khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

ফ্রান্স আওয়ামী লীগের বাতিঘর একজন এম এ কাসেম

439

সেলিম উদ্দিন: প্যারিস : ফ্রান্স আওয়ামী লীগের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম এম এ কাসেম। নোয়াখালীর চৌমুহনী শহর ছাত্রলীগের কর্মী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা। বর্তমান ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। সন্ত্রাস বিরোধী মনোভাব ও মানবিক মুল্যবোধ সম্পন্ন এ ছাত্রনেতা ছাত্র রাজনীতিতে ছিলেন রোল মডেল। ১৯৫৪-এর ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার বেগম গঞ্জ থানার হাজিপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মনেন এম এ কাসেম। চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও চৌমুহনী এস. এ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে,তখন নোয়াখালী সদরে যেই কয়জন এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তাদের মধ্যে এম এ কাসেম অন্যতম একজন।

১৯৭৩ সালে নোয়াখালী চৌমুহনী শহর ছাত্রলীগের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নোয়াখালীর আওয়ামী রাজনীতির প্রাণপুরুষ নুরুল হকের জৈষ্ঠ্যা কন্যা ও ডি জি এফ আইয়ের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল আকবর হোসেনের মা মোসাম্মৎ রহিমা খানম মনির নেতৃত্বে সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রদের কে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। গঠন করেন নব-উম্মেষ ক্লাব। চৌমুহনী নব-উম্মেষ ক্লাবের মাধ্যমে তারা ১৫ আগষ্ট হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে কাজ করেন। সে সময় মোছাম্মৎ রহিমা খানম মনি নব-উন্মেষ ক্লাবের সভাপতি ও এম এ কাশেম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। আশির দশকের দিকে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভর্তি হয়ে পড়া লেখার ফাঁকে ফাঁকে ছাত্রলীগ কে সংগঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল আওয়ামী রাজনীতির প্রতিকুলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবিরের দুর্গ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেন এম এ কাশেম। ১৯৮১ সালে ছাত্রলীগের প্যানেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এ জি এস পদপ্রার্থী হওয়ার পর থেকে জামায়াত শিবিরের রোষানলে পড়েন তিনি।জামায়াত শিবির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকে, এক পর্যায়ে প্রাণ নাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে দেশান্তরী হয়ে ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে ফ্রান্সে চলে আসেন। কথায় আছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে- যার ভেতর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনা লুকায়িত সে কখনো ঘরে বসে থাকতে পারেনা। সুদুর প্রবাসে এসেও বসে থাকেননি। ঐ বছরই ফ্রান্সে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের সংগঠিত করার কাজে হাত দেন। ব্যাপক সাড়া মেলে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে গঠন করেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি। সে কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হন তিনি। পরবর্তীতে সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সে থেকে বেশ কয়েকবার সংগঠনের প্রয়োজনে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরু দায়িত্ব পালন করেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। ১৯৯২ সালে আ্যডভোকেট জান্নাত রেহেনা মনির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুভ অনুষ্টানে উপস্থিত থেকে কাসেম-মনি জুটিকে আর্শিবাদ করেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে এম এ কাসেম বলেন,নেত্রীর সেই আর্শিবাদ আমার চলার পথে পাথেয়। শেখ হাসিনার মতো দেশবৃক্ষের ছায়াতলে আমরণ নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।
আওয়ামী লীগ সহ সকল সহযোগী সংগঠনের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করতে দিন রাত পরিশ্রম করেন।

কোথায় নেই তিনি! সকল ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার উপস্থিতি শতভাগ। ইউরোপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান আওয়ামী লীগ কর্মীদের শক্তিশালী ও উজ্জীবিত করতে। জননেত্রী শেখ হাসিনা ইউরোপের যেদেশেই আসুক না কেনো তার উপস্হিতি সবার অগ্রভাগে।তিনি একজন অনলবর্ষী বক্তা; বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা তার মুখ থেকে শুনতে কর্মীরা মন্ত্রমুগ্ধের মত মুখিয়ে থাকে।

সদালাপী, শিক্ষিত, সজ্জন, একজন সাবেক সফল ছাত্রনেতা, মেধাবী ও আধুনিক চিন্তা চেতনাত্মক রাজনীতিবিদ হিসাবে তার কোন জুড়ি নেই।

এম এ কাসেম তার রাজনৈতিক ভাবনা নিয়ে বলেন, ২০২১ সালের ভিতর বাংলাদেশ কে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের ভিতর একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুর সু-যোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার পাশে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলে ও পাশে থাকার দৃঢ অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। বঙ্গবন্ধু আমার জীবনের আদর্শ,আওয়ামী লীগ আমার ঠিকানা,শেখ হাসিনা আমার পথ প্রদর্শক এবং নৌকা আমার প্রতীক। এটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের শিকড়।

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে এম এ কাসেম কর্মী থেকে হয়ে উঠেছেন জননেতা। ফ্রান্স আওয়ামী লীগের দু:সময়ে অনেক দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী যোগ্যতা দিয়ে। অগণিত কর্মী সৃষ্টি করা এই নেতাকে সবাই সমানে ভালোবাসে।কারণটাও সহজভাবে বুঝা যায়,তিনি একজন তৃণমূল কর্মী বান্ধব সৎ, পরোপকারী ভালোমনের রাজনৈতিক মানুষ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, দীর্ঘ চার বছর থেকে উনার মুমুর্ষ স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্হায়ও দলীয় কোন কর্ম কান্ডে পিছপা হননি। সংগঠন প্রিয় এই নির্মোহ মানুষ রাজনীতিতে বড় প্রয়োজন।

লেখক: সংগঠক। (ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.