বঙ্গবন্ধুর বিশ্বজয়ী ভাষণ

89

বিশ্বজিত রায়: গত ১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষক সম্পর্কিত দুটি সংবাদ আলাদাভাবে প্রতিটি খবরের কাগজে ফলাও করে প্রকাশ পেয়েছে। গণমাধ্যমে উঠে আসা দুটি সংবাদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ভিন্নরকম কৌতূহল সৃষ্টি করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। অন্যদিকে টক শোর টেবিলকে করেছে আরও শক্তিশালী। সংবাদ দুটি একেকজনের কাছে একেকরকম তাৎপর্য বহন করেছে। খবর একটিতে যেমন রয়েছে তুষ্টিদায়ক গল্প, তেমনি অন্যটিতে রয়েছে বিভ্রান্তিমূলক ইতিহাসচর্চার অনুষঙ্গ। এতে কোনো পক্ষ রাগে-ক্ষোভে জ্বলছে আর কোনো পক্ষ খুঁজে পেয়েছে ভ্রান্ত বাহাদুরির রসদ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির মধ্যে এ মৌন প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জান্তা ইতিহাসবিদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিশ্বাসী মানুষগুলোই কেবল উপলব্ধি করতে পারবেন কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা। আর যারা পাকি পাপিষ্ঠদের প্রেমে মত্ত তারাই কেবল ইতিহাস বিকৃতির নিন্দিত কর্মকাণ্ডে গা ভাসিয়ে অসত্য কথাবার্তা শুনিয়েই যাবেন।

১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে এ স্বীকৃতির কথা জানান। এতদিন পরে হলেও ইউনেস্কোর এ সিদ্ধান্ত আমাদের কৃতজ্ঞতার ডোরে আবদ্ধ করেছে। এর ফলে আত্মমর্যাদা ও ঐতিহ্যের দিক থেকে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের বিশ্বজাগানিয়া ভাষণ বিশ্ববুকে আবারও ঝড় তুলল।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ী দলিল। পৃথিবীর নিষ্পেষিত সব জাতিগোষ্ঠী এবং নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালিকে বিপ্লবীমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হওয়ার প্রতিবাদী পরামর্শ ও উপদেশ-নির্দেশ নিহিত রয়েছে এ বক্তব্যে। এটি সাধারণ কোনো ভাষণ নয়। একটি জাতির মুক্তির মহামন্ত্র এবং যুদ্ধজয়ের সব দিকনির্দেশনা ও স্বাধীনতা ঘোষণার ঝাঁঝালো বচন অর্থাৎ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’; ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ’ শিহরণ জাগানিয়া এ উক্তিদ্বয়ের মতো বিশ্বকাঁপানো অনেক কথাবার্তা উঠে এসেছে সেদিনকার রেসকোর্স ময়দান মঞ্চে। একাত্তরের সাতই মার্চ ধরিত্রী দেখেছে এক তর্জনী ইশারা উত্তাল জনসমুদ্রে কীভাবে বিক্ষুব্ধ ঢেউ তুলেছিল। লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, ‘তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব!’ পরাধীন পূর্ব পাকিস্তানের আনাচে-কানাচে থেকে পিপীলিকার পিলপিল পায়ে লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষ এমন প্রতিবাদী স্লোগানে সেদিন মুখরিত করেছিল রেসকোর্স সমাবেশস্থল।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ ভাষণটি কেন শ্রেষ্ঠ তার তাৎপর্য খুঁজতে গেলে অনেক সর্বোত্তম উপমাই সামনে চলে আসে। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোকেও হার মানিয়েছে বঙ্গবন্ধুর এ জগৎশ্রেষ্ঠ ভাষণ। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর শির উঁচানো বজ্রকঠিন সাহসী ভাষণের সমপর্যায়ে তাল মেলাতে পারবে এমনটি ইতিহাস সাক্ষী দিতে পারবে কিনা জানা নেই। বিশাল মাঠের কানায় কানায় পূর্ণ উৎকণ্ঠিত মানুষের উপস্থিতি, শত্রুপক্ষের বন্দুক তাক করা উপেক্ষিত হুমকি, অসুস্থ শরীরের তেজোদ্দীপ্ত তর্জনী দামামা এবং বিশ্ব মোড়লদের পক্ষপাতমূলক শকুন দৃষ্টি ও মানবতাবোধ জাগ্রতসম্পন্ন বিশ্বের সজাগ চাহুনি যেখানে মিশে একাকার হয়েছিল সেই জীবন বাজির অতি উত্তম মুক্তিমন্ত্র একটি জাতিকে কী দিতে পেরেছিল তা ইতিহাস নির্ধারণ করবে যুগে যুগে। যার একটি বড় উদাহরণ বৈশ্বিক সংস্থা জাতিসংঘ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি।

বঙ্গবন্ধুর এ বিস্ময় জাগানিয়া ভাষণকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনেকে অনেকভাবে নিজেদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন। ইতিহাসবিদ ও লেখক জ্যাকব এফ ফিল্ডের লেখা ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস : দ্য স্পিচেস দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ গ্রন্থে গত আড়াই হাজার বছরে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী যুদ্ধকালীন বক্তৃতাগুলো স্থান পেয়েছে। সেখানে গুরুত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্থান পেয়েছে। ভাষণ শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক নিবন্ধে দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম লিখেছেন ‘আমার অবয়বকে আমি যথার্থই ছাড়িয়ে যাচ্ছিলাম। দেহ আমার দীর্ঘ হচ্ছিল। শরীরে আমার রোমাঞ্চ জাগছিল। সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছিল। আর তাই পাকিস্তানি জঙ্গিবিমানগুলো আমার মাথার ওপর দিয়ে সগর্জনে যখন যাওয়া-আসা করছিল এবং সে বিমান থেকে যে কোনো মুহূর্তে যে মৃত্যুর বান আমার বুকে এসে বিঁধতে পারে, সে কথা জেনেও আমার পা একটুও কাঁপছিল না।’ গাজী আজিজুর রহমানের বর্ণনায় ‘সেদিনের ১৯ মিনিটের বিকালটা ছিল শুধু তার। সেদিন আর কোনো দৃশ্য ছিল না তার দৃশ্য ছাড়া। সেদিন আর কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না তার কণ্ঠস্বর ছাড়া। সেদিন একটিমাত্র নদী কলরিত ছিল বাংলায়। সেদিন তিনিই ছিলেন বাংলার দিনমণি-অংশুমলী।’ ভাষণটিকে অতি বাস্তব, ইতিহাসনিষ্ঠ, ঐশ্বর্যমণ্ডিত বলিষ্ঠ, কবিত্বময়, নাটকীয় এবং একটি নিষ্পেষিত জাতির মুক্তির দলিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। লিখেছেন ‘কথোপকথনের ভঙ্গিতে সাবলীল ভাষায় বর্ণিত এর আবেগ, সজীবতা, নাটকীয়তা, দিকনির্দেশনা, প্রমিত আঞ্চলিক বিদেশি ভাষার মিথস্ক্রিয়া, আপনি তুমি সর্বনামের সম্ভ্রমমূলক ব্যবহার, বজ্রকণ্ঠের বাগবৈদগ্ধ, সম্মোহিত করার জাদুকরী আকর্ষণ, মন্ত্রমুগ্ধতা, যুদ্ধ ঘোষণা করেও যুদ্ধে অবতীর্ণ না হওয়ার কৌশল সব মিলে একই অঙ্গে এত রূপের প্রাচুর্যের কারণেই এই ভাষণের শ্রেষ্ঠত্ব।’ একই রকম আবেগ নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্লেষণ করেছেন ড. আবুল হাসান চৌধুরী। তার বর্ণনাটি এ রকম ‘এক বিশাল জনগোষ্ঠীর হৃদয়স্পর্শী ৭ মার্চের ভাষণটি ১৯৭১ সালের মুক্তিকামী বাঙালির আবেগ, উদ্দীপনা ও সংগ্রামী চেতনার দ্যোতনায় অসাধারণ কবিত্বময় এর ভাব, ভাষা, উপমা ও উচ্চারণ গণমানুষের উন্মুখ অন্তরকে স্পর্শ করতে সক্ষম।’

বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে অনর্গল বেরিয়ে আসা একেকটি কথা যেন একেকটি ঐতিহাসিক শিরোনাম। সময়োপযোগী সাবধানী বার্তার আদলে পশ্চিমাদের অঙ্গুলি প্রদর্শনের পাশাপাশি মুক্তিপাগল দিশেহারা বাঙালিকে একত্রিতকরণ, স্বাধীনতা সংগ্রামের জোর প্রস্তুতির তাগাদা ও যুদ্ধকালীন পথনির্দেশনাসহ নিজের অনুপস্থিতিতে কী করতে হবে তার সমগ্র নিয়মানুবর্তিতা বঙ্গবন্ধু বাতলে দিয়েছেন সাতই মার্চের মহাকাল বিজয়ী এই কাব্যিকময় ব্যবস্থাপত্রে। যেন কবিগুরুর নিজ হস্তে লেখা স্বাধীনতাপত্র বাঙালি ও বিশ্ববাসীকে পাঠ করে শুনিয়েছেন কোনো এক গুণমুগ্ধ পাঠক। না, বঙ্গবন্ধুর ব্যাঘ্রকণ্ঠে উচ্চারিত এই ভাষণের পূর্ণাঙ্গ অলঙ্করণ কোনো কবি-সাহিত্যিকের হাত ধরে রচিত হয়নি। মহাকালের মহাকবি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর নিজ ভাষাবোধ থেকেই বেরিয়ে এসেছে একাত্তরের সাতই মার্চের অগ্নিকুণ্ডলীয় উত্তাপী বক্তব্য, যা যুগে যুগে বিশ্বের পীড়িত মানুষকে জ্বলে উঠতে সহায়তা করবে।

স্বাধীনতা সংগ্রামের সিংহপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী বক্তৃতার প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে এবার আসি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। একটি পরাধীন ভূখণ্ডের স্বাধীনতা ও বাঙালির চিরমুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু কী করে গেছেন তা ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় বর্ণিত আছে সগৌরবে সমহিমায়। ইচ্ছে করলেও কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এ গৌরবের সম্মানজনক স্থান থেকে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। ইতিহাস ইতিহাসের আপন গতিতে চললেও পাকিগোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃতির চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা তাদের মতন করে সাজাচ্ছে ইতিহাসের ভ্রান্ত পাতা। স্বাধীনতার ঘোষক ও ঘোষণার ঐতিহাসিক দলিলে যার নাম রয়েছে প্রথম কাতারে তাকে বাদ দিয়ে ওই স্বাধীনতাবিরোধী চক্র নিজেদের আখের গোছাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইতিহাসের মীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে তারা টানাহেঁচড়ায় মত্ত রয়েছে। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে ইতিহাস পাল্টানোর ঘৃণ্য খেলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

এ দেশীয় ইতিহাস বিকৃতকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে একাত্তরের ঘাতক পরাজিত শক্তি নির্লজ্জ বেহায়া রাষ্ট্র পাকিস্তান। এটাই তাদের প্রথম অপচেষ্টা নয়। এমন দুষ্কর্মের জন্য তাদের বারবার সাবধান করেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের ‘পাকিস্তান অ্যাফেয়ার্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যেখানে বলা হয়, ‘শেখ মুজিবুর রহমান নন, জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। আর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদ এ ব্যাপারে তখনকার মেজর জিয়াকে সমর্থন দেন।’ ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন গত ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তাদের ফেসবুক পেজে ওই ভিডিও শেয়ার করলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে খবর আসে। পরে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করে ভিডিও প্রচারের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভিডিও প্রচারের জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। তবে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশন আপত্তিকর ভিডিওটি সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে দেশটি।

অভিশপ্ত পাকিস্তানের নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও নীতিভ্রষ্ট কর্মকাণ্ড ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বসেও তারা বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করে এ দেশের কোটি বাঙালিকে বারবার আঘাত করছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি কার্যকর করার সময় তারা অনেক লম্ফঝম্প করেছে। কিছুদিন আগে মিথ্যা ও বিতর্কিত তথ্য দিয়ে একটি বই প্রকাশ করে পাকিস্তান বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একই ধারায় এবার পাকিস্তান হাইকমিশন ঢাকায় বসেও ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের ঔদ্ধত্য সীমা অতিক্রম করছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, ‘আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক কে, নেতৃত্ব কার ছিল সবই নির্ধারিত বিষয়। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পরপরই বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, পরদিন তা সারা দুনিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিবেদনে তা এসেছে। এমনকি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিকের বইয়েও সেই ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়েও এই সত্য স্বীকার করা হয়েছে। তার পরও পাকিস্তান হাইকমিশন কেন এমন ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টায় নেমেছে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।’

নির্লজ্জ বেহায়া ভূখ- ও অভিশপ্ত পাকিস্তানকে একাত্তরে পরাজয় স্মৃতি এখনো তাড়া করছে। বঙ্গদেশীয় পাক প্রেতাত্মাদের নিয়ে ঘৃণ্য পাকিস্তান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ও গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতাকে সমূলে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস, স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বোপরি স্বাধীনতা সংগ্রামের সোনালি অর্জন নিয়ে অযাচিত কথাবার্তা বলে এ দেশের স্বাধীন সত্তাকে আক্রমণ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানের এ বেহায়াপনা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। বারবার তারা একই অপরাধ করছে আর আমরা তাদের ডেকে এনে শুধু প্রতিবাদই করে যাচ্ছি। এদের আরও কঠিন জবাব দিতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.