khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

একটি অপরিচিত ফোন কল এবং একটি পরিচিত জন্মদিনের শুভেচ্ছা!

0 42

অরপি আহমেদ: আপন মনেই লেখালেখি করছিলাম। একটু আগে হঠাৎ করেই মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল। নাম্বারটি অচেনা। অচেনা নাম্বার থেকে আসা ফোন কল না ধরবার একটি ব্যাধী আমার ভিতরে বর্তমান আছে। তাই ফোনটি আর ধরা হলনা। একটি সময় ফোনের রিং বন্ধ হয়ে গেল। কিছুক্ষন পর ফোনের স্ক্রীনে ম্যাসেজ ভেসে এল। ম্যাসেজ দিয়েছে কেউ।

অচেনা ফোন নাম্বার থেকে ম্যাসেজ! শুনব কি শুনবনা ভাবতে ভাবতেই কয়েক মুহুর্ত কেটে গেল। নিজের অজান্তেই ম্যাসেজটার প্লে-বাটনে টিপতেই বিশ^বরন্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রোকেয়া আপার কণ্ঠ ভেসে এল। সারা শরীর আর মনপ্রান জুড়ে এক ধরনের ভাললাগায় ভরে উঠল মুহুর্তের মধ্যেই। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। দোয়াও করেছেন। ম্যাসেজটা শেষ হতেই এক ধরনের নিরবতা নেমে এল চারিদিকে। কিছুটা অপরাধ বোধও কাজ করতে শুরু করল মনের ভিতরে। টেবিলের উপর থেকে ফোনটা হাতে নিয়েছি কয়েকবার। আপাকে ফোন করব বলে। কিন্তু একটা অপরাধ বোধ আর সংশয়ের কারনে সাহষ হলনা আপাকে ফোন করার। তাই কাগজ কলম নিয়ে লিখতে বসেছি। আপার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য।

ভাগ্যগুনে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি এবং ওয়াশিংটনের মত একটি জায়গায় বসবাস করছি বলেই আপার সান্নিধ্য লাভ করার সৌভাগ্য হয়েছে। তানাহলে বরন্য এই মানুষটির সান্নিধ্য লাভ কয়জনের ভাগ্যে ঘটে! হাজার হাজার মাইল দুরে বসে রেডিওতে ভয়েস অব আমেরিকা টিউন করে আপার গলার আওয়াজ শুনা ছাড়া অন্যকোন উপায় থাকতনা।

রোকেয়া হায়দার। বিশ্ব গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান। দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে তার সাংবাদিকতার জীবন। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে তিনি এখন বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রধান। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বেতারে খবর পড়ার মধ্য দিয়ে এই বরণ্য ব্যক্তির সাংবাদিকতা জীবন শুরু। ১৯৭৪ সাল থেকেই তিনি সংবাদ পাঠকে পেশা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ বেতারে যোগদান করেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনে। ১৯৮০ সালে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগে যোগদেন। একজন সংবাদ পাঠিকা থেকে এখন তিনি ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগ প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন ।

বাংলা সংবাদ মাধ্যমের এই অনন্য ব্যক্তিত্ব রোকেয়া হায়দার বিশ্বকে দেখিয়েছেন কি করে শাড়ী পরে সাংবাদিকতা করা যায়। তার কাছ থেকে আমাদের মত নগন্য সাংবাদিকরা অনেক কিছু পেয়েছি। তারঁ কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি এবং জেনেছি। আমরা আপার সন্তানতুল্য। আপা আমাদেরকে তার ছোট ভাইয়ের মত করে আদরে স্নেহে বেঁধে রেখেছেন। আপার সান্নিধ্যে এসে অনেকবার ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগে সাক্ষাতকার দেয়ার সুযোগও হয়েছে। আকবার হায়দার কিরন, নিহার সিদ্দিকী, মশিউর রহমান সহ আমরা অনেকেই আপার সান্নিধ্যে আসবার সুযোগ হয়েছে। আমরা সবাই আপার ভক্ত। পেয়েছি তার কাছ থেকে অনেক কিছুই। তবে আপার কাছ থেকে আজকের এই জন্মদিনের যে শুভেচ্ছা পেলাম তা আমার এই জন্মদিনের সবচাইতে বড় শুভেচ্ছা। আপার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। আপা আপনাকে ফোন করার সাহষ হলনা বলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

সারা বিশ্ব এখন ডিজিটালে পরিনত হচ্ছে। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগকে আজকের এই ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী করার যে সংগ্রাম বিশ^বরণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রোকেয়া হায়দার শুরু করেছেন, আমার বিশ্বাস এবং ধারণা, তিনি এই লড়াইয়ে জয়ী হবেন।

আপার প্রতি শুভ কামনা রইল।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply