আটলান্টিক সিটিতে প্রাণের আমেজে শ্যামা পূজা ও দীপাবলী উৎসব উদযাপিত

201

আটলান্টিক সিটি থেকে সুব্রত চৌধুরি- “ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো,দীপালিকায় জ্বালাও আলো/ জ্বালাও আলো,আপন আলো, সাজাও আলো ধরিএীরে’’ – সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ‘শ্যামা পূজা ও দীপাবলী’ উৎসব।শাস্ত্রমতে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে দীপান্বিতা পার্বণ শ্রাদ্ধ ও শ্যামা পূজা করা হয়। প্রতি বছরই দুর্গাপূজার আনন্দ-উচ্ছ্বাস মিইয়ে যাবার আগেই দীপাবলী আসে।বিজয়ার ভাসানে পাঁচদিনের আনন্দ বিদায়ে অবচেতনে হলেও যে বিয়োগবিধুর চেতনায় আবিষ্ট হয় মন, সেই মন দীপাবলীকে সামনে রেখেই আবার আনন্দের স্বপ্ন দেখে।শ্যামা দেবী হলো শান্তি,সংহতি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক।দুষ্টের দমন আর শিষ্টের লালনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ভক্তের জীবনে অবারিত কল্যাণের অঙ্গীকার নিয়ে ধরনীতে আগমন ঘটে দেবী শ্যামার।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে শ্রী শ্রী গীতা সংঘের উদ্যোগে ফ্লোরিডা এভিনিউস্থ সংঘের প্রার্থনা হলে সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় মতে গত ১৯শে অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাতে শ্যামা পূজা ও দীপাবলী উদযাপিত হয়। অধিবাসের মাধ্যমে শ্যামাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।পুস্পাঞ্জলি এবং ষোড়শ উপচারে দেবী কালির পূজার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে কল্যাণের শক্তি লাভ করার লক্ষ্যে সন্ধ্যার পর পর সনাতনী হিন্দুরা শ্যামা পূজা উদযাপনের জন্য গীতা সংঘের প্রার্থনা হলে সমবেত হয়।শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামা দেবীর আগমন উপলক্ষে আটলান্টিক সিটির সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে- প্রাণে ও ঘরে ঘরে উৎসাহ- উদ্দীপনা, আনন্দ- উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো ।ঐদিন ঢাক-ঢোল, কাঁসর আর উলু ধ্বনিতে মুখরিত ছিল গীতা সংঘ প্রাঙ্গণ। শ্যামা পূজা পরিচালনা করেন সুভাষ চক্রবর্তী ও শ্যামল চক্রবর্তী। ভক্তকুলের মহাপ্রসাদ আস্বাদনের মাধ্যমে শ্যামা পূজার কর্মসূচী শেষ হয়।শ্যামা পূজা ও দীপাবলী উপলক্ষে প্রবাসী সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের বাড়িতে বাড়িতে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করে।প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের মধ্যে এই ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয় ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.