khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে : নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক সেমিনারে মুহিত

55

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : ‘গৃহিত কর্মসূচির ব্যাপারে অবিচল আস্থা আর আন্তরিকতা থাকলে তা কখনো থেমে থাকে না। বাংলাদেশ তার প্রমাণ এবং বিশ্বে সবচেয়ে গরিব রাষ্ট্র হওয়া সত্বেও বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এমডিজির পথ ধরে বাংলাদেশ এসডিজিতে এগুচ্ছে দৃপ্ত প্রত্যয়ে।’ এ কথা বলেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ‘টেকসই উন্নয়নের পথে এমডিজির শিক্ষা’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনী বক্তব্যে মুহিত বলেন, ‘৬৫ বছর যাবত আমি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। আমি সব সময় উন্নয়নে স্থির সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। বলতে দ্বিধা নেই, ২০০০ সালে এমডিজি কর্মসূচি গ্রহণ করে জাতিসংঘ। তারও এক বছর আগে আমরা বাংলাদেশে এমডিজির আওতাধীন অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। অর্থাৎ বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা সব সময় সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছি এবং সে পরিকল্পনার সাথে গোটা জনগোষ্ঠিকে একিভ’ত করা হচ্ছে।’

১০ অক্টোবর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন মিলেনিয়াম হিল্টন হোটেলের ডিপ্লোমেট বলরুমে আন্তর্জাতিক থিংঙ্ক ট্যাংক ‘দি ইনস্টিটিউট ফর পলিসি, অ্যাডভোকেসি এন্ড গভার্ননেন্স উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক সেমিনার স্পন্সর করে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রণালয়ের ইআরডি।

স্বাগত বক্তব্য দেন আইপ্যাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে সফলতার সাথে এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ পূরণে এর বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ঘনিষ্ট সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অর্থমন্ত্রী মুহিতের বক্তব্যের উপর মতামত ব্যক্তকালে ইউএনডিপির প্রশাসক ও জাতিসংঘের সহকারি মহাসচিব ম্যাগডি মার্টিনেজ-সুলিমান বলেন, এমডিজি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে সাফল্য প্রদর্শন করেছে, তা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। দারিদ্র বিমোচনে অসাধারণ সাফল্যই শুধু নয়, নারী ক্ষমতায়নসহ নারী শিক্ষা প্রসারেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ উন্নয়নের মহাসড়কে সমগ্র জনগোষ্ঠি আজ ঐক্যবদ্ধ-এটি অব্যাহত থাকলে এসডিজি অর্জন অত্যন্ত সহজ হবে।

সুলিমান টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ সামগ্রিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি নিরবচ্ছিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে পেরেছে যারফলে দেশটির অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ৬ ভাগের উপরে রয়েছে। মানব সম্পদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পাবলিক সেক্টরে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসকল পদক্ষেপের ফলে ১৯৯১ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ৫৬ শতাংশ ছিল তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়ে ২০১০ সালে ৩১ শতাংশে এসে দাড়িয়েছে”। তিনি সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও ভিশন ২০২১ এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে আইসিটি ব্যবহার করে নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ১৯৯০ সালে ৫৬% এর অধিক মানুষ ছিলেন দারিদ্রসীমার নীচে। এখন সেটি কমে ২৩% হয়েছে। আমরা যে সব কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশে গরিব মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি অর্জনে যে ধরনের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন, তা পাবার কোনই সম্ভাবনা নেই। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকবো। নিশ্চয়ই না। আমরা অভ্যন্তরীনভাবে তহবিল গঠনের বহৃবিধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছি। বেসরকারী উদ্যোক্তাগণকে উৎসাহিত করছি সামগ্রিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজের জন্যে। অভ’তপূর্ব সাড়া পাচ্ছি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাগণের কাছে থেকে। শুধু তাই নয়, জনগোষ্ঠির একটি বড় অংশ এখন নিজ নিজ ভাগ্য উন্নয়নে নানা কর্মকান্ডে নিয়োজিত হয়েছেন, যার সুফল পাচ্ছে সমগ্র জাতি। এমন মনোভাব জাগ্রত হয়েছে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিচক্ষণতাপূর্ণ নেতৃত্বের গুণে।

মুহিত উল্লেখ করেন, এসডিজি অর্জনে অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতার প্রকাশ ঘটছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বৈঠকের সময়েও সে প্রসঙ্গ এসেছিল। আমি মহাসচিবসহ অন্যদের অবহিত করেছি বাংলাদেশের কথা। এসডিজি অর্জনে এই সমন্বয়হীনতা দূর করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একজন প্রধান মুখ্য সমন্বয়কারি কাজ করছেন। সকল মন্ত্রণালয়ের সাথে তিনি সমন্বয় ঘটাচ্ছেন উন্নয়ন কার্যক্রম।

অর্থমন্ত্রী এমডিজি অর্জনের কৌশল ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এমডিজি গ্রহণ করার আগেই ১৯৯৯ সালে আমরা এর বাস্তবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই এবং নিজেদের মতো করে লক্ষ্য স্থির করি। আমাদের নিজস্ব সম্পদ এবং যা কিছু উন্নয়ন সহযোগিতা পাওয়া যায় তা দিয়েই এমডিজি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেই। আমাদের প্রবল ইচ্ছাশক্তির ফলে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি’র অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হই”।

এমডিজি বাস্তবায়নের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কিভাবে এসডিজি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে অর্থমন্ত্রী আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এসডিজি খুবই আলাদা। আমাদের ভাল অভিজ্ঞতা রয়েছে যার ফলে লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা এখন খুব সহজ। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি”। এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে মর্মেও অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ, এমডিজির সাফল্য ও অভিজ্ঞতার ব্যবহার, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য এসডিজি’র চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ এবং এসডিজি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়ন অর্থনীতির ভূমিকা – এসকল বিষয় নিয়ে সেমিনারটিকে চারটি সেশনে ভাগ করা হয়।

সেশনগুলোতে কী নোট স্পীকার ছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এর পরিচালক সারাহ্ ক্লীফ , ইউএনডিপি’র পরিচালক নিক শিকরান , কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর রুথ ডেফরাইস্ (জঁঃয উবভৎরবং) এবং দ্যা ব্রুকলিন ইনস্টিটিউশনের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়ক সিনিয়র ফেলো অ্যান্থনি এফ পিপা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক, গবেষণাবিদ, আন্তর্জাতিকবিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ও বিশ্বের ১৬জন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব সেশনগুলোতে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেয়।

মডারেটর ছিলেন, ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর গ্লোবাল লিবার্টি এন্ড প্রোসপারিটি বিভাগের সিনিয়র ফেলো সোয়ামিনাথান এস আঙ্কেলেশ্বরিয়া আইয়ার, গ্লোবাল পার্টনারশীপ ফাউন্ডেশনের পরিচালক লরেন ব্রাডফোর্ড, ইউএনডিপির তুরস্কের প্রতিনিধি ক্যারোলিনা মিজেক ক্যালিয়াস এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইউএন প্রতিনিধি বিজর্ন গিলস্যাটার ।
সেশনের শেষে ভ্যালেডিকটরি স্পীচ প্রদান করেন জাতিসংঘের এসজিডি বিষয়ক গ্লোবাল অ্যাডভোকেট ও হেলথ্ এমপ্লয়মেন্ট ও ইকোনমিক গ্রোথের হাই লেভেল কমিশনার ডা: আলয়া মুরাবিট ।

বাংলাদেশ ডেলিগেশনের মধ্যে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজম।সেমিনারে বক্তারা বাংলাদেশে এমডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য এবং এই অভিজ্ঞতা দিয়ে বাংলাদেশ এসডিজি বাস্তবায়নেও সফল হবে এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারি প্রায় সকলেই নিজ অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে বাংলাদেশ এগিয়ে চলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। মানবতার সার্বিক কল্যাণে সীমিত সম্পদ নিয়ে অন্য গরিব দেশগুলোর এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন মডেলে পরিণত বলেও কোন কোন আলোচক মন্তব্য করেন। অনেকে উন্নয়নের এ অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতি যে কোন মূল্যে অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.