khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

কুখ্যাত রাজাকারের বিখ্যাত পুত্র প্রস‌ঙ্গে

0 66

আব্দুল্লাহ্ হারুন জু‌য়েল: সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর নিঃসন্দেহে জনপ্রিয়। কিন্তু জনপ্রিয় হওয়ার মানে এই নয় যে, একজন শিল্পী চাইলেই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকৃ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে। ২০১৫ সালে রবীন্দ্রনাথকে চোর লেখার পর কেউ প্রতিক্রিয়া দেখায় নি; এগুলো তারই ফল!

প্রসঙ্গ কুখ্যাত রাজাকারের বিখ্যাত পুত্র কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের মিউজিক ভিডিও “সাদা আর লাল”। পপির সাথে করা সেই ভিডিওতে শেষের দিকে যা ছিল তা এমন:

একজন এসআই দুজন কনস্টেবল নিয়ে গানের প্রোগ্রাম বন্ধ করতে চায়, কিন্তু “পপি ম্যাডাম” ও “আসিফ স্যার”কে দেখে তারাও নাচতে শুরু করে। আসিফ পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক নিয়ে নেয় ও গুলি ছোঁড়ে। এক পর্যায়ে সেই বন্দুককে গিটারও বানানো হয়..।
প্রথমত: পুলিশ আসিফকে কেন স্যার বলবে? এটা তুচ্ছ বিষয় মনে হতে পারে কিন্তু এটা প্রোটোকল রিলেটেড এবং এতে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে একটি বাহিনীকে।

দ্বিতীয়ত, কোন পুলিশই এমন করতে পারে না। অর্থাৎ পুলিশের ড্রেস পরানো হয়েছে যার জন্য পুলিশ ও এসবির অনুমতি আবশ্যক। আসিফ বা নির্মাতা কার কাছ থেকে এবং কিভাবে এমন অভিনয়ের অনুমতি নিয়েছে? অনুমতি নিলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করা উচিত আর না নিলে আসিফের জবাবদিহি করা উচিত।

বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ড. মাহফুজুর রহমানের সমালোচনা করার মত উচ্চতায় সে এসেছে কিনা সন্দেহ আছে, অথচ আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান, খালিদ হাসান মিলু এমন নক্ষত্রদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে চুরির দায় চাপিয়ে দিল! সে কি নকল গান গায়নি? অবাক লেগেছে যে, রবীন্দ্রনাথকেও চোর বানিয়ে দিয়েছে আসিফ!

আসিফের পিতৃ পরিচয় অনেকেই জানেন। কুমিল্লার কুখ্যাত রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবর। কুমিল্লার কৃতী সন্তান ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, যতীন্দ ভদ্র, অতীন্দ্র ভদ্র, প্রসন্ন কুমার ভৌমিক, নিতাই সাহা, কেডি রায়, শিশিরেন্দ্র দাশগুপ্ত রানার হত্যাকাণ্ডের সাথে সে জড়িত ছিল। ১৯৭১ সালে কুমিল্লার ১০টি স্থানে হানাদার বাহিনীর আড্ডা ছিল, এর একটি আসিফদের বাসা। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দিন বীর প্রতীক এক ভিডিও বার্তায় আকবরের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের বোম্বিং করার কথা বলেছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর সহযোগি হিসেবে হত্যা, লুটতরাজ ও বিভিন্ন অপকর্মে সহযোগিতা করার অপরাধে ১৯৭২ সালে গঠিত কোলাবোরেট এ্যাক্টের অধীনে গঠিত স্পেশাল ট্রাইবু্নালে আসিফ আকবরের বাবা আলী আকবর এ্যাডভোকেটের বিরদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মহুকমার সাব ডিভিশনাল অফিসার বাদী হয়ে জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন। যার মামলা নং ০৮/৭২। এই মামলা্য় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।পরে ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমানের এক সামরিক ফরমানে কোলাবোরেট এ্যাক্ট অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল করে দিলে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে রাজাকার আলি আকবর ।

রাজাকারের ছেলেরা কি আলোর পথে আসতে পারে না? আসতে পারে কিনা এ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বাবার অপকর্ম স্বীকার এবং বাবার আদর্শ অস্বীকার করার মত সৎসাহস থাকতে হবে, এ ব্যাপারে দ্বিমত করার উপায় নেই। বাস্তবে এমন নীতিবোধ খুব বেশি কার্যকর দেখা যায় না। তাই কুখ্যাত রাজাকারের জন্য শোক প্রকাশ করে গান তৈরি হয় “রাজাকার নেই” আর সেই গান আমরা শুনে বাহবা দিই। দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে আমরা রোহিঙ্গাদের মতই বেঈমান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply