে লিপ্তদের কঠোর হাতে দমন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দারি জানান বক্তারা।

মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা জালাল সিদ্দিক আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)’র স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার পুরো জীবনটাই ছিল কুরআন-সুন্নাহর জীবন। তাকে অনুসরণ করলেই আল্লাহ ও তার রাসুল (স.)কে পাওয়া যাবে।
তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আলোচনায় বলেন, এক শ্রেণীর আলেম আমল মছআলার ফতোয়ার বাড়াবাড়ি করছেন। মনগড়া ফতুয়া দিচ্ছেন। নামাজের পর মুনাজাত, মিলাদ-কিয়ামকে বিদাত বলার দৃষ্টতা দেখাচ্ছে। মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়ার সওয়াব বেশি ইত্যাদি নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই মানব জাতির শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। মহানবী (সা.) কে সৃষ্টি করা না হলে আল্লাহ কিছুই সৃষ্টি করতেন না। মহানবী (সা.)’র প্রতি দুরুদ ও সালাম পেশ করে আমরা লাভবান হতে পারি। প্রকৃত মুমিন হতে হলে প্রিয় রাসূল (সা.) কে নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক ভালবাসতে হবে। নবীজীর সুন্নত অমান্যকারীরা কাফের।

বিপুল সংখ্যক মুসল্লী মাহফিলে যোগ দেয়। পরে মুসলিম উম্মাসহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুসল্লীদের মাঝে তবারু বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.