khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

বেনজির আহমেদ সেলিম আওয়ামী লীগই যার ধ্যান- ধারনা

1,133

প্যারিস: ৭৫ পরবর্তী সময় ইউরোপের মাটিতে দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে যারা নিজের সোনালী যৌবনের সবটুকুই বিকিয়ে দিয়েছেন বেনজির আহমেদ সেলিম তাদের অন্যতম । জীবন-জীবিকা জন্য ইউরোপে আগমন করলেও রক্তে মুজিবাদর্শের কনিকা বহমান থাকায় যেখানেই গিয়েছেন আওয়ামী লীগের ভিত্তি কে মজবুত করতে ও স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত রুখতে কাজ করেছেন । বেনজির আহমেদ সেলিম ১৯৭৮ সালে প্রথমে জার্মান আগমন করেন ।

৭৫ পরবর্তীতে জাসদ ও অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অপতৎপরতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের করুন সময়ে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিয়ার রহমানের শ্যালক ফরহাদ আহমেদ সহ কয়েক জন মিলে জার্মান আওয়ামী লীগ কে সংগঠিত করতে আওয়ামী পরিবারের একনিষ্ঠ অনুরাগী অনিল দাশ গুপ্ত কে খুজে বের করে । বেনজির আহমেদ সেলিম ঐ কমিটির দফতর সম্পাদক ছিলেন ।

পরে জীবিকার তাগিদে ১৯৮১ সালে ফ্রান্সে আগমন করেন । ঐ সময় ফ্রান্সে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী না থাকায় আওয়ামী লীগের কমিটি করা যায়নি । ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা এম কাশেম ও চট্টগ্রামের কিংবদন্তী নেতা মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাই নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বাবু সহ কয়েক জন তরুন আওয়ামী লীগ কে সংগঠিত করতে আগ্রহী হলে বেনজির আহমেদ সেলিম তখন উল্লেখ্য যোগ্য ভূমিকা পালন করেন । ১৯৮৮ সালের ১০ জানুয়ারি বেনজির আহমেদ সেলিম মালিকানাধীন শাপলা রেস্টুরেন্টে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি গঠিত হয় । তখন বর্ষিয়ান নেতা কাজী এম এ লতিফ কে সভাপতি করে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ছাত্রনেতা এম এ কাশেম কে সাধারণ সম্পাদক করে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা কমিটি গঠন করা হয় ।

বেনজির আহমেদ সেলিম সহ সভাপতি নির্বাচিত হন । ১৯৯০ সালে বেনজির আহমেদ সেলিম সভাপতি ও রহিম সরকার কে সাধারণ সম্পাদক করে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কমিটি হলে এর পাল্টা নাজিম উদ্দিন আহমেদ কে সভাপতি ও সোহরাব মৃর্ধা কে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয় । ১৯৯১ সাথে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা হল্যান্ড আসলে দু পক্ষ কে বলেন আপনারা এক না হলে আমি ফ্রান্স যাবো না । পরে একই সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্রান্স আসলে সবাই সম্মতিতে বেনজির আহমেদ সেলিম কে সভাপতি ও সোহরাব মৃর্ধা কে সাধারণ সম্পাদক করে দু বছরের জন্য ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষনা করেন ।

১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের সোশ্যালিষ্ট পার্টির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগদানের জন্য ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বেনজির আহমেদ সেলিম গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । বেনজীর আহমেদ সেলিম প্রচেষ্টায় ১৯৯৩ সালে যুবলীগ গঠন করে মহসিন উদ্দিন খাঁন লিটন কে সভাপতির দ্বায়িত্ব দেওয়া হয় , অদ্যাবধি লিটন এ দ্বায়িত্বে আছেন । মাঝখানে ১৯৯৩ সালে কাজী এম এ লতিফ কে সভাপতি ও সোহরাব মৃর্ধা কে সাধারণ সম্পাদক করে ফ্রান্স আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হয় । পরে ১৯৯৫ সালের সম্মেলনে বেনজির আহমেদ সেলিম সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল বাকী কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয় ।

১৯৯৬ সালে সেলিমের প্রচেষ্টায় ফ্রান্স কমিটি কে থানা কমিটির মর্যাদা থেকে জেলা কমিটির মর্যাদায় রপান্তরিত করা হয় । ২০০২ সালে ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা বেনজির আহমেদ সেলিম কে সহ-সভাপতি হতে বললে তিনি বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করে করে বলেন নেত্রী যদি সম্ভব হয় আমি আপনার সাথে জাতীয় কমিটিতে কাজ করতে চাই ।

২০০২ সালের সম্মেলন তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নেন । ঐ সম্মেলনে তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন । ঐ সম্মেলনে নাজিম উদ্দিন আহমেদ সভাপতি ও এম এ কাশেম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন । ২০০২ সালে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা সেলিমের উপর রাগান্বিত হন । পরে ২০১০ সালে কর্মীদের চাপে আবারও সভাপতি হন ঐ কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হন আরেক বর্ষিয়ান নেতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম ।

২০১৬ সালে ৮ মে সম্মেলন পন্ড হওয়ার পর বেনজির আহমেদ সেলিম দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন আহমেদ কে নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ইউরোপের আওয়ামী রাজনীতিতে একটি সুষ্ঠু ও সফল সম্মেলনে মাধ্যমে একটি নজির সৃষ্টি করেন । এ সম্মেলনে মাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতাদের দু জন এম এ কাশেম কে সভাপতি ও মুজিবুর রহমান কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় । গত ২৮ বছরে দলের দ্বায়িত্বে থেকে ও বাহিরে থেকে ও দলকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেন । ১/১১ সরকারের সময় ও তিনি নাজিম – কাশেম কমিটির সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশের আওয়ামী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে বেনজির আহমেদ সেলিমের জনপ্রিয়তা রয়েছে । সবাই তাকে শ্রদ্ধার নজরে দেখেন ।

সেলিম বলেন ইউরোপের রাজনীতিতে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই । আমি যশ , সম্মান , নেতা-কর্মীদের ভালবাসা সবই পেয়েছি । নেত্রী আমাকে বেনজির আহমেদ সেলিম নামে একবাক্যেই চিনেন । দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সবাই আমাকে ব্যাক্তিগত ভাবে জানেন ও চিনেন । আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে মরতে চাই । যতদিন বাঁচবো দলের সেবা ও জননেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকবো । তিনি আরো বলেন ইউরোপের মাটিতে আওয়ামী লীগ কে শক্তিশালী করতে নিজের জীবন-যৌবন বিকিয়ে দিয়েছি এবার মুল দলে নেত্রীর পাশে থেকে কাজ করতে চাই ।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed.