Share

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভায় প্রবাসের বাংলা সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্বকে আরো জোরদার করার লক্ষ্যে প্রবাসী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক ফোরাম গঠনের আহ্বান জানালেন উত্তর আমেরিকা সফররত লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা’র সম্পাদক মোহাম্মদ এমাদুর চৌধুরী। তার এই আহ্বানের সাথে ঐক্যমত পোষণ করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকগণ বলেন, পেশাদার সাংবাদিকরা মিডিয়ার মালিক/সম্পাদক হলেই অপ সাংবাদিকতা রোধ সহ বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে মর্যাদাসম্পন্ন সাংবাদিকতা।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের মাতা সৈয়দা হাসিনা খাতুনের মৃত্যুতে গত ১১ আগষ্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে (দেশবাংলা/বাংলা টাইমস মিলনায়তন) আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব শিবলী চৌধুরী কায়েস। খবর ইউএনএ’র।

সভার শুরুতে প্রবীন সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের মায়ের ইন্তেকালে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের। এরপর মরহুমার বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাব সদস্য ও ইয়ক বাংলা সম্পাদক রশীদ আহমেদ। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক-লন্ডন-কানাডা’র বাংলা মিডিয়া ও সাংবাদিকতা বিষয়ে সংক্ষিপ্তাকারে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অন্যতম উপদেষ্টা মঈনুদ্দীন নাসের, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহের, সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাবেক সহ সভাপতি রিমন ইসলাম এবং বিশিষ্ট লেখক এবিএম সালেউদ্দীন।সভায় আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক আজকাল-এর নির্বাহী সম্পাদক শওকত ওসমান রচি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সভায় অন্যানের মধ্যে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মোমিন মজুমদার, আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাপ্তাহিক বাংলা টাইমস-এর নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর সরকার, সাপ্তাহিক আজকাল-এর ফটো সাংবাদিক এ হাই স্বপন এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট খন্দকার ফরহাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি সাংবাদিক মোহাম্মদ এমাদুর চৌধুরী লন্ডনে বাংলা সাংবাদিকতার ইতিহাস সংক্ষেপে তুরে ধরে বরেন, ২০১৬ সালে আমরা যুক্তরাজ্যে বাংলা সাংবাদিকতার ১০০ বছর উৎসব উদযাপন করেছি। ১৯১৬ সালে লন্ড থেকে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন, শুধু বাংলা মিডিয়া নয় বিশ্বের সকল সংবাদপত্রই এখন নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। সংবাদপত্রগুলোর প্রতিযোগী হয়ে উঠছে অনলাইন মিডিয়া। তিনি বরেন, ১৯৯৩ সালে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের জন্ম হয়। বর্তমানে এই প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৩২৭ জন। তিনি বলেন লন্ডন, নিউইয়র্ক আর কানাডার বাংলা মিডিয়াগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মিলেমিলে কাজ করতে পারলে কমিউনিটিকে সঠিক তথ্য আর দিক নির্দেশনা দিয়ে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। কমিউনিটির স্বার্থ সকল মিডিয়ার কন্ঠস্বর এক থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, তাহলেই মিডিয়াগুলো যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে স্বক্ষম হবে। তিনি কমিউনিটির মিডিয়াগুলোর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় লন্ডন, নিউইয়র্ক ও টরন্টো (কানাডা) সহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ‘চার্টার ফোরাম বা ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এজন্য সংশ্লিস্ট প্রেসক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা উদ্যোগ নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে মাহবুবুর রহমান তার মরহুম মাতার স্মৃতিচারণ এবং দোয়া মাহফিল আয়োজনের জন্য প্রেসক্লাব কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যকার সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি জোরদার হবে।মঈনুদ্দীন নাসের বলেন, সাংবাদিকতা একটি আকর্ষণীয় পেশা। অনলাইনের যুগে সংবাদপত্র টিকে থাকার সংগ্রামের মুখোমুখী হয়ে পড়ছে। একদিন হয়তো সংবাদপত্র থাকবে না, কিন্তু সাংবাদিক থাকবেন। আর বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা ছাড়া পেশাদারিত্ব সাংবাদিকতা হবে না।

নাজমুল আহসান বলেন, পৃথিবীতে সাংবাদিকতা আর বিচারকার্য বিবেক নির্ভর পেশা। তাই সংশ্লিষ্টদের জেনেশুনেই এই দুই পেশায় আসা উচিৎ। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির কলাণ ও বিকাশে কমিউনিটি মিডিয়াগুরোর ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু অপ্রীয় হলেও দু:খ লাগে, কষ্ট লাগে যখন প্রকৃত অর্থে মিডিয়াগুলো আর সাংবাদিকরা যথাযথ সম্মান পান না। এজন্য তিনি অসাংবাদিক আর অপেশাদার মিডিয়াগুলোর অপেশাদারীত্বকেই দায়ী করেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় সঠিক তথ্যকে সঠিকভাবেই পাঠকের কাছে তুলে ধরা উচিৎ। ব্যবসায়িক স্বার্থে এক মিডিয়ার খবরকে অন্য মিডিয়ায় ভিন্নভাবে পরিবেশন সাংবাদিকতা নয়। উন্নতদেশগুলোর মিডিয়াগুলোতে এমনটি দেখা যায় না।

আবু তাহের বলেন, সততা, দায়িত্বশীলতা, কমিটমেন্ট আর পেশাদারিত্ব ছাড়া প্রকৃত সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। কমিউনিটির মিডিয়াগুলোতে এসবের অভাবেই প্রবাসের মিডিয়াগুলো আর সাংবাদিকরা যথাযত সম্মান পাচ্ছেন না। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় ব্যবসায়িক মনোভাবের চেয়ে পেশাদারিত্ব মনোভাবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। মাহফুজুর রহমান বলেন, মিডিয়ার মালিক হওয়া আর পেশাদার সাংবাদিক/সম্পাদক হওয়া দুটো ভিন্ন জিনিস। অপেশাদাররা মিডিয়ার মালিক হওয়াতেই কমিউনিটির মিডিয়াগুরো নানা সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছে। সাংবাদিকতাও নানা সমস্যার মধ্যে চলছে। তিনি বলেন, প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদেরই মিডিয়ার মালিক, সম্পাদক হওয়া উচিৎ।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ওয়াজেদ এ খান সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের মাতার ইন্তেকালে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের বিপদ-আপদে পাশে থাকা সহ পেশাদারিত্ব নিয়ে আলোচনা, মতবিনিময় প্রভৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে প্রেসক্লাব অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি প্রেসক্লাবের আগামী দিনের কর্মকান্ডে সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা কেেরন।

Print Friendly, PDF & Email
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
35Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax