khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উদযাপিত। হলো একইদিনে

0 202

তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইয়র্কঃ

মহান আল্লাহতা’লার উদ্দেশে পশু কোরবানি দেয়ার মহিমান্বিত দিন। আরবি শব্দ ঈদএর অর্থ আনন্দ উৎসব এবং আযহা’র অর্থ পশু জবাই করা। মুসলমানদের জন্য ঈদুল আযহা একই সঙ্গে পশু কোরবানি দেয়ার এবং উৎসব করার দিন। কোরবানির উদ্দেশ্য আল্লাহতা’লার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোরবানি দেয়ার প্রথম নির্দেশ এসেছিল মুসলিম জাতির পিতা হজ্বরত ইবরাহিম (.)-এর কাছে।

তিনি আল্লাহকে বেশি ভালোবাসেন ও মান্য করেন, নাকি সন্তানের গুরুত্ব তাঁর কাছে বেশিসেটা পরীক্ষা করাই ছিল উদ্দেশ্য। এজন্য তাঁকে আদরের পুত্র ইসমাইল (.)-কে আল্লাহতা’লার উদ্দেশে কোরবানি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। নির্দেশ অনুযায়ী ইবরাহিম (.) প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, ইসমাইল (.)-ও সানন্দে সম্মত হয়েছিলেন। দেখে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন আল্লাহ। পুত্রের গলদেশে ছুরি চালানো শুরু করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইবরাহিম (.)-কে এই সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলা হয়েছিল, তিনি যেন ইসমাইল (.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানি দেন।সে অনুযায়ী পশুই কোরবানি দিয়েছিলেন হজ্বরত ইবরাহিম (.)। সেই থেকে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করে আসছেন। বিধানটি চূড়ান্ত হয়েছে শেষ রাসূল হজ্বরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। কুরবানীর ইতিহাস ততোটাই প্রাচীন যতোটা প্রাচীন মানব অথবা ধর্মের ইতিহাস। আল্লাহ পুরস্তির কুরবানী নামক এ মহান নিদর্শন মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত সকল শরীয়তেই কার্যকর ছিলো। সকল নবীর উম্মতকেই কুরবানী করতে হয়েছে। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের এ ছিল একটা অপরিহার্য অংশ। আল্লাহতায়ালার এ বিধান মানব জাতির সৃষ্টি লগ্ন থেকেই কার্যকর হয়ে আসছে।

আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের মুসলিম নরনারীগণ মেতে উঠেছে ঈদের আনন্দে। ধর্মীয় আমেজে ও উৎসব মুখর পরিবেশে নিউ ইয়র্ক সহ সমগ্র উওর আমেরিকায় শুক্রবার সকালে ঈদউলআযহা’র নামাজ অনুষ্ঠিত হলো। অধিকাংশ মুসলমানরা শুক্রবার দিন ঈদ উজ্জাপন করছেন।

এ উপলক্ষে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, এস্টোরিয়া, ওজনপার্ক, ম্যানহাটন, লংআইল্যান্ড ও নিউজার্সীর বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় নতুন পোশাক পরিহিত নতুন প্রজন্মের অভূত পূর্ব সম্মিলন। ঈদ জামাত গুলোতে ও নারী/পুরুষের সাথে নতুন প্রজন্মের অংশ গ্রহণ ছিল উল্লেখ করার মত ঘটনা।

প্রতিটি শহরে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাত গুলোতে উপচে পড়া মুসল্লীদের ভিড় উল্লেখ করার মত ঘটনা। নিউ ইয়র্কে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকা । এখানে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে উদ্যগে স্কুলের মাঠে নামাজে সেরকম লোক জামাতে হয় নাই। সকাল থেকেই হালকা হালকা ঠান্ডা ছিল। হালকা শীত থাকলেও ঈদ আনন্দে কোন ছেদ পড়তে দেখা যায়নি।

নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮.৩০টায় কুইন্সের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে জ্যামাইকা হাই স্কুল মাঠে। এখানে ৭ হাজারেরও বেশী নারীপুরুষ একসঙ্গে ঈদুল আযহা নামাজ আদায় করেন। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে আশেপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়।

জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন । ঈদের জামাতের আগে জেএমসি’র কর্মকর্তাদের মধ্যে জেএমসি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. এম বিল্লাহ ও সভাপতি খাজা মিজান হাসান এবং মূলধারার রাজনীতিকদের মধ্যেনিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রীন ও নিউইয়র্ক সিটির স্থানীয় সিটি কাউন্সিলম্যান ররি ল্যান্সম্যান বক্তব্য দেন। পরিচালনা করেন জেএমসি কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মনজুর আহমেদ চৌধুরী।

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের বড় ঈদের জামাত হয়েছে জামাইকা মুসলিম সেন্টারে। পুরো এলাকা ছিল মুসল্লিতে পরিপূর্ণ। জ্যামাইকা মুসলীম সেন্টারে। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কনসাল জেনারেল শামিম আহসান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম শাহিনসহ নিউ ইয়র্ক কমিউনিটির বহু খ্যাতিমান ব্যাক্তিবর্গ ঈদ জামাতে উপস্হিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দোয়ার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হল পবিত্র ঈদুল আযহা । জামায়াত শেষে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ও দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের হাফেজ মামুনুর রশীদ।

নিউ ইয়র্কের অন্যান্য বৃহৎ জামাত যেসব স্থানে অনুষ্ঠিত হয় সেগুলো হলোব্রুকলিনে চার্চম্যাকডোনাল্ড সংলগ্ন বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, জ্যাকসন হাইটসে ব্রডওয়ে এবং ৭৩স্ট্রিটে, এস্টোরিয়ার আলআমিন মসজিদের উদ্যোগে ৩৬ স্ট্রিটে, ব্রুকলিন বায়তুল জান্নাহ মসজিদের উদ্যোগে অ্যাভিনিউ সি’র উপর। ব্রুকলীনে সবচেয়ে বড় ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হয় ব্রুকলিন মুসলিম সেন্টারে। এছাড়া নিউজার্সি, পেনসেলভেনিয়া, কানেকটিকাট, বোস্টন, মেট্রো ওয়াশিংটন, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জেনিয়া, মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, লসএঞ্জেলেস, ফিনিক্স, টেক্সাস,মন্ট্রিয়েল, অটোয়া, হ্যামিল্টন, সাসকাচুন, ক্যালগেরী, এডমন্টন প্রভৃতি স্থান থেকেও বিপুল উৎসাহে ঈদ উদযাপনের ও বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্থানে বাংলাদেশী স্টাইলে গরু কোরবানী দেয়া হয়েছে সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। আবার অসংখ্য প্রবাসীরা কুরবানীর পশুর অর্ডার নিয়েছে বাংলাদেশী গ্রোসারিগুলোতে।

সপ্তাহান্তের লম্বা ছুটির দিন থাকায় অনেকেই সচ্ছন্দে ঈদ করেছেন আমেরিকায়। আবহাওয়া ভাল থাকায়ও প্রতিটি শহরে ঈদের আয়োজন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা গুলোতে বাংলাদেশের মতোই ছেলেমেয়েরা নতুন জামাকাপড় পরে ঘুড়ে বেড়ায়। বয়স্করা পরিচিত জনদের বাসায় বাসায় গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রতিটি পাড়াতেই নতুন কাপড় এবং মাথায় টুপি লাগিয়ে লোকজন পরিচিতদের বাসায় যাচ্ছেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। মহিলারা ও সর্ব শেষ ডিজাইনের পোশাক পরে বন্ধুবান্ধবী ও আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক সিটির বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা হয়েছে ব্যাচেলরদের ঈদের তৃপ্তি মেটাতে।ছবি নিহার সিদ্দিকি ও টনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply


Hit Counter provided by shuttle service from lax