khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে ক্ষমা চাইতে বলল চলচ্চিত্র পরিবার

0 55

নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছে ১৮টি চলচ্চিত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘চলচ্চিত্র পরিবার’। সংগঠনের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক বলেছেন, বাচ্চু সাহেব যে কথা বলছেন সেটাতো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যায়। স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যায়। বঙ্গবন্ধু সেন্সর বোর্ড তৈরী করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সেন্সর পায়। তার মানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ছবিটির সেন্সর দিয়েছিল। আজ কেন এটি নেগেটিভ তবে?

বৃহস্পতিবার দুপরে এফডিসিতে ‘চলচ্চিত্র পরিবারের আয়োজনে ‘কিছু দুঃখের কথা বলবো’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিচালক আমজাদ হোসেন, আজিজুর রহমান, শেখ নজরুল ইসলাম, সিবি জামান, এডিটর গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, কাজী কামাল ও খান আতাউর রহমানের সন্তান কণ্ঠশিল্পী আগুন। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সাঈদুর রহমান সাঈদ, অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড, প্রযোজক জাহাঙ্গীর খান, খান আতাউর রহমানের কন্যা কণ্ঠশিল্পী রুমানা খানসহ অনেকে।

প্রয়াত নায়ক- নির্মাতা-প্রযোজক-গীতিকার-গায়ক-সম্পাদক খান আতাউর রহমানকে নিয়ে ‘গেরিলা’ নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর দেয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা সিনেমা, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে খান আতাউর রহমানের অবদান তুলে ধরে ‘রাজাকার’ অভিধার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুলে ধরেন। যেখানে তারা ‘কুলাঙ্গার’, ‘জন্তু-জানোয়ার’, ‘বদমাশ’ জাতীয় শব্দের ব্যবহার করেন।

অনুষ্ঠানে ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার ও খ্যাতিমান পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, বাচ্চু হঠাৎ করে এমন ঢিল ক্যান ছুড়তে গেলে। একুশে ফেব্রুয়ারী গানের হামিং কয়ার যে করল। ৬৭-৭১ পর্যন্ত স্বাধীকার আন্দোলনের সময় যার লেখা শতকরা ৩০ ভাগ গান বেজেছে বেতারে, মাঠে মাঠে মানুষের মনে, সে রাজাকার? তোমাকে এফডিসিতে ঢুকে সবার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

‘ছুটির ঘন্টা’র পরিচালক আজিজুর রহমান খান আতা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে চেয়েছেন। পাকিস্তানীদের হুমকি মাথায় নিয়ে কাজ করেছেন। খালি রিল ব্যবহার করেছেন। আজ তিনি রাজাকার? তিনি ছিলেন থাকবেন।

পরিচালক সিবি জামান আক্রমণাত্মক স্বরে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে অর্বাচীন এবং ঘৃণা করার কথা জানান। পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম, কাজী কামাল এবং এডিটর্স গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুকে ‘কুলাঙ্গার’, ‘বদমাশ’, ‘জন্তু-জানোয়ার’ বলে অভিহিত করেন।

নায়ক ফারুক তার বক্তব্য বলেন, কত লোক মুক্তিযুদ্ধে মানুষের ক্ষতি করে এখন বহাল তবিয়তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে বেঁচে আছে। তারা রাজাকার না? খান আতাউর রহমান রাজাকার হয়ে গেলেন! তিনি কাকে হত্যা করেছিলেন? কার ক্ষতি করেছিলেন? প্রমাণ দিতে হবে। তিনি তার শিল্প সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা গেঁথে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, যখন ছবিটি নির্মাণ হয় তখনই বিতর্ক তৈরী হয়েছিল। আমার বন্ধু মায়া ছবিটি দেখে কোন নেতিবাচক কিছু বলেনি। বঙ্গবন্ধু পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। আজ কেন এগুলো বলা হচ্ছে। আমি জাতির কাছে বিচার চাই।

সম্মেলন শেষে খান আতাউর রহমানের নির্মাণে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply