khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

এবার ব্লু হোয়েল গেমের ফাঁদে টাঙ্গাইলের তরুণ !

47

নিশ্চিত মৃত্যুর ফাঁদ হিসেবে পরিচিত বিশ্বের আতঙ্কিত ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন হৃদয় (২০) নামে এক তরুণ। তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বয়ড়াপাড়া আলমনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আমজাদ আলীর ছেলে। এ খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, হৃদয় গাজীপুর একটা পেপার মিলে চাকরি করেন। ফেসবুক ব্যবহার করতে করতে ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম খেলতে আসক্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে গত ১১ অক্টোবর তার ফেসবুক পেজে হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি আঁকা একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি ফেসবুকের মাধ্যমে হৃদয়ের মামা সৌদি প্রবাসী কবির হোসেনের নজরে আসে। কবির বিষয়টা সৌদি থেকে তার স্বজনদের জানালে পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার রাতে পরিবারের লোকজন হৃদয়কে গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

ব্লু হোয়েল-এ আসক্ত হৃদয় বলেন, ‘গত ২০ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে নেট অন করার সাথে সাথে মোবাইলে একটা অ্যাপ ভাসতে থাকে। ব্লু হোয়েল সম্পর্কে আমি শুনেছি, তারপরও কৌতূহল বসত আ্যাপটি ওপেন করি। এরপর একটা কল আসে আমি রিসিভ করলে একজন অ্যাডমিনের নির্দেশে শুরু হয় গেমস খেলা। আস্তে আস্তে বেশ কিছু মজার মজার ধাপ খেলতে খেলতে আসে চ্যালেঞ্জিং পর্ব।’ ২০ দিন যাবত গেমটির কত পর্ব খেলেছে বা কি কি কাজ করেছে এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোন জবাব দিতে পারেনি হৃদয়।

হৃদয় আরো বলেন, ’আমার তেমন কিছু মনে নেই, তবে গেমটি খেলতে খেলতে আমার হাতে তিমি মাছের ছবি আঁকতে বলা হয়েছিল। আমার হাত কেটে কিভাবে ছবি এঁকেছি আমি জানি না। ওই রাতে আর কি করেছি আমার কিছুই মনে পড়ছে না।’

হৃদয়ের নানা আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা হৃদয়কে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছি। তার মোবাইলসহ সিমকার্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এইসব জীবনঘাতী গেম যেন ছেলে-মেয়েদের হাতে পৌঁছাতে না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম ছেলের প্রাণ হারানোর ভয়ে ভেঙে পড়েছেন। তারও দাবি- এমন মরণ খেলা যেন সন্তানে কাছে না আসে। হৃদয়কে পারিবারিক কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এখন শঙ্কাযুক্ত। এদিকে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এবিষয়ে গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। জানার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.