khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

এবার ভেলায় করে নাফ পার হচ্ছে রোহিঙ্গারা

0 18

নিজ দেশ মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নাফ নদী পাড়ি দিতে ভেলার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তৃতীয় দিনের মতো শুক্রবার সকালে ১০টি বিশেষ ভেলায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে এসেছে আরও ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষ। এ নিয়ে গত তিনদিনে ভেলায় ভেসে প্রায় ৭শ’ বিপদাপন্ন রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে রোহিঙ্গাদের ১০টি ভেলা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের জারিয়াপাড়ার ওপারে মিয়ানমারের জলসীমানায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়েছিলাম। ভেলার চারপাশে সে দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কয়েকটি স্পীডবোটও দেখা যাচ্ছিল। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা নৌকা সংকটের কারণে প্লাস্টিকের জারিকেন, কাঠ, বাঁশ ও দড়ি দিয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ বর্গফুটের ভেলা তৈরী করে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে আসছে। গত বুধবার একটি ভেলায় ৫২ জন, বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি ভেলায় ১৩২ জন নিরাপদে বাংলাদেশের তীরে ভীড়েছে। হয়তো এটি জানতে পেরেই ভেলার উপরই নির্ভরতা বাড়াচ্ছে বিপন্ন রোহিঙ্গারা।

বিজিবি কর্মকর্তা আরও বলেন, নাফ নদীর বিশাল অংশ এভাবে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে যেকোনো সময় ভেলা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি নিয়মবর্হিভূত ভাবে জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকলেও মানবিকতার কারণে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে একটি স্থানে জড়ো করে। খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে উদ্ধার রোহিঙ্গাদের পাঠানো হয়। এভাবে আগতরা কোন ধরণের মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র আনছে কিনা তা দেখতে ক্যাম্পে পাঠানোর আগে তল্লাশি করা হয়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, এভাবে ভেলায় করে নদী পার হওয়া উদ্বেগজনক। যে কোন সময় সলিল সমাধির খবর আসতে পারে। ফলে আতঙ্কে রয়েছি আমরা। খবর নিয়ে জেনেছি মিয়ানমারে দু’মাস আগে শুরু হওয়া নিপীড়ন এখন বন্ধ রয়েছে। উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়ার খবরে এখনকার রোহিঙ্গারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন খান বলেন, চলতি রোহিঙ্গা সংকটের পর বেশ কিছু মাছ ধরার নৌকা অর্থের বিনিময়ে ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের এপারে এনেছে। মাঝখানে নানা কারণে ডুবে গেছে রোহিঙ্গা বোঝাই ২৮টি নৌকা। ফলে সলিল সমাধি হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক নারী-শিশু ও পুরুষের। ফলে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু এড়াতে নৌকার মালিক, মাঝি ও দালালসহ ৪৫২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়। সাজার ভয় ও সীমান্ত প্রহরীদের কড়া পাহারার কারণে এখন নাফনদে ও সাগরের টেকনাফ অংশে বোট নামা এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কৌশল পাল্টে ভেলা বানিয়ে রোহিঙ্গারা নাফনদী পার হচ্ছে। ভেলা আসা শুরু হওয়ার পর কিছু নৌকা রাতের আঁধারে রোহিঙ্গা নিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। তাদের রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এখন আবারও সোচ্চার হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply