khabor.com, KHABOR.COM, khabor, news, bangladesh, shongbad, খবর, সংবাদ, বাংলাদেশ, বার্তা, বাংলা

নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে কৌশল নির্ধারণ করছে আওয়ামী লীগ

0 31

ঢাকাঃ আগামী নির্বাচনে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিভাবে ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে সরকার ও দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপ্রপচার রুখতে কি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তাও ঠিক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দলের বেশ কয়েকটি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, নির্বাচনের আগে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এ মাধ্যম এখন রাজনীতি চর্চার একটি প্লাটফরম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আগে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মতামত জানাতে পারতেন।

এখন মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর নেয়া সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, সামাজিক মাধ্যমের দুইটি দিক রয়েছে। প্রথমত এ মাধ্যমে খুব দ্রুত অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। আবার যারা ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন তপ্ত করতে চান তারা এ মাধ্যম ব্যবহার করে সুফল পেতে পারেন। তাই নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কি ধরনের ভূমিকা রাখবে সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিরোধীরা যাতে এ মাধ্যম ব্যবহার করে খুব বেশি সুবিধা করতে না পারেন সেজন্য কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনযাত্রা থেকে শুরু করে আমাদের সমাজে গত কয়েক বছরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। এ মাধ্যমের নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এ মাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপ্রপ্রচার চালানো হয়। মানুষের চরিত্র হনন করা হয়। এখন এগুলো বন্ধ করা অত সহজ কাজ নয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোরও দায়-দায়িত্ব রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে তারাও কাজ করছে, সরকারও কাজ করছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রচারণা কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যেসব আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হবে বা যেসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হবে তা নিয়ে আমরা সোচ্চার থাকবো। আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারণাটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বিরূপ প্রচারণা হচ্ছে। লন্ডন থেকে একটি গোষ্ঠী ও বিএনপি-জামায়াত দেশের বাইরে ও দেশের ভেতর থেকেও এগুলো করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন প্রায় তিন কোটি মানুষ। এর মধ্যে ফেসবুকই ব্যবহার করেন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আগামী নির্বাচনে প্রচারযুদ্ধের মূল হাতিয়ার হতে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া। নির্বাচনে ফেসবুক, টুইটার থেকে শুরু করে সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রথম দিকে ব্যক্তিগতভাবে এসব ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়। এখন দলীয়ভাবে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। শুধু উদ্যোগ নয়, এজন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এমপিদের সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাতে কী কী প্রচার করতে হবে তাও বলে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা এখনো নিজেরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারেন না তাদের প্রয়োজনে স্টাফ নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রচারযুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমকে পেছনে ফেলে অনলাইনকে মূল হাতিয়ার হিসেবে নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনলাইন প্রচারণার কার্যকারিতা, সহজলভ্যতা এবং বিশ্বনেতাদের নির্বাচনী জয়ে এর ভূমিকা নিয়ে গবেষণার ফল বিবেচনা করে ডিজিটাল মিডিয়াকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অপপ্রচার মোকাবিলার পাশাপাশি সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে জোরদার করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রচারণা।

এরই অংশ হিসেবে, জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অনলাইন প্রচারণায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিদ্যমান অনলাইন মাধ্যমে সক্রিয়দের কাতারে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। ৭ই মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন প্রচার চালানোর ওপর জোর দেয়ার পর এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের ১৩৪ জন এমপি। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এক কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের এ প্রশিক্ষণ দেয়। এতে ‘সরকারবিরোধী অপপ্রচারের’ জবাব দিতে আওয়ামী লীগের এমপিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয়।

কর্মশালায় এমপিদের নামে খোলা অবৈধ ফেসবুক পেইজ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে পরিচালনা করা, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের নিয়মাবলি, অ্যাকাউন্ট ভেরিফাইড করার পদ্ধতি এবং নিয়মিত উন্নয়নমূলক কাজের কথা প্রচার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় এমপিদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে শেখানো হয়। এই মাধ্যম ব্যবহার করে কিভাবে সরকারের গ্রহণ করা গত ৭ বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা ছড়িয়ে দেয়া যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave A Reply