khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

আটলান্টায় গুলিতে নিহত সাইফুল ও রেজোয়ানের দোয়া মাহফিল শুক্রবার

0 156

রুমী কবিরঃ আটলান্টায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ব্যবসায়ী সাইফুল ভূঁইয়া (৩৫) ও ক্যাশিয়ার রেজওয়ানের (২০) রূহের মাগফেরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে আজ শুক্রবার মাগরিব নামাজের পর আত্তকওয়া মসজিদে।

নিহত সাইফুলের ভাই ও একইসাথে ব্যবসায়িক অংশীদার লোকমান ভূঁইয়া বিপুল উক্ত দোয়া মাহফিলে আটলান্টার সকল প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য মুসলিম অভিবাসী নাগরিকদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় গাড়িতে করে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া (৩৫) ও ক্যাশিয়ার রেজওয়ান (২০) বাড়ি ফেরার প্রাক্কালে আটলান্টার ডাউন টাউনে নিজ ষ্টোরের সামনে দুর্বৃত্তের অতর্কিত আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাইফুল এবং গুলিবিদ্ধ রেজোয়ানকে মুমর্ষ অবস্থায় গ্রেডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে ব্রেনডেথ অবস্থায় চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ডাক্তারগণ লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর তিন দিন পর সাইফুলের মরদেহ লরেন্সভিলস্থ ইসলামিক ইন্সটিটিউট মসজিদে জানাজা শেষে মসজিদের নিজস্ব গোরস্থানে দাফন করে হয়। অন্যদিকে গত শুক্রবার ডোরাভিল আত্তাকওয়া মসজিদে জানাজা শেষে পরদিন শনিবার আটলান্টা শহর থেকে প্রায় চল্লিশ মাইল দূরবর্তী কভিংটন শহরের আত্তাকওয়া মসজিদের নবপ্রতিষ্ঠিত দারুল বারযাখ গোরস্থানে নিহত রেজওয়ানের মরদেহ দাফন করা হয়।

প্রয়াত সাইফুল স্ত্রীসহ দুই শিশুকন্যা, ছয় ভাই, দুই বোন ও অসংখ্য বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। সাইফুল ছিলেন বাবা মার ৯ পুত্র কন্যার মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ সন্তান। মরহুম সাইফুলের বড় ভাই মোখলেস ভূঁইয়াসহ সকলেই দীর্ঘদিন ধরে আটলান্টাতেই বাস করছেন। নিহত সাইফুল গত সাত বছর ধরে ভাই বিপুল ভুঁইয়ার সাথে একত্রে ডাউন টাউনের গ্রোসারী ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংসারে সচ্ছলতা এলে গত রোজার মাসের কয়েকদিন আগে নতুন বাড়ি ক্রয় করেন মরহুম সাইফুল। স্ত্রী এখন স্বামীহারা হয়ে অনিশ্চয়তার উৎকণ্ঠায় বিহল-নিথর সময় পার করছেন। আর ফুটফুটে শিশু দুইটি এখনও বাবার অপেক্ষায় আছে।

অন্যদিকে রেজওয়ান একাই আটলান্টায় বাস করতো। তিন মাস আগে বাংলাদেশ থেকে সে আটলান্টায় আসে। তবে ইমিগ্রেশন ভিসার বৈধ কাগজ না থাকায় চল্লিশ হাজার ডলার ঋণ করে ব্রাজিল, মেক্সিকো হয়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে করে ছয় মাসের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হয়েছিল তাকে। বাবা সৌদি আরবে কষ্টের কাজ করতেন। তাই রেজয়ান আটলান্টায় সাইফুলের ষ্টোরের কাজটি পাবার পরই বাবাকে আরবের চাকরী ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের শুরুতেই জীবনের সমাপ্তি টেনে রেজওয়ান চিরশয্যায় শায়িত হল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মাটিতে। চার ভাই বোনের মধ্যে রেজওয়ান ছিল তৃতীয় সন্তান এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়।

 

 

 

 

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply