khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষায় শতশত নেতা-কর্মী ওয়াশিংটন ডিসিতে

2,196

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে থেকে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনার জন্যে শতশত নেতা-কর্মী ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হয়েছেন। ১ অক্টোবর স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৫টায় ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে রিটজ কার্লটন হোটেলে শেখ হাসিনার সাথে নেতা-কর্মীদের সাক্ষাৎ ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলবেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা।’ বৈঠকে মিডিয়ার প্রবেশাধিকার থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন ড. গোলাপ।

জাতিসংঘের চলতি ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাংলায় ভাষণ প্রদানের পর ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে শেখ হাসিনা ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসায় গেছেন এবং সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। এরইমধ্যে গত সোমবার অপরাহ্নে তার পিত্তথলীতে সফল অস্ত্রোপচার হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভার্জিনিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ কয়েকদিন বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সুবাদে আওয়ামী পরিবারের লোকজন তার সাথে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সভানেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর ৬ মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নয়া কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এতদসত্বেও নেতা-কর্মীরা স্বস্তি পাচ্ছেন না নয়া কমিটি গঠনের ব্যাপারে। কারণ, বর্তমানের কমিটির মেয়াদ ৩ বছর আগে অতিবাহিত হয়েছে। এমনি অবস্থায় শেখ হাসিনা সকলের সাথে আলাদা-আলাদাভাবে (অঙ্গরাজ্য, মহানগর এবং যুক্তরাষ্ট্র শাখা) কথা বলতে সম্মতি দেয়ার পর সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় প্রায় সকল নেতা-কর্মীই ভার্জিনিয়ায় জড়ো হয়েছেন। যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগসহ সকল সহযোগী, বন্ধুপ্রতিম সংগঠনের লোকজনই হোটেল রিটজ কার্লটনে অবস্থান নিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট্্স, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, স্বাগতিক ওয়াশিংটন ডিসির নেতা-কর্মীদের কলরবে মুখরিত রিটজ কার্লটন হোটেল।

সকলেই সরাসরি তাদের নেত্রীর সাথে কথা বলতে আগ্রহী। অনেকেই নেত্রীর কাছে গিয়ে তাকে সালাম এবং অভিনন্দন জানাতে আগ্রহী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সাহসি ভ’মিকার পরিচয় দিয়েছেন, সেজন্যে সকলেই শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাতে চান বলে মাঠের কর্মীরা উল্লেখ করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নয়া কমিটির নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীরা নিজ নিজ রিজ্যুমিসহ ঐ হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আবারো দায়িত্ব পেতে আগ্রহী। এছাড়া, এই পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর অন্যতম হলেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও মূলধারার রাজনীতিক ড. নূরন্নবী, বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র সেনসাস ব্যুরোর পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সম্প্রতি অবসরগ্রহণকারি ড. খন্দকার মনসুর, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. শাহজাহান মাহমুদ অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি নিজেকে সমর্পন করেছেন সভানেত্রীর আগ্রহের ওপর অর্থাৎ শেখ হাসিনা যদি তাকে ভালো মনে করেন তাহলে আপত্তি থাকবে না।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেট অঞ্চলের ৪ প্রার্থীর সকলেই সোচ্চার। এরা হলেন বর্তমানের যুগ্ম সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ, আবুল হাসিব মামুন এবং আব্দুর রহিম বাদশা। এর বাইরে রয়েছেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী। জাকারিয়া হচ্ছেন নোয়াখালী অঞ্চলের সন্তান এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর ছোটভাই। নিজাম চৌধুরী যদি সভাপতি না হন তাহলেই জাকারিয়া সাধারণ সম্পাদক পদে অন্যতম প্রার্থী বলে সকলে বলাবলি করছেন।

উল্লেখ্য, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমানকে বছরখানেক আগে বহিষ্কারের পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন আব্দুস সামাদ আজাদ। তিনি বর্তমান সভাপতির একান্ত অনুগত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করায় তাকে ভারমুক্ত করা হলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। গত দুদিনের আওয়ামী পরিবারের শতাধিক সক্রিয় নেতা-কর্মীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে, সকলেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকেই স্বাগত জানাবেন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক পদে কাউন্সিলের কোন প্রয়োজন নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন। সংগঠনের ঐক্যের প্রশ্নে এ ৩টি পদে ১ অক্টোবর রোববার অপরাহ্নে শেখ হাসিনার কাছে থেকে নাম শুনতে আগ্রহী কর্মীরা। এমন লোকজনকে এসব পদে নেয়া উচিত, যাদের আর্থিক সামর্থ্য এবং সময় দেয়ার মত মনোভাব রয়েছে। একইসাথে মার্কিন রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকাকেও অন্যতম যোগ্যতা হিসেবে মনে করছেন কর্মীরা।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.