khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

বিচারপতি জয়নুলকে নিয়ে দুদকে চিঠি ‌‌’জনগণের কাছে সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খর্ব করেছে’ সাত পর্যবেক্ষণ দিয়ে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি

0 14

সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না মর্মে দুদককে দেয়া-চিঠি দেশের জনগণের কাছে সর্বোচ্চ আদালতের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি খর্ব করেছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, এ চিঠি আপিল বিভাগ তার প্রশাসনিক ক্ষমতায় দিয়েছে। এটা কোনভাবেই সুপ্রিম কোর্টের মতামত হিসেবে বলার সুযোগ নেই।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণ দিয়ে এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বিশেষ নজর রাখতে হবে, যাতে অকারণে বিচারপতিদের মর্যাদাহানি না ঘটে বা তারা হয়রানির শিকার না হন। এর সঙ্গে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও মর্যাদার বিষয় জড়িত।

রায়ে বলা হয়, দুদককে দেয়া চিঠি জনগণের মধ্যে এই বার্তা দিয়েছে যে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফৌজদারি বিচারের ক্ষেত্রে দায়মুক্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ দায়মুক্তি পেতে পারে না। তবে রাষ্ট্রপতি শুধুমাত্র তার পদে বহাল থাকাবস্থায় এ দায়মুক্তি পাবেন। এছাড়া বিচারপতি জয়নুলের বিরুদ্ধে সাত বছর ধরে চলা অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার দুদকের ব্যর্থতা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত।

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই বিচারপতি জয়নুলকে নোটিশ দেয় দুদক। ওই নোটিশের প্রেক্ষিতে তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করেন। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সুষ্ঠু যাচাই/অনুসন্ধানের স্বার্থে রেকর্ডপত্র/কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা জন্য গত ২ মার্চ রেকর্ডপত্র চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দেয় দুদক। তখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে চিঠি দিয়ে দুদককে বলা হয়েছিল, বিচারপতি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘ সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মামলার রায় প্রদান করেন। অনেক ফৌজদারি মামলায় তার দেয়া রায়ে অনেক আসামির ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি জয়নুলের দেয়া রায় সকলের উপর বাধ্যকর। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তার দেয়া রায়সমূহ প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক হবে। ফলে তার বিরুদ্ধে কমিশনের কোনরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচিন হবে না।

দুদককে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের এই চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ১০ অক্টোবর রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করে গত ৩১ অক্টোবর হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন। মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়, এটা বিবেচনার বিষয় যে ইতমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা তথ্য দুদককে সরবরাহ করেছে। দুদক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। এ অবস্থায় উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ দিয়ে রুলটি নিষ্পত্তি করা হলো।

রায়ের পর বিচারপতি জয়নুলের আইনজীবী ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে সাত বছরেও অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারায় দুদকের সমালোচনা করেছে হাইকোর্ট। এ রায়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।

দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, এ রায়ে প্রমানিত হয়েছে বিচারপতি জয়নুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বন্ধে সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া চিঠি অবৈধ। ওই চিঠির আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। ফলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাতে কোনো বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, এ রায়ের ফলে অনেক বিতর্কের অবসান হবে। এ রায় অত্যন্ত ভাল রায়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply