khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

রমনা পার্ক মাদকসেবী ছিনতাইকারীদের আখড়া, খদ্দেরের খোঁজে পতিতা ও সমকামীদের ভিড়, প্রতারক চক্রের ফাঁদে দর্শনার্থীরা

0 14

সাম্প্রতিক সময়ের নানা সমস্যায় অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে রমনা পার্কের পরিবেশ। প্রায় দেড় কোটির অধিক জন-অধ্যুষিত শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ও মুক্ত জায়গা হিসেবে স্থান করে নেওয়া পার্কটি এখন সন্ধ্যার পর চলে যায় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্যকলাপকারীদের দখলে। প্রতারক ও অসাধু ব্যবসায়ীদের নানা রকম প্রতারণার ফাঁদে পড়ার সাথে বখাটেদের উত্পাতের শিকার হচ্ছেন পার্কে বেড়াতে আসা লোকজন।

১৬১০ সালে ঢাকায় মোগলদের শাসন পাকাপোক্ত হওয়ার পর তারা ‘বাগ-ই-বাদশাহী’ বা বাদশাহী বাগান নামে এ পার্কের গোড়াপত্তন করেন। মোগল সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সৌন্দর্য হারালেও সময়ের সাথে সাথে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নৈসর্গিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯০৮ সালে পুনরায় পার্কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। জন্মকাল ১৯৪৯ সাল ধরা হলেও পার্কের বর্তমান আধুনিক কাঠামো দেওয়া হয় ১৯৫২ সালে। মোগল আমলে গড়ে ওঠা উদ্যানটির স্থান-পরিসর কমে গিয়ে বর্তমানে সাড়ে ৬৮ একরে দাঁড়িয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পার্কটির অভ্যন্তরের ৮১২ মিটার লম্বা লেক রয়েছে। পার্কে মোট আটটি ফটক আছে। ভোর ৬টায় খুলে রাত ৮টার পর ফটক বন্ধ করা হয়। তবে নানা অনিয়মের ফলে পার্কের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিটি ফটকের সামনে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন লেখা থাকলেও মানা হচ্ছে না যথাযথভাবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়া বেঞ্চ, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার, অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযু্ক্ত পানিতে ভরা লেকের পাড় পরিণত হয়েছে ঝোপঝাড়ে। দেখভালের দায়িত্বে থাকা আনসার ও অন্যান্য সদস্যদের সামনে লোকজন সাবান দিয়ে কাপড় ধোয়াসহ লেকের পানিতে গোসল করছে। তবে পরিবেশগত এ সমস্যাকে ছাপিয়ে বড় আকার ধারণ করেছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য এখন পার্কটিতে সাধারণ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান অনেকে। রয়েছে মাদকসেবী, ভাসমান যৌনকর্মী, পকেটমার, বখাটে ও ছিনতাইকারী ও হকারের দৌরাত্ম্য। মাদকের পাশাপাশি পার্কে আছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

একজন বাদাম বিক্রেতা বলেন, পার্কের ভেতরে বিভিন্ন অপকর্ম হয়। দিনে একটু কম হলেও সন্ধ্যার পর বেড়ে যায়। এ সময় পার্কে অবস্থান করা সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে কিছু বখাটে। অনেক সময় জোর করে টাকা-পয়সাও ছিনিয়ে নেয়। ছিনিয়ে নেওয়া টাকা-পয়সার একটা অংশ পায় আনসার সদস্যরা।

জানা যায়, রাত আটটার পর সর্ব-সাধারণের পার্কে অবস্থানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শতাধিক লোক জোরপূর্বক পার্কের ভেতরে থেকে যায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত তারা অবস্থান করে। তাদের বেশিরভাগ মাদকসেবী। এদের মধ্যে বাকিরা সমকামিতাসহ নানা রকম অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত। এসব অপরাধের সহায়তায় পার্কের নিরাপত্তা কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পার্কের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত গণপূর্ত অধিদফতরের কার্য-সহকারী শামসুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য গেট বন্ধ করা হলেও চাইনিজ রেস্টুরেন্টের গেট দিয়ে কিছু লোক পার্কে ঢুকে সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানানো হলেও তারা এদিকে তেমন আগ্রহ দেখাননি। তিনি বলেন, পার্কে বখাটে যুবক ও ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন আগের চেয়ে বেশ ভালো অবস্থা। পার্কে কোনো হকার থাকার নিয়ম নেই। যদি বখাটে, ছিনতাইকারী কিংবা হকার থাকে তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইনুল হোসেন বলেন, রমনা পার্কের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাপার অবহিত হলে সেক্ষেত্রে পুলিশ সহায়তা করে। পার্কের আশে পাশে পুলিশের সামনে ঘটতে থাকা ছিনতাই-এর ব্যাপারে তিনি অবগত নন। তবে টহল পুলিশের সদস্যরা এর আগে বেশ কয়েক বার ছিনতাইকারী আটক করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply