khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা : সাক্ষ্যের আলোকে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ

0 33

ঢাকা: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মামলায় সাক্ষিদের দেয়া জবানবন্দির আলোকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আজ ২৫তম দিনে সাক্ষিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আজ যুক্তিতর্ক পেশের ২৫তম দিনে এসে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন সাক্ষি (পিডব্লিউ) ও আসামীপক্ষে ২০ জনের সাফাই সাক্ষ্য (ডিডব্লিউ) পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন।

তিনি বাসস’কে বলেন, এসব সাক্ষ্যের অংশ বিশেষ আমরা আদালতে যুক্তিতর্কে পেশ করেছি। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমানে ফ্যাক্ট তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামীপক্ষে দেয়া সাফাই সাক্ষ্য তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমানে সহায়ক হবে। যা রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে আদালতে উপস্থাপন করেছে। তিনি বলেন, আগামী ১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আইনি পয়েন্টে বক্তব্য পেশ করবে এবং বিভিন্ন আলোচিত মামলার নজির উপস্থাপন করবে। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করতে পারবে (সামআপ) বলে আশা প্রকাশ করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ আজ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ১ জানুয়ারি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, আগামী ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি এ মামলার কার্যক্রম টানা চলবে। পরবর্তী ধার্য তারিখে আসামীপক্ষকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রধান কোঁসুলি যুক্তিতর্কে বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার আসামীদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করে, দেশকে অস্থিতিশীল ও জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালিত হয়। তিনি এ মামলার এজাহার, বিভিন্ন কর্মকর্তার তদন্ত, বিভিন্ন আলামত নষ্ট করার ঘটনা, আসামীদের নির্বিঘেœ পালিয়ে যেতে সহায়তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসমূহ পর্যালোচনা করে যুক্তি পেশ করেন। ঘটনা ঘটার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে জড়িত কর্মকর্তাদের ভূমিকা যুক্তিতর্কে তুলে ধরেন। ২১ আগষ্ট ঘটনার পূর্বে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সভা, সভাস্থল, জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-প্রমান সাক্ষ্যের আলোকে যুক্তিতর্কে তুলে ধরেন।

যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক, বিভিন্ন সরকারী ও প্রশাসনিক সহযোগিতার তথ্য-প্রমাণ পেশ করেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবন, বিএনপি-জামায়াাত সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু’র সরকারী বাসভবনসহ ষড়যন্ত্রমূলক সভার স্থানসমূহ তথ্য-প্রমাণের আলোকে তুলে ধরা হয়।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগীদের পরিচালিত বিভিন্ন তৎপরতার তথ্য যুক্তিতর্কে পেশ করেন। প্রকৃত আসামীদের আড়াল করতে নিরীহ জজমিয়া সহ অন্য নিরীহদের মামলায় সম্পৃক্ত করার সঙ্গে দায়ী আসামীদের বিষয়ে যুক্তি পেশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রী, প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা, প্রশাসনের প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তাগনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরস্পর যোগসাজসে ঘটিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিচারপ্রার্থী মানুষেরা ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পি.পি মো. আবু আব্দুল্লাহ্ ভুঞা, আবুল কালাম আজাদ, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কাজী ইলিয়াসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে বিভিন্ন আইনজীবী আদালতে আজ উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব:) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পত্নী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply