khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

ভার্জিনিয়ায় প্রয়াত কাজী আরিফ স্মরণে ভক্তদের প্রণতি

0 71

এ্যন্থনী পিউস গমেজ, ভার্জিনিয়া: গত ২৬শে আগষ্ট,২০১৭ রোজ রবিবার, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ভার্জিনিয়ার ষ্টার্লিং-এ অবস্থিত লাউডন সিনিয়র সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রয়াত আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান- “ কাজী আরিফ স্মরণে আমার প্রণতি”। আয়োজনে ছিলেন জনাব ইফতেখার আরিফ এবং সিলিকা কণা। অত্যন্ত চমৎকার আয়োজনে এবং নান্দনিক পরিবেশনার ছোঁয়ায় উপস্থাপিত এই অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন প্রবাসী সেইসব মানুষ যারা সাহিত্য ভালবাসেন, যারা কবিতা ভালবাসেন, যারা ভালবাসেন বাংলাদেশের প্রয়াত আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফকে-  শুধুই তার প্রতি অন্তরের গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানোর জন্য। বরেণ্য বাচীকশিল্পী কাজী আরিফ ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবার পরিচিত, সবার ভালবাসার, শ্রদ্ধাভাজন একজন মননশীল ব্যক্তিত্ব।

তিনি একাধারে ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আবৃত্তিকার, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক, অন্যদিকে পেশাগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত উচুমানের, সফল এবং দক্ষ একজন স্থপতি।  যে কাজী আরিফ একদা বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর সৃজনশীল প্রতিভার আলো ছড়িয়ে শিল্প সৃষ্টির আবেশে ছিল কবিতাপ্রেমীদের অঙ্গন জুড়ে, অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর হীম শীতল ছোঁয়ায় তিনি চলে গেছে ওপারের সীমানায়।  তার যাপিত জীবন এবং সৃষ্টির সম্ভার আজ শুধুই স্মৃতির এ্যলবাম। নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও আজও তিনি বেঁচে আছেন তার ভক্তদের হৃদয়ে তার সৃষ্টির সৌরভ নিয়ে, তার আলোকিত ব্যক্তিত্বের প্রভা ছড়িয়ে রেখে গেছেন তার সৃষ্টির স্বাক্ষর। এই আয়োজন ছিল তারই স্মরণে, তার চরণে ওয়াশিংটন প্রবাসী ভক্তদের প্রণতি।

অসংখ্য ভক্ত এবং গুনগ্রাহী রয়েছে তার বাংলাদেশে এবং প্রবাসে, রয়েছে এই ওয়াশিংটনেও। তাই তাদের ভালবাসার অঞ্জলী অর্পনের জন্য সবাই মিলে সাজিয়েছিল এই অনুষ্ঠানটি তাদের ভালবাসার মানুষটির জন্য।অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলিকা কণা। তিনি সবাইকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে প্রয়াত কাজী আরিফের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন এবং সবাইকে অনুষ্ঠান উপভোগ করার জন্য আহবান জানান।

কাজী আরিফের ভক্তদের অংশগ্রহনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির প্রথম পর্ব যেসব উপস্থাপনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল, তাহলঃ- কাজী আরিফের উপর সংগৃহীত ভিডিও চিত্র- “তুমি কি কেবলই ছবি?”- কাজী আরিফের জীবন, দেশপ্রেম এবং কর্মজীবনের উপর আলোকপাত, আলোচনা-পর্যালোচনা, আবৃত্তি ও কথোপকথন।- কাজী আরিফের উপর রচিত কবিতা আবৃত্তি (সরকার কবির উদ্দিন)।

অংশগ্রহনে ছিলেন- জনাব আনিস আহমেদ, সরকার কবির উদ্দিন, আসিফ এন্তাজ রবি এবং আনোয়ার ইকবাল।দ্বিতীয় পর্বে ছিল ‘মুক্ত কন্ঠ আবৃত্তি একাডেমি’র পরিবেশনা-  “আমার প্রাণের ‘পরে চলে গেলো কে”। তাদের আবৃত্তি ও গানের আবহে এবং পরিবেশনার ভিন্ন ব্যাঞ্জনায় আবিষ্ট ছিল শ্রোতা-দর্শকবৃন্দ। অংশগ্রহনে ছিলেনঃ মধুমিতা মৈত্র, সিলিকা কণা, অনুসূয়া এবং নূরজাহান মাহজাবীন, সাথে ছিল প্রয়াত কাজী আরিফের কন্ঠে ধারণকৃত আবৃত্তি।অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিল কাজী আরিফের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের উপর আলোকপাত- “ফুল  ফুটিয়ে গেল শত শত… একাত্তরের বীর সৈনিক কাজী আরিফ”। এপর্বে ছিল কাজী আরিফের উপর স্থিরচিত্র প্রদর্শনী এবং তার  কণ্ঠে ধারনকৃত আবৃত্তি- “নম নম নম…”। এছাড়া ছিল নাসিম সুলতানের কন্ঠে দেশাত্ববোধক গান- “ও আমার দেশের মাটি… “, ছিল দৈত্ব কন্ঠে  আবৃত্তি, আতিয়া মাহজাবিন ও এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের কন্ঠে- “বাংলাদেশ” এবং “রুপসী বাংলা”। জনাব  শামীম আহমেদ তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে প্রয়াত কাজী আরিফের সাথে বিগত বছরের অনুষ্ঠানের স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তার  ব্যক্তিত্বের ও প্রতিভার বিভিন্ন দিকের উপর আলোকপাত করেন।  জনাব রাশিদ হায়দারের কন্ঠে ছিল আবৃত্তি-  “যে তুমি ফোটাও ফুল”, মোহাম্মাদ নাকিব উদ্দীনের কন্ঠে ছিল  গান-  “কেন বলি সেরা”, সাথে অদিতি সাদিয়া রহমানের কন্ঠে ছিল একক আবৃত্তি- “প্রমত্ত আত্মাহুতি”।

এছাড়া ছিল নিউ ইয়র্ক থেকে আগত অতিথি বাচিক শিল্পী মিজানুর রহমান আবৃত্তি করেন সঞ্জীব চ্যাটার্জির   কবিতা-   “জিন্দাবাদ”। এপর্বে শেষ পরিবেশনা ছিল কাজী আরিফের কণ্ঠে ধারণকৃত আবৃত্তি:  “তুমি বাংলা ছাড়ো…”।অতঃপর অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে (৪র্থ পর্ব) পেশাগত জীবনে স্থপতি কাজী আরিফের উপর আলোকপাত করে বক্ত্যব্য রাখেন জনাব আনোয়ার ইকবাল, সাথে ছিল কাজী আরিফের উপর কিছু স্থির চিত্র প্রদর্শনী।অনুষ্ঠানের ৫ম পর্বে কবিতাপ্রেমী, আবৃত্তিকার কাজী আরিফের উপর আলোকপাত করা হয়। স্থির চিত্র প্রদর্শনীসহ পরিবেশিত হয় কাজী আরিফের কন্ঠে ধারণকৃত প্রেমের কবিতা আবৃত্তি। এছাড়া এ অংশ জুড়ে ছিল অদিতি সাদিয়া রহমান ও জাফর রহমানের দ্বৈতকন্ঠের চমৎকার আবৃত্তি- কবি নির্মলেন্দু গুণের “তুমি চলে যাচ্ছো”, যা সবাইকে মুগ্ধতার আবেশে নিয়ে যায় এক ভিন্ন জগতে। আরো আবৃত্তি করেন- প্রভাতী দাস (পরস্পর), এ,কে,এম আসাদুজ্জামান (ভালবাসা), সেমন্তী ওয়াহিদ কাজী আরিফের স্মৃতিচারণ করে অভিনয় করেন একটি নাট্যাংশের, যে নাটকটি নিউ ইয়র্কে মঞ্চায়িত হয়েছিল এবং  নাটকের মঞ্চ সজ্জায় ছিলেন স্বয়ং কাজী আরিফ। জনাব মাহবুব হাসান সালেহ- ডিসিএম, বাংলাদেশ দূতাবাস,ওয়াশিংটন ডিসি আবৃত্তি করেন তার নিজের লেখা কবিতা “অরণ্যে গ্রাস”, আতিয়া মাহজাবীন (ছন্নছাড়া), খান দীপু (শেষের কবিতা), জাফর রহমান (আগামী), আনিস আহমেদ আবৃত্তি করেন স্বরচিত কবিতা ‘এপার ওপার’, সাব্রিনা চৌধুরী ডনা ও শাহাদৎ সবুজ (কচ ও দেবযানী), রওশন আরা লিপি (পরিচয়) এবং এপর্বের শেষ আবৃত্তি ছিল কারী আরিফের কন্ঠে ধারণকৃত “মায়ের বুকে বিশ্রামের সরাইখানা”। সাথে ছিল গানের সুর লহরী- গান পরিবেশন করেন জনাব নাসিম সুলতান।

অনুষ্ঠানটির পরবর্তী পর্বে (৬ষ্ঠ পর্ব) ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জনাব কাফি। তিনি কাজী আরিফের লেখা “বাবা” থেকে পাঠ করেন। এছাড়া প্রয়াত কাজী আরিফের নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে অনুসূয়া তার বাবার উপর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে বাবাকে নিয়ে তার একান্ত ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও ভাবনার উপর  আলোকপাত করেন। বেদনাতুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন অনুসূয়া। এছাড়া অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে (৭ম পর্ব) সমাপনী কবিতা আবৃত্তি করেন জনাব খান দীপু- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা- “যদি আর বাঁশি না বাজে”। কবিতাটির শেষাংশ ছিল কাজী আরিফের কন্ঠে।সফলভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে কী-বোর্ড বাজিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মিঃ হিরণ চৌধুরী, শব্দ নিয়ন্ত্রন  ও আলোকসম্পাতে  ছিলেন মিঃ জামিল খান, ফটোগ্রাফীতে ছিলেন দেবাষীশ দাস এবং এ্যন্থনী পিউস গমেজ। ভিডিওগ্রাফীতে এ্যন্থনী পিউস গমেজ, রায়হান এলাহী এবং  আরিফুল ইসলাম।অতঃপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে এবং অংশগ্রহণকারী সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সবাই পা বাড়ায় যার যার গন্তব্যে, কিন্তু যেতে যেতে সবার মনের গভীরে তখনো হয়তোবা গুন গুন করছিল অনুষ্ঠানে পরিবেশিত কবিতার পংক্তিমালা, গানের সুর  এবং কাজী আরিফের দরাজ কন্ঠে ধারনকৃত আবৃত্তির অনুরণন!

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply