khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

হাজীরা পারেন শান্তির পথ দেখাতে

38

দিশেহারা মানুষ, শীথিল পারিবারিক বন্ধন, স্বার্থদ্বন্ধে জর্জরিত সমাজ অশান্তির দাবাণল জ্বলছে দিকে দিকে। সর্বত্র মহা বিপর্যয়ের ভয়ংকর আশংকা দেখা দিয়েছে। ঠিক এমন সময় মানুষ হিসেবে কেউ নির্বিকার থাকতে পারেনা। প্রত্যেকের কিছু না কিছু দায়িত্ব আছে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার। বিশেষ করে হাজীগণই পারেন বিশ্ব শান্তি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন হাজী মহা সম্মেলন থেকে। ১০ ডিসেম্বর রবিবার সুন্নাতি হজ্ব ও ওমরাহ গ্রুপের উদ্যোগে এবং আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে জ্যামাইকা হাজ্বী ক্যাম্প মসজিদে এই হাজী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের সভাপতি আলহাজ্ব মির্জা মশিউর রহমান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ”হাজীর মর্যাদা যেমন বড় দায়িত্ব তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। দাওয়াহ কাজই হবে হাজীর প্রধান বৈশিষ্ট্য”। হাজী ক্যাম্প মসজিদের সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার হাজী মেহমানদারদেরকে স্বাগত জানিয়ে হজ্ব পরবর্তী করণীয় স্মরণ করিয়েছেন। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ট্রাস্টিবোড চেয়ারম্যান ডাঃ বিল্লাহ শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, বিপুল সংখ্যক হাজীবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি অবিভুত। তিনি আরো বলেন, সময়ের দাবী ঐক্যবদ্ধ মুসলিম কমিউনিটি। মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, হজ্বের আদাব থাকতে হবে হাজীদের দৈনিন্দিন জীবনে।

হাজী ক্যাম্প মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ রফিকুল ইসলাম বলেন, হজ্ব ও হাজীর অনেক বড় মর্যাদাই বলে দেয় এই মহতি অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক প্রয়োজনীয়তা। আমাদের উচিত নেকের প্রতিটি কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা। ইকনা মারকায মসজিদের ইমাম ও ডাইরেক্টর হাফেজ জফীর আলী বলেন, হজ্বের উপর ঠিকে থাকার ক্রমাগত চেষ্টা চালাতে হবে। জেএমসির ইমাম মির্জা আবু জাফর বেগ সর্বোপরি তাওবাহ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। জামেয়া কোরআনীয়া মাদ্রাসার মোহতারাম হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম আবেগ ভরা কন্ঠে বলেন, বৈষয়িক সুযোগ সুবিধার চেয়ে খালেছ ইবাদতের প্রতি বেশি মনযোগী হওয়া উচিত। আল্লামা তারেক মুনাওয়ার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, হাজীদের পারিবারিক জীবনে হজ্বের শিক্ষার প্রতিফলন হওয়া জরুরী।

অনুষ্ঠানের পরিচালক মুফতি আব্দুল মালেক অনুষ্ঠান ঘোষণার সময় বলেন “ বায়তুল্লাহর আকর্ষণ আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শন। তাকওয়া হাজীদের ভূষণ। হজ্বের স্মৃতিচারণ ঈমানের উজ্জীবণ তাওবাহ ও দোয়ার আয়োজন এই মহতি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ সকলের প্রয়োজন।

SONY DSC

পরিশেষে এই মহা সম্মেলন থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ঘোষণা করছেন: সম্মানিত হাজী ভাই-বোনদের সহযোগীতায় সমাজকে অব্যাহতভাবে আলোকিত করা এবং হাজীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে ”হাজী কল্যাণ পরিষদ” বা ঐধলর ঈধৎব গরংংরড়হ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। যার সম্মনিত আহবায়ক বৃন্দ হলেন: আলহাজ্ব মির্জা মশিউর রহমান, আলহাজ্ব শামসুল হক, আলহাজ্ব মুহাম্মদ শাহ আলম,আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু সাঈদ,আলহাজ্ব মঈন উদ্দিন, আলহাজ্ব মুহাম্মদ মেছবাহ উদ্দীন, আলহাজ্ব মুহাম্মদ হোছাইন খান, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর সরকার, আলহাজ্ব মাওলানা সানা উল্লাহ, আলহজ্ব মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, রোকসানা আলম, ইসরাত জাহান উদ্দিন, কহিনূর বেগম, শামসুন নাহার, তানিয়া রহমান (তাহেরা আল কোরআন একাডেমির পৃষ্ঠপোষক)

এই মহান সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি, আলবেনী, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া ও অন্যান্য স্থান থেকে বহু সংখ্যক হাজীবৃন্দ জমায়েত হয়েছেন। ইকনা মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল ও অগঈ সদস্য মাওলানা আতাউর রহমান, গগঈ ইনচার্জ মাওলানা মানজুরুল কারীম, সমাজ সেবক শামসুদ্দীন ও মনির উদ্দীন সহ অন্যান্য উলামা এবং সুধী মন্ডলীর উপস্থিতি মজলিসের শোভা বৃদ্ধি করে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.