khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

দক্ষিণ কোরিয়াতে স্থায়ী শহীদ মিনার উদ্বোধনঃ বাঙ্গালীর গর্বের শহীদ মিনার আজ বৈশ্বিক প্রতীক

75

লন্ডন, টোকিও, রোমসহ আরও কয়েকটি শহরের সাথে যুক্ত হল নতুন একটি নাম-আনসান। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের অদূরে আনসান শহরের অবস্থান। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছাড়াও চাইনিজ, ইন্দোনেশীয়, ভিয়েতনামিজ, শ্রীলংকান সহ অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠী মিলে শহরটি যেন বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতির মিলনমেলা। এই শহরের ”মাল্টিকালচারাল পার্কে” রাষ্ট্রদূত মোঃ জুলফিকার রহমানের উদ্যোগে কোরিয়ার মাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার। ২০০ বর্গফুটের বেদীর উপর নির্মিত ৮ ফুট উচ্চতার মিনারটি স্টিল দিয়ে তৈরী। শহীদ মিনারের জন্য জায়গা বরাদ্দ, নকশা অনুমোদন থেকে শুরু করে নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মাত্র এক বছর সময় লাগে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আনসান সিটি।

গত রোববার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে শহীদ মিনারটির শুভ উদ্বোধন হয়ে গেলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ জুলফিকার রহমান এবং আনসান সিটির মেয়র জনাব জে জং-গিল। নভেম্বরের কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রানের শহীদ মিনার উদ্বোধনের এই ঐতিহাসিক মূহুর্তের অংশ হতে একত্রিত হয়েছিলেন বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অগনিত প্রবাসী বাংলাদেশী। মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছিলেন দূর-দূরান্ত থেকে।

বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাষ্ট্রদূত অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের সাথে নিয়ে শহীদ মিনার উন্মোচন করেন। এরপর রাষ্ট্রদূত, মেয়র এবং বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ভাষাশহীদদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বক্তৃতা পর্বে রাষ্ট্রদূত কোরিয়ান ভাষায় মহান ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্যের উপর আলোকপাত করেন।

১৯৪৮ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মাহুতি এবং এ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূত্রপাত, জাতির জনকের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন, ১৯৯৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টঘঊঝঈঙ কর্তৃক শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা প্রদান এবং তার মাধ্যমে দিবসটি সারা বিশ্বের সব ভাষা রক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠা ইত্যাদি বিষয় তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এছাড়া তিনি শহীদ মিনার তৈরীর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে, বিশেষভাবে আনসান সিটি কর্পোরেশনকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

আনসান সিটি মেয়র তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও জাপানী দখলদারিত্বে থাকাকালীন কোরিয়ার ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার সংগ্রামের মধ্যে সাজুয্যগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আনসান শহরে এ বৈশ্বিক প্রতীক শহীদ মিনারটি স্থাপন করায় তিনি আনসানবাসীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।এ উপলক্ষ্যে দূতাবাস সাংস্কৃতিক দলের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সবাইকে মোহিত করে।

শহীদ মিনারটি তৈরীর মাধ্যমে কোরিয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরন হলো। বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক আজ কোরিয়ার বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে। সবার প্রত্যাশা এই মিনার আগামী দিনগুলোতে বাঙালীসহ অন্যান্য ভিনদেশী ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রে পরিনত হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.