khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় আমরা খুশী ॥ ফখরুল

0 19

অনেক দিন পরে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন তিনি রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় আমরা খুশি। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। আর এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতাসহ যা যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কটকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন সরকার রাজনীতি করতে চায়। সেজন্যই তারা প্রস্তাব দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর বাংলাদেশের বিজিবি যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে। কিন্তু কোথায় এবং কার বিরুদ্ধে এ যৌথ অভিযান চালানো হবে? যাদেরকে হত্যা, ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে, যেখানে গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? পুরোপুরি নতজানু হয়ে গেলে ও নিজস্বতা না থাকলে এবং অন্যের ওপর নির্ভর করে চলতে থাকলে সাধারণত এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ফখরুল, বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্ব প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও সরকার এখনও দ্বিধাদ্বন্ধে রয়েছে। তবে দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেছেন। তিনি বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের এই গণহত্যার নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। সেই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারকে বলছি অবিলম্বে তারা যেন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বন্ধ করে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সরকারকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট, আপনারা সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পরও শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশকে অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চিয়তার দিকে টেলে দিচ্ছেন। দেশে আজ যত সংঘাত-সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে নির্বাচন। আশা করি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহায়ক সরকারের যে প্রস্তাব আমরা দিতে যাচ্ছি সে প্রস্তাব মোতাবেক একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। অন্যথায় ইতিহাস এবং জনগণের কাছে আপনারা দায়ী থাকবেন, জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।

যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকতউল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তজুল করিম বাদরু, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply


Hit Counter provided by shuttle service from lax