Share

কাঠমান্ডু (নেপাল) : ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহীদুল ইসলাম তিন বছরের জন্য বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন (বিমস্টেক)-এর পরবর্তী মহাসচিব নিযুক্ত হয়েছেন।১০-১১ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত বিমস্টেক মন্ত্রিপর্যায়ের ১৫তম সভায় শহীদুল ইসলামকে পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।এর আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভায় মহাসচিব হিসেবে শহীদুল ইসলামের নিয়োগের সুপারিশের অনুমোদন দেয়া হয়।১৫তম বিমস্টেক মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিমস্টেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণ বাহাদুর মহরা।নেপালের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দিউবা সভার উদ্বোধন করেন এবং বিমস্টেক সদস্য দেশসমূহের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা দিউবার সঙ্গে যৌথভাবে সাক্ষাৎ করে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বিমস্টেক দেশসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার অন্যান্য সম্ভাবনার দিকগুলো খুঁজে দেখার পাশাপাশি যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিউনপো দামচো দর্জি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অংশ নেন।তিন বছরেরও বেশি সময় পর বিমস্টেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহযোগিতার চৌদ্দটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং ভারতের গোয়ায় ২০১৬ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস-বিমস্টেক আউটরিচ সম্মেলনের পাশাপাশি বিমস্টেক নেতৃবৃন্দের বৈঠকের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সংস্থাটির অতীতের অর্জন ও প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনা এবং বিমস্টেককে একবিংশ শতাব্দির অন্যতম গতিশীল আঞ্চলিক সংগঠনে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৌশল পুননির্ধারনের আহবান জানান।

তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বিমস্টেক মুক্ত বানিজ্য অঞ্চল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সম্পর্কিত আলোচনা সমাপ্ত করার আহবান জানান।তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আইসিটি খাত, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ‘ব্লু ইকোনমি’ খাতে সহযোগিতার উপর গূরুত্বারোপ করেন। তিনি বিমস্টেক-এর সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে গতি আনতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান।বাংলাদেশসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ২০১৭ সালে এবং এর পূর্বে গৃহিত তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং বিমস্টেক সংক্রান্ত কর্মসূচি সভায় তুলে ধরেন।বিমস্টেক পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা সংস্থাটির উদ্যোগে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং বিমস্টেক নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা সমূহ বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রীরা খাত ভিত্তিক সহযোগিতা, বিশেষত বানিজ্য, যোগাযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানী, দারিদ্র বিমোচন এবং সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ দমন এবং ইতিমধ্যে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের ব্যাপারে সম্মত হন।রীতি অনুযায়ি, সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে (এসওএম) মহাসচিব নিয়োগসহ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য অনেকগুলো এজেন্ডা যাচাইবাছাই, বিবেচনা ও সুপারিশের জন্য গৃহিত হয়। এসওএম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহীদুল হক।উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষনার মাধ্যমে বিমস্টেক গঠিত হয়। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড।

Print Friendly, PDF & Email
Share
 
 

0 Comments

You can be the first one to leave a comment.

Leave a Comment

 




 

*

 
 
37Total Views
Share
Share

Hit Counter provided by shuttle service from lax