khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

মিয়ানমারের প্রতি গুতেরেস : রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ করুন, মানবিক সাহায্যের পথ খুলে দিন

0 25

জাতিসংঘ (যুক্তরাষ্ট্র): জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের সমাধানে দেশটির সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর অভিযান অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। সংঘাতপূর্ণ এ অঞ্চলে মানবাধিকার কর্মী প্রবেশ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত আলোচনায় আন্টোনিও গুতেরেস এ আহ্বান জানান। তিনি মিয়ানমারের এই রোহিঙ্গা সংকটকে একটি মানবিক ‘দুঃস্বপ্ন হিসেবে বর্ণনা করেন। খবর এএফপি’র।

বাধ্য হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া পাঁচ লাখেরও বেশী মিয়ানমারের নাগরিক দলে দলে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গত মাসে বিভিন্ন নিরাপত্তা ফাঁড়িতে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এ অঞ্চলে ব্যাপক দমন-পীড়ন অভিযান শুরু করার পর প্রাণ বাঁচাতে এসব অসহায় লোক বাংলাদেশে আসে।

গুতেরেস নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত অধিবেশনে বলেন, জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন, ধর্ষণ, ব্যাপক সহিংসতা এবং ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ‘হৃদয়বিদারক বর্ণনা’ পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এটা অবশ্যই দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানোয় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করা হয়।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নৃশংসতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টোনিও গুতেরেস সহিংসতা ছাড়াই রোহিঙ্গাদের নিজ গ্রামে ফেরত নেয়ার দ্রুত ব্যবস্থা করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করা, মানবাধিকার কর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীদের রাখাইনে প্রবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী তিন সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং অস্থায়ী চার সদস্য সুইডেন, মিসর, কাজাখস্তান ও সেনেগাল ২৩ সেপ্টেম্বর ওই আলোচনার প্রস্তাব দেয়। এসব দেশ জাতিসংঘের মহাসচিবকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির বিষয়ে পরিষদকে বিস্তারিত জানানোরও অনুরোধ জানায়। মহাসচিব গুতেরেস অধিবেশনের শুরুতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত রাখাইনে সহিংসতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া গুতেরেস আগামী ৯ অক্টোবর দাতাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা বলেন। তবে কোথায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply