khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

হাজার হাজার মানুষের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

53

ঢাকা : হাজার হাজার মানুষের অভিনন্দন, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনায় সিক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।আজ শনিবার সকালে তাকে সংবর্ধনা, ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ ১৪ কিলোমিটার পথজুড়ে জনতার ঢল নামে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদান শেষে শনিবার সকাল ৯ টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় ১৪ দল, বুদ্ধিজীবী, সংবাদিক নেতৃবৃন্দ, খেলোয়ার ও ক্রীড়াঙ্গনের নেতৃবৃন্দ, সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোট নেত্রীবৃন্দ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিপন্ন মানবতার বাতিঘর’ অভিহিত করেন।

পদ্মাসেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, কাজ করতে এসেছি। দুর্নীতি করতে নয়। প্রথমে দেশে ও বিদেশে অপপ্রচার শুরু করে। পরে অর্থায়নও বন্ধ করা হয়। তবুও থেমে থাকিনি।

তিনি বলেন, শত বাধার মুখে আমি বলেছিলাম, নিজেরাই করবো। তাতে দেশে-বিদেশে বাঙালিরা সবাই বলেছেন, আপা আপনি করেন যা যা লাগে তাই নিয়ে পাশে আছি আমরা। এই যে মানুষের ভালোবাসা, মানুষের আস্থা অর্জন এটাই একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন। ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করি না, অপবাদ মাথায় নেবো কেন? কাজ করে দেখাচ্ছি।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় কর্তব্য হিসেবে মিয়ানমারের এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গা) যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিমান বন্দরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে ফুল দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে। এরপর বিশিষ্টজনদের পক্ষে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিএসএমএমইউ-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুণ-অর রশীদ ও বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান।

ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সঙ্গে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। রামেন্দু মজুমদারের নেতৃত্বে সংস্কৃতিকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় গোলাম কুদ্দুস, সারা যাকের, সাহিত্যিক রাহাত খান, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের মধ্যে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক সমকালের সম্পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক রাহাত খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ। এছাড়াও এফবিসিসিআই, বিজিএমইএসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

এ সময়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসনুল হক ইনু, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম,খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামন নূর, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি ও আবদুর রহমান, সংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও এনামুল হক শামীম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও প্রধানন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেওয়ার পর সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে গণভবনের পথে রওনা হন। সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে পৌঁছালে এসএসএফের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

বিমান বন্দর থেকে গণভবন এই দীর্ঘ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে পতাকা উড়িয়ে, ফুল ছিটিয়ে, বাদ্যবাজিয়ে, হাত নেড়ে ও মুহুর্মুহু স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগও সহয়োগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাড়িতে বসে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিনন্দনের জবাব দেন। বিমানবন্দর থেকে গণভবনে পৌঁছতে শেখ হাসিনার সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট।

রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার জন্য ব্রিটিশ পত্রপত্রিকা শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ আখ্যায়িত করেছে। সংযুক্ত আরব আমীরাতের (ইউএই) সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক (খালিজ টাইমস) রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি মানবিক আবেদনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উচ্ছ্বসিত প্রসংসা করে তাঁকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসাবে অভিহিত করে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের রক্ষা ও তাদের ফেরত নিতে জাতিসংঘে যে ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা পায়। এসব কারণে আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ সংবর্ধনার আয়োজন করে। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে জনতার ঢল নামে।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ৯টা ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও সকাল ৮টার আগেই বিজয় সরণি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুইপাশে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে জনতার ঢল নামে। এক সময় তা জন¯্রােতে পরিণত হয় । পরে এই ¯্রােত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গনভবন পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ।

বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড, শেওড়া, কাকলী, বনানী, সৈনিক ক্লাব, চেয়ারম্যানবাড়ি, আমতলী, মহাখালী, জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিজয় সরণি থেকে গণভবন পর্যন্ত পুরো সড়কই ছিল আওয়ামী নেতা-কর্মীদের দখলে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঢাকা ও ঢাকার আশপাশ থেকে শত শত মানুষ বাস-ট্রাকে করে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সংসদ সদস্য, দলীয় নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানাতে আসেন।

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর হোটেল রেডিসন পর্যন্ত, হোটেল রেডিসন থেকে কাকলী পর্যন্ত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কাকলী থেকে মহাখালী-জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাহাঙ্গীর গেট থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যন্ত আওয়ামী যুবলীগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে গণভবন পর্যন্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের নেতাকর্মীরা অবস্থান গ্রহণ করে।

ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারসহ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিক্ষক নেতা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি কর্মী, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন স্পটে সমবেত হয়।

এ ছাড়াও আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসিয়েশনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্পটে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধামন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছেড়েছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.