khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

তাসের দেশ এর অনবদ্য পরিবেশনায় মঞ্চ মাতাল বিসিসিডিআই বাংলাস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা (ভিডিও)

0 44

ওয়াশিংটন: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতনৃতনাট্য তাসের দেশ এর অনবদ্য পরিবেশনায় মঞ্চ মাতিয়েছে বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট বিসিসিডিআই বাংলাস্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। ২১ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ার আর্লিটনস্থ কেনমোর মিডলস্কুলে অনুষ্ঠিত হল ২৭তম উপহার বাংলাদেশ মেলা। বিসিসিডিআই বাংলাস্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই ২৭তম উপহার বাংলদেশ মেলাং বাংলাস্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মনমাতানো নাচে গানে পরিবেশিত হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতনৃতনাট্য তাসের দেশ। বাংলাস্কুল ড্যান্স একাডেমির কোরিওগ্রাফীতে নৃনাট্যের পরিচালনায় ছিলেন মুক্তা বড়ুয়া এবং সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন শামীম চৌধুরী।

খেয়ালি স্বভাবের এক রাজপুত্র। অস্থির ও চঞ্চল প্রকৃতির রাজপুত্রের মধ্যে নেই কোনো নিয়মের বালাই। হঠাৎ মনে হলো রাজ্য ছেড়ে অন্য কোথাও যাবেন। ঠিক যেই ভাবা সেই কাজ। সঙ্গীকে নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে রাজপুত্র পৌঁছুলেন নিয়মের রাজ্য ‘তাসের দেশে’। যেখানে নিয়মনীতি ছাড়া কিছুই চলে না। অথচ রাজপুত্রের আগমনে ঘটল নিয়মের ব্যত্যয়ে।

তাদের দ্বারা প্রভাবিত হলো তাসের দেশের অনেকেই। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজসভাও, ডাকা হলো বৈঠক। সবাই নিয়মের পক্ষে থাকলেও ‘তাসের দেশে’র রানি চলে গেলেন রাজপুত্রের পক্ষে। এমনই ব্যঙ্গ বিদ্রুপে রচিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনৃত্যনাট্য ‘তাসের দেশে’ নিয়ে ২৭তম উপহার বাংলাদেশ মেলার মঞ্চে হাজির হয়েছিল স্কুলের শিক্ষার্থীরা। অনবদ্য পরিবেশনায় মুগ্ধ করেছে উপস্থিত দর্শকদের।

আমেরিকায় থেকেও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করাটা নিঃসন্দেহে অনেক কষ্টসাধ্য একটি বিষয়। যেখানে রক, পপ আর ওয়েস্টার্ন মিউজিকের অপসংস্কৃতিতে ডুবে থাকার কথা সেখানে শেকড়কে ধরে রাখা আর শেকড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাটা চেতনা ও দেশপ্রেমের বিষয়। বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। আর রবীন্দ্রনাথ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়েই দেশের মঞ্চ কাঁপালেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের বাংলাস্কুলের ক্ষুদে শিল্পীরা। কবিগুরুর নৃত্যনাট্য ‘তাসের দেশ’ এর মঞ্চায়নে দেশের প্রতি ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর মমত্ববোধই তুলে ধরলেন বিসিসিডিআই ও বাংলাস্কুলের শিল্পীরা।

সমাজের তৈরি কঠিন বিধিনিষেধের বেড়াজালে আটকে পড়ে যান্ত্রিক হয়ে যায় মানুষ, হারিয়ে ফেলে তাদের নিজস্ব বোধশক্তি। কী করে নতুন ও তারুণ্যের উদ্দীপনা তাদের এই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি এনে দেয়, তারই ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তাসের দেশ’। নৃত্যনাট্যের অভিনয়শিল্পীরা হলেন দর্পন, নোরা, অংকিতা, তানিশা, লাবিবা, ইসরা, সাবরিনা, হ্নদিতা, জেসিকা নাজিলা, অদ্রিজা, অরিত্রি, অনুভা, ইয়াশা, মরিয়ম শুসান্তিকা, রানীতা, অহনা অনিটা, নায়লা, তাসনুভা, অবন্তিকা, নাইমা, অনুশা ও বাংলাস্কুলের ড্যান্স একাডেমির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

তাসের দেশ পরিবেশনার পুর্বে বাংলাস্কুল মিউজিক একাডেমির শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করে। এই পর্বে বাঁশীতে সঙ্গত করেন মোহাম্মদ মজিদ, গীটার মোহাম্মদ হুদা অনু, মন্দীরায় জয় দত্ত বড়ুয়া, ঢোল হিমু রোজারীও, অক্টোপ্যাড আরিফুর রহমান স্বপন, তবলায় ওস্তাদ আশীষ বড়ুয়া ও ভায়োলীনে ছিলেন দিবিয়া ও পরাগ। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন শিক্ষক ওস্তাদ নাসের চৌধুরী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাস্কুলের প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক শামীম চৌধুরী, বাংলা শিক্ষক আতীয়া মাহজাবীন, বাংলা শিক্ষক তানিয়া খান, বাংলা ও পালী ভাষার শিক্ষক নিভা বড়ুয়া, বাংলা ও আরবী বিষয়ক শিক্ষক ফারজানা সুলতানা, সংস্কৃতি ও বাংলা শিক্ষক জয়িতা দাসগুপ্ত, মিউজিক একাডেমির পরিচালক নাসের চৌধুরী, ও ড্যান্স একাডেমির পরচিালক মুক্তা বড়ুয়াকে তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ অ্যওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া অ্যাওয়ার্ড গ্রহন করেন অনুষ্ঠানের গ্রান্ড স্পন্সর মোহাম্মদ হুদা, গোল্ড স্পন্সর আনিস খান, সিলভার স্পন্সর দিলাল আহমেদ। কমিউনিটিকে বিশেষ সেবা প্রদ নের জন্য আওয়ার্ড গ্রহন করেন এন্থনী পিয়ুস গোমেজ, হিরা খান, তাসলিম হাসান, বোরহান আহমেদ, রেদওয়ান চৌধুরী, ও কামরুল ইসলাম কামাল।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply